আমরা মুখোমুখি বসি, অথচ অনন্তের শূন্যতায় ঘূর্ণায়মান আমাদের প্রাণ। অনুভূতির সমস্ত সময়জুড়ে মহাকালীয় মায়া। কাল-মহাকালতক বিছানো আমাদের উড়ুউড়ু মন।
আমাদের চোখে যে আলো জ্বলে, তা বহমান প্রাচীন এক স্রোতের, জীবন যেখানে একই সিন্ধুর বিন্দু। আমরা আলাদা নই—আমাদের অনুভব, আশা-আকাঙ্ক্ষা, স্থিরতা-অস্থিরতা—সবই এক হার্দিক সান্নিধ্যের স্বপ্নে নিবেদিত। আমাদের হাসি, কান্না, আনন্দ-বেদনা, নিঃশব্দ শ্বাস, সবই তার উদ্বৃতি, তার ভাষা।
জমিনের বুকে আমাদের যত ছুটোছুটি, দৌঁড়ঝাপ—তা আমাদেরি স্মারক। আমরা পাশাপাশি হাঁটি, মুখোমুখি দাঁড়াই, সংঘাতে জড়াই, গভীর মমতায় দু’হাত বাড়াই—সবাই এক। অশান্ত ঢেউ যখন প্রবল হুঙ্কারে বুকের ওপর আছড়ে পড়ে, আমরা তখনো থামি না— আরও তীব্রতায় নিজেদের সমর্পণ করি।
একই স্রোত, দৃষ্টি, দিগন্তরেখাজুড়ে ওড়াউড়ি, মুখোমুখি, চোখাচোখি, মায়াভরা হাসাহাসি—এ কেবল দৃশ্য নয়; চিরন্তন যাত্রার এক অনুস্মৃতি মাত্র।
আমাদের বুকের হাহাকার—তা যেন সুদূরের কোনো ধ্বনি। রক্তের গন্ধ, বারুদের ঝাঁঝ, কিংবা যুদ্ধের উত্তাপ—এসবের মধ্যেই আমরা স্বপ্ন ওড়াই, দেখি, সে স্বপ্নের ভেতর ছিঁড়ে ছুড়ে চিৎকার করি—একই আহ্বানে মিলন মিলন বলে চেঁচাই। আলো এবং অন্ধকারের বজ্রধ্বনিতে, জবানের সিঞ্চিত শব্দের শক্তিযুগে কোরাস গাই; মিলন মিলন মিলন, মুক্তি মুক্তি মুক্তি মুক্তি।
কবি ও লেখক
সরওয়ার ফারুকী
২৮ ভাদ্র, কানাইঘাট সিলেট।



