সুনামগঞ্জের মধ্যনগরে নামজারি করে দেওয়ার বিনিময়ে ৫০ হাজার টাকা ঘুষ দাবির অভিযোগের সরকারি শুনানির আগেই অভিযোগকারীকে কৌশলে ডেকে এনে চাপ ও ভয়ভীতি প্রদর্শনের অভিযোগ উঠেছে। মধ্যনগর ইউনিয়ন ভূমি অফিসের উপসহকারী ভূমি কর্মকর্তা গোলাম সারোয়ারের বিরুদ্ধে এ অভিযোগ উঠেছে।
অভিযোগকারী বিশ্বজিৎ সরকারকে শরীফ আহমেদের মাধ্যমে মধ্যনগরে ডেকে আনা হয় বলে অভিযোগ রয়েছে।
আগামী ৭ সেপ্টেম্বর অভিযোগটির প্রশাসনিক শুনানির দিন নির্ধারণ করা হয়েছে। কিন্তু শুনানির আগেই অভিযুক্ত কর্মকর্তার সঙ্গে অভিযোগকারীর কথোপকথনের একটি অডিও রেকর্ড এই প্রতিনিধির হাতে এসেছে।
অডিওটি শুনে পাওয়া বক্তব্যে অভিযোগকারীকে মানসিক চাপে রাখা, আইনি জটিলতার ভয় দেখানো এবং মূল অভিযোগের বিষয়টি ভিন্নখাতে প্রবাহিত করার চেষ্টা করা হয়েছে বলে অভিযোগকারী পক্ষের দাবি। তবে অডিও রেকর্ডটির সত্যতা স্বাধীনভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়নি।
কথোপকথনে বিশ্বজিৎ সরকার একই দলিলের ভিত্তিতে তার আপন বড় ভাইয়ের নামজারি মঞ্জুর হওয়ার বিষয়টি উল্লেখ করলে গোলাম সারোয়ারকে বলতে শোনা যায়, বিষয়টি তার ভুলে হয়েছে। একপর্যায়ে তাকে বলতে শোনা যায়, “আপনার সবগুলো দলিল বাতিল করে দিবো।”
অডিওর অন্য অংশে তিনি ইউএনওর সঙ্গে কথা বলার প্রসঙ্গ তুলে বলেন, “আমি ইউএনও স্যারের সাথে কথা বলেছি। ইউএনও স্যারের নির্দেশ, যারা জড়িত সবকটা খতিয়ানের মালিকের নামে মামলা দিয়ে দেন।”
তবে একই কথোপকথনে তাকে আবার বলতে শোনা যায়, খতিয়ানের মালিকের কোনো দোষ নেই; সব দায় দলিল লেখক ও সাব-রেজিস্ট্রারের।
তিনি বলেন, “হের লগে আমার কোনো শত্রুতা নেই। আর শত্রুতা সাব-রেজিস্ট্রারের সাথে।”
কথোপকথনে মেহেদী হাসান মুকুটকে গাছের সঙ্গে বেঁধে মারধরের অভিযোগের প্রসঙ্গও আসে।
এ বিষয়ে গোলাম সারোয়ারকে বলতে শোনা যায়, “মুকুটের অভিযোগ আমি স্বীকার করলাম। তবে মুকুট এক বছর আগে কেন এই অভিযোগ করে নাই?” তার দাবি, এর পেছনে দলিল লেখক ও সাব-রেজিস্ট্রারের ইন্ধন রয়েছে।
অভিযোগকারী বিশ্বজিৎ সরকারকে উদ্দেশ করে তাকে বলতে শোনা যায়, “আপনি বিপদে পড়বেন। আমার ভাই সুপ্রিম কোর্টের অ্যাডভোকেট। ৭ তারিখের শুনানিটা যদি মিথ্যা প্রমাণিত হয়… আমি উকিল নোটিশ পাঠাবো। ঢাকায় যাইয়া হাজিরা দিবে। ওইখানে এরেস্টের ব্যবস্থা আমি করবো।”
ভূমি উপসহকারী কর্মকর্তা গোলাম সরোয়ার এ অডিওর সত্যতা স্বীকার করে বলেন, “৭তারিখের মামলাটা যদি মিথ্যা প্রমাণিত হয় তবে আমি আইনানুগ ব্যবস্থা নেয়ার কথা বলেছি”।
এসব বক্তব্যের পর প্রশ্ন উঠেছে, সরকারি শুনানির আগেই অভিযোগকারীকে কেন ডেকে আনা হয়েছিল এবং তাকে কোনো ধরনের চাপ প্রয়োগ করা হয়েছিল কি না।
এ বিষয়ে ইউএনও জনি রায় মামলা করার বিষয়টি অস্বীকার করে বলেন, “আমি উনাদের শুনানির জন্য ৭ সেপ্টেম্বর তারিখ নির্ধারণ করেছি। উনাদের বলার কিছু থাকলে ওই দিন বলবেন।”
অভিযোগকারী পক্ষ জানিয়েছে, শুনানিতে তারা ঘুষ দাবির মূল অভিযোগের পাশাপাশি ভয়ভীতি ও চাপ প্রয়োগের অভিযোগ এবং অডিও রেকর্ড কর্তৃপক্ষের সামনে উপস্থাপন করবেন।



