নিজাম উদ্দীন সালেহ

দরগাহ গেট থেকে কিছু দূরে চন্দনটুলা যাওয়ার রাস্তার উত্তর দিকে ফুটপাতের ওপর একটি ছোট মাজার। এই মাজারের নাম লোকমুখে মিয়াধন শাহ বা মিয়াঁ চান্দ শাহের মাজার।

কোনো বড় ইতিহাস বইয়ের ৩৬০ আউলিয়ার তালিকায় তাঁর নাম নেই। এটা হলো, দরগাহ এলাকার খাদিম বা রাস্তা পাশের মাজার, যা সিলেটে অনেক আছে।

দরগাহ গেটের আশেপাশে এরকম অনেকগুলো ছোট মাজার আছে। চন্দনটুলা, দরগাহ গেট, নাইওরপুল, চৌহাট্টা এই রাস্তাগুলোর ফুটপাতে বেশিরভাগই হযরত শাহজালাল (রঃ) এর খাদিম, লঙ্গরখানার খাদেম বা দরগাহের পুরোনো মোতাওয়াল্লীর কবর। তাদের আসল নাম ইতিহাসে লেখা নেই, মানুষ আদর করে মিয়াধন, মিয়া চাঁন্দ, লাল শাহ, কালা শাহ বলে ডাকে।

হযরত মিয়াধন শাহ (রহঃ) এর মাজারের গায়ে লেখাটা মুছে গেছে, তবুও নিচে অস্পষ্ট দেখা যায়, “হযরত শাহ মিয়াধন শাহ (রহঃ)”। মাজারটি দরগাহ গেটের পূর্ব দিকে চন্দনটুলা যাওয়ার গলির উত্তরে ফুটপাতের ওপর, প্লাস্টিকের দোকানগুলোর সামনে।

এই মাজারগুলো সিলেটে রাস্তার পাশের মাজার বা রাস্তার ওলী নামে পরিচিত। বড়ো ৩৬০ আউলিয়ার তালিকায় এনার নাম নেই, কিন্তু এলাকার মানুষের কাছে অনেক সম্মানিত।

স্থানীয়রা বলেন, উনি ছিলেন শাহজালাল (রহঃ) দরগাহের একজন পুরনো খাদেম। সারা জীবন দরগাহের আশেপাশে থেকেছেন, মানুষকে সাহায্য করেছেন। ওখানেই ইন্তেকাল করায় মানুষ ভালোবেসে ওই ফুটপাতেই দাফন করে ছোট করে পাকা করে দিয়েছে। সবুজ টাইলস, সাদা টাইলসের এই ডিজাইনটা গত ১০-১৫ বছরে নতুন করে করা হয়েছে।

সিলেট নগরীর বিভিন্ন এলাকায় এরকম প্রায় ৩০-৪০টা রাস্তার পাশের মাজার আছে। অনেক দোকানদার সকালে দোকান খুলে এখানে আগরবাতি দেয়, এটা সিলেটের একটা ঐতিহ্য হয়ে গেছে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *