
সুনামগঞ্জ ও হবিগঞ্জের বিস্তীর্ণ হাওর এলাকায় কালবৈশাখী ঝড় ও বজ্রপাতে ৬ জনের মৃত্যু হয়েছে। শনিবার (১৮ এপ্রিল) দুপুরে পৃথক ঘটনায় সুনামগঞ্জের চার উপজেলা ও হবিগঞ্জের নবীগঞ্জে এ দুর্ঘটনা ঘটে।
সুনামগঞ্জের তাহিরপুর, জামালগঞ্জ, ধর্মপাশা ও দিরাই এবং হবিগঞ্জের নবীগঞ্জ উপজেলার বিভিন্ন হাওরে ধান কাটার সময় বজ্রপাতে এসব প্রাণহানির ঘটনা ঘটে। নিহতরা সবাই হাওরে কাজ করতে গিয়ে বজ্রাঘাতের শিকার হন।
নিহতরা হলেন—ধর্মপাশা উপজেলার হাবিবুর রহমান (২৪) ও রহমত উল্লাহ (১৩), তাহিরপুর উপজেলার আবুল কালাম (২৮), জামালগঞ্জ উপজেলার নাজমুল হোসেন (২৬), দিরাই উপজেলার লিটন মিয়া (৩৮) এবং হবিগঞ্জের নবীগঞ্জ উপজেলার সুনাম উদ্দিন (৬০)।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, শনিবার দুপুরে হাওরে ধান কাটার সময় হঠাৎ আকাশ মেঘে ঢেকে যায় এবং দমকা হাওয়ার সঙ্গে বৃষ্টি শুরু হয়। এ সময় বজ্রপাত হলে মাঠেই লুটিয়ে পড়েন কয়েকজন শ্রমিক। পরে স্থানীয়রা উদ্ধার করে বিভিন্ন হাসপাতালে নিয়ে গেলে চিকিৎসকেরা তাদের মৃত ঘোষণা করেন।
তাহিরপুর উপজেলার মাটিয়ান হাওরে বজ্রাঘাতে আহত হন আবুল কালাম। তাকে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হলে চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন বলে জানান তাহিরপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আমিনুল ইসলাম।
জামালগঞ্জ উপজেলার পাগনার হাওরে ধান কাটার সময় বজ্রপাতে নিহত হন নাজমুল হোসেন। তিনি চানপুর গ্রামের বাসিন্দা। এ ঘটনায় আরও একজন আহত হয়েছেন বলে জানান থানার ওসি বন্দে আলী।
ধর্মপাশা উপজেলায় পৃথক দুটি ঘটনায় নিহত হন হাবিবুর রহমান ও রহমত উল্লাহ। হাবিবুর রহমান পাইকুরাটি ইউনিয়নের বড়ইহাটি গ্রামের বাসিন্দা এবং স্থানীয় একটি কলেজের শিক্ষার্থী ছিলেন। অপরদিকে রহমত উল্লাহ জয়শ্রী ইউনিয়নের সরস্বতীপুর গ্রামের বাসিন্দা।
স্থানীয়দের তথ্য অনুযায়ী, হাবিবুর রহমান চাচার সঙ্গে হাওরে ধান কাটতে গিয়ে বজ্রাঘাতে আহত হন। হাসপাতালে নেওয়ার পথে তাঁর মৃত্যু হয়। অন্য ঘটনায় জয়শ্রী ইউনিয়নে বজ্রপাতে আহত তিনজনের মধ্যে রহমত উল্লাহকে চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন।
দিরাই উপজেলার কালিয়াগোটা হাওরে ধান কাটার সময় বজ্রপাতে গুরুতর আহত হন লিটন মিয়া। পরে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হলে চিকিৎসক তাঁকে মৃত ঘোষণা করেন।
এদিকে হবিগঞ্জের নবীগঞ্জ উপজেলার মমিনা হাওরে ধান কাটতে গিয়ে বজ্রপাতে সুনাম উদ্দিন নামে এক কৃষকের মৃত্যু হয়েছে। তিনি রামপুর গ্রামের বাসিন্দা। স্থানীয়রা জানান, ঘটনাস্থলেই তাঁর মৃত্যু হয়।
সংশ্লিষ্ট থানার কর্মকর্তারা এসব মৃত্যুর ঘটনা নিশ্চিত করেছেন এবং আইনি প্রক্রিয়া শেষে মরদেহ স্বজনদের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন।
হাওর অঞ্চলে প্রতি বছরই বজ্রপাতে হতাহতের ঘটনা ঘটে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, খোলা মাঠ বা হাওরে কাজ করার সময় আবহাওয়ার পূর্বাভাস জানা এবং দ্রুত নিরাপদ আশ্রয়ে যাওয়ার মাধ্যমে এ ধরনের দুর্ঘটনা এড়ানো সম্ভব। তবে জীবিকার তাগিদে অনেক ক্ষেত্রেই শ্রমিকদের ঝুঁকি নিয়েই কাজ করতে হয়।