নিজাম উদ্দীন সালেহ
এক দেশ, দুই আবহাওয়া।
আজ সোমবার (২৬ অক্টোবর) সকাল ৯টায় পঞ্চগড়ের তেঁতুলিয়ায় সর্বনিম্ন তাপমাত্রা নেমেছিলো ১৬.১ ডিগ্রি সেলসিয়াসে। গতকাল ছিল ১৭ ডিগ্রি। একদিনে কমেছে প্রায় ১ ডিগ্রি। বাতাসের আর্দ্রতা ৯০%। সন্ধ্যার পর থেকেই হিমেল হাওয়া, ভোরে ঘন কুয়াশায় ঢেকে যাচ্ছে হাইওয়ে। গাড়িগুলো হেডলাইট জ্বালিয়ে চলছে। তেঁতুলিয়া আবহাওয়া অফিসের জিতেন্দ্র নাথ রায় বলছেন, “সামনে আরও কমবে, শীতের অনুভূতি বাড়বে।” অথচ একই সময়ে ৪০০ কিলোমিটার দক্ষিণে সিলেটে?
দুপুর ২টায় তাপমাত্রা ৩৩ ডিগ্রি। আর্দ্রতায় ভ্যাপসা গরম। বাসায় ফ্যান ফুল স্পিডে, অফিস-মার্কেটে এসি পূর্ণ তেজে চলছে। রাতে ঘুমাতে গেলেও ফ্যান ছাড়া উপায় নেই।
কেন এই পার্থক্য?
পঞ্চগড় হলো হিমালয়ের কন্যা। হিমালয় থেকে নেমে আসা ঠান্ডা বাতাস সরাসরি ওখানে ধাক্কা দেয়। অক্টোবরের শেষেই ওখানে শীত নামে। আর সিলেটে এখনো বর্ষার জলীয় বাষ্প আটকে আছে, মেঘালয় থেকে গরম বাতাস ঢুকছে।
স্থানীয়রা বলছেন, পঞ্চগড়ে দিনে রোদ থাকলেও সন্ধ্যা হলেই বদলে যায় আবহাওয়া। লেপ-কম্বল বের করতে শুরু করেছে মানুষ। আরশ সিলেটে এখনো শার্ট পাঞ্জাবি লুঙ্গি আর ফ্রিজের ঠান্ডা পানি।
অবশ্য আবহাওয়া অধিদপ্তর বলছে, আগামী ৩-৪ দিনে সিলেটেও রাতের তাপমাত্রা ২-৩ ডিগ্রি কমবে। তবে পঞ্চগড়ের মতো শীত আসতে এখনো ১৫-২০ দিন বাকি। আজ ভোরে
সিলেটে ফ্যানের নিচে বসে পাঠক যখন এই লেখা পড়েছেন, তখন পঞ্চগড়ের একজন কৃষককে কুয়াশার মধ্যে চাদর মুড়ি দিয়ে হাঁটতে হয়েছে, একই বাংলাদেশ, দুই রকম সকাল।
