আফজাল হোসেন রুমেল:
মৌলভীবাজারের বড়লেখা উপজেলার মাধব ছড়ায় ক্ষতিকর কীটনাশকজাতীয় রাসায়নিক প্রয়োগ করে মাছ শিকারের অভিযোগ উঠেছে। স্থানীয়দের দাবি, রাসায়নিক প্রয়োগের পর ছড়ার পানিতে পুটি, টেংরা, বোয়ালসহ বিভিন্ন প্রজাতির দেশীয় মাছ, মাছের পোনা, কাঁকড়া ও অন্যান্য জলজ প্রাণী মারা যাচ্ছে। ছড়ার পানি হাকালুকি হাওরে গিয়ে মেশায় এর প্রভাবে দেশের অন্যতম বৃহৎ এ জলাভূমির জীববৈচিত্র্যও ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার আশঙ্কা করছেন তাঁরা।
এ ঘটনায় প্রতিকার এবং জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার দাবিতে সোমবার (১৪ সেপ্টেম্বর) বড়লেখা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার (ইউএনও) কাছে লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন স্থানীয় ১২ জন বাসিন্দা।
অভিযোগে বলা হয়, গত ৯ সেপ্টেম্বর কয়েকজন অসাধু ব্যক্তি মাধব ছড়ার পানিতে ক্ষতিকর কীটনাশকজাতীয় রাসায়নিক প্রয়োগ করে মাছ শিকার করেন। এতে ছড়ার পানিতে থাকা পুটি, টেংরা, বোয়ালসহ বিভিন্ন দেশীয় মাছ, মাছের পোনা ও অন্যান্য জলজ প্রাণী মারা যায়। পরে পানিতে মরা মাছ ভেসে উঠতে দেখা যায় বলেও অভিযোগকারীরা জানান।
স্থানীয় বাসিন্দা হারুন আহমদ, হামিদ আহমদ, মাসুক আহমদ ও রুবেল আহমদ বলেন, মাধব গাঙ্গ (ছড়া) স্থানীয় মানুষের দৈনন্দিন জীবন, কৃষিকাজ ও প্রাকৃতিক মৎস্যসম্পদের গুরুত্বপূর্ণ একটি উৎস। সেখানে রাসায়নিক প্রয়োগ করে মাছ ধরার কারণে শুধু মাছ নয়, ব্যাঙ, সাপ, কাঁকড়া ও বিভিন্ন ক্ষুদ্র জলজ প্রাণীরও ক্ষতি হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।
তাঁদের দাবি, মাধব ছড়ার পানি প্রবাহিত হয়ে হাকালুকি হাওরে গিয়ে মিশেছে। ফলে ছড়ায় ব্যবহৃত রাসায়নিক পানির সঙ্গে হাওরের জলজ পরিবেশে পৌঁছালে সেখানকার মাছ, পোনা ও অন্যান্য জলজ প্রাণীর ওপরও বিরূপ প্রভাব পড়তে পারে।
অভিযোগকারীরা বলেন, বিষয়টি দ্রুত তদন্ত করে রাসায়নিক প্রয়োগের সঙ্গে জড়িতদের শনাক্ত করা প্রয়োজন। একই সঙ্গে মাধব ছড়ার জলজ পরিবেশ ও হাকালুকি হাওরের জীববৈচিত্র্য রক্ষায় প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানান তাঁরা।
অভিযোগপত্রে দক্ষিণভাগ দক্ষিণ ইউনিয়নের ৯ নম্বর ওয়ার্ড বিএনপির সভাপতি হারুনুর রসিদ, বীর মুক্তিযোদ্ধা মো. আব্দুল ফাত্তাহ, মনির উদ্দিন ও হামিদ আহমদসহ স্থানীয় ১২ জন বাসিন্দা স্বাক্ষর করেছেন।
এ বিষয়ে বুধবার (১৬ সেপ্টেম্বর) বড়লেখা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মাহবুব আলম মাহবুব বলেছেন, লিখিত একটি অভিযোগ পেয়েছি। অভিযোগটি তদন্তের জন্য উপজেলা সিনিয়র মৎস্য কর্মকর্তাকে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে।
উপজেলা সিনিয়র মৎস্য কর্মকর্তা মিসবাহ উদ্দিন আফজল জানালেন, আমি বর্তমানে ছুটিতে আছি। কর্মস্থলে ফিরে ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে তদন্ত প্রতিবেদন জমা দেব।



