আজ সকালে রায়নগর দর্জিবন্দে বড় বানরের হামলা: এক বাসায় আলু-চাল সাবাড়, অন্য বাসায় কলার ছড়া লুট

আজ সকালে রায়নগর দর্জিবন্দে বড় বানরের হামলা: এক বাসায় আলু-চাল সাবাড়, অন্য বাসায় কলার ছড়া লুট

সিলেট নগরীর রায়নগর দর্জিবন্দে আজ সকালে আবারও বানরের বড় ধরনের হামলা হয়েছে। শাহী ঈদগাহর টিলা এলাকা থেকে আসা বেশ কয়েকটি ছোট ও বড় আকারের বানরের একটি দল দুটি বাসায় একসঙ্গে হামলা চালিয়ে তছনছ করেছে।

আজ সকাল আনুমানিক ৬ টার দিকে ঘটনাটি ঘটে।

একটি বিল্ডিংয়ের প্রথম ফ্ল্যাটে পরিবারের সদস্যরা তখন সকালের কাজে ব্যস্ত ছিলেন। এই সুযোগে ৪-৫টি বড় বানর রান্নাঘরের জানালার ফাঁক দিয়ে ঢুকে পড়ে। রান্নাঘরে রাখা বস্তা থেকে আলু বের করে খেয়ে ফেলেছে, চালের পাত্র উল্টে চাল ছড়িয়ে-ছিটিয়ে খেয়েছে। হাঁড়ি-পাতিল ফেলে পুরো রান্নাঘর তছনছ করে গেছে।

দ্বিতীয় বাসায় একই সময়ে অন্য ৫-৬টি বানর তার বাসার বারান্দায় হামলা চালায়। ডাইনিং টেবিলে রাখা এক ছড়া কলা নিয়ে মুহূর্তে পালিয়ে যায়। বাসার মালিক জানান, ঐ সময় বাসার কাজের মহিলা না তাড়ালে বানরেরা আরো অঘটন ঘটাতো।

সিলেট নগরীর বেশ কিছু এলাকার বাসিন্দাদের জন্য এখন নিজের ঘরটাই আর নিরাপদ নয়। ঐতিহ্যের অংশ হিসেবে যে বানরগুলোকে একসময় মানুষ ভালোবেসে খাবার দিত, আজ তারাই পরিণত হয়েছে এক মূর্তিমান আতঙ্কে। বিশেষ করে নগরীর মির্জাজাঙ্গাল, রামকৃষ্ণ মিশন রোড, চালিবন্দর এবং বাগবাড়ি এলাকার মানুষের জীবন এখন বিষিয়ে উঠেছে।

“নিজের ঘরের জানালাটা একটু খুলে যে মুক্ত বাতাস নেব, সেই উপায়টুকুও আমাদের নেই,” চোখে জল নিয়ে বলছিলেন এক বৃদ্ধা গৃহিণী। ঘরে ছোট বাচ্চা বা বৃদ্ধ থাকলে আতঙ্ক আরও বহুগুণ বেড়ে যায়। একটু অসাবধান হলেই ঝাঁকে ঝাঁকে বানর ঘরে ঢুকে পড়ছে। চোখের পলকে ছিনিয়ে নিচ্ছে দুপুরের খাবার, তছনছ করছে প্রয়োজনীয় নথিপত্র, এমনকি বিছানা-বালিশও রেহাই পাচ্ছে না।

সবচেয়ে বুকফাটা দৃশ্যটি দেখা যায় যখন অবুঝ শিশুরা এই প্রাণীদের আক্রমণের শিকার হয়। বানরের কামড় ও আঁচড়ে অনেক শিশু ও পথচারী রক্তাক্ত হয়েছেন। অথচ এই অবলা প্রাণীদের প্রতি মানুষের কোনো হিংসা ছিল না। বন-জঙ্গল কেটে ফেলায় ওদের থাকার জায়গা নেই, পেটে খাবার নেই; তাই হয়তো ক্ষুধার জ্বালায় ওরা আজ লোকালয়ে হিংস্র হয়ে উঠছে।

একটি বিভাগীয় শহরের জননিরাপত্তা কতটা ভঙ্গুর হতে পারে, তার নিকৃষ্ট উদাহরণ এখন সিলেট নগরীর বানর আতঙ্ক। বছরের পর বছর ধরে নগরের একাধিক জনাকীর্ণ এলাকায় বানরের উপদ্রব চললেও, সিলেট সিটি কর্পোরেশন (সিসিক) এবং বন বিভাগ কেবল একে অপরের ওপর দায় চাপিয়েই নিজেদের দায়িত্ব শেষ করছে। কর্তৃপক্ষের এই চরম খামখেয়ালিপনার মাশুল গুনছেন ট্যাক্স দেওয়া সাধারণ নাগরিকেরা।

বাস্তবতা হলো, বানরের দল এখন শুধু উপদ্রব নয়, বরং নগরের স্বাভাবিক জনজীবনকে পুরোপুরি অচল করে দিয়েছে। ছাদের ওপর থাকা লাখ টাকা মূল্যের সোলার প্যানেল, পানির পাইপলাইন, ডিশ ও ইন্টারনেটের ক্যাবল প্রতিনিয়ত ছিঁড়ে ধ্বংস করা হচ্ছে। ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানে ঢুকে মালামাল নষ্ট করায় ব্যবসায়ীরা চরম আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়ছেন। যেকোনো সময় বানরের তাড়ায় ছাদ বা বারান্দা থেকে পড়ে গিয়ে বড় ধরনের প্রাণহানির আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।

প্রশাসন কি তবে কোনো বড় ধরনের দুর্ঘটনার অপেক্ষায় আছে? দিনের পর দিন বন্যপ্রাণী আইনের দোহাই দিয়ে এই জননিরাপত্তাহীনতাকে টিকিয়ে রাখা কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। যদি এই প্রাণীদের দ্রুত খাঁচাবন্দি করে বনে পুনর্বাসন করা না হয় বা এদের বংশবৃদ্ধি নিয়ন্ত্রণে কঠোর পদক্ষেপ না নেওয়া হয়, তবে নাগরিকরা নিজেদের সুরক্ষায় আইন নিজের হাতে তুলে নিতে বাধ্য হবেন। একটি আধুনিক নগরীতে বন্যপ্রাণীর এমন তাণ্ডব এবং প্রশাসনের এমন ঠুঁটো জগন্নাথ হয়ে বসে থাকা চরম লজ্জাজনক।

নামাজের সময়সূচি
  • ফজর
  • যোহর
  • আছর
  • মাগরিব
  • এশা
  • সূর্যোদয়
  • ৪:২৮
  • ১১:৪৮
  • ৪:০৬
  • ৫:৫১
  • ৭:০৪
  • ৫:৪১