
জুলাই গণঅভ্যুত্থানে সিলেট জেলা ও মহানগর পুলিশের বিভিন্ন থানায় দায়েরকৃত মামলায় আসামির তালিকাকে থেকে ২৮৪ জনকে অব্যাহতির সুপারিশ করেছে পুলিশ। ‘রাজনৈতিক বা ব্যক্তিগত পূর্ব বিরোধ, প্রতিশোধপরায়ণতা কিংবা মিথ্যা অপবাদে’ তাদের আসামি করা হয়েছিল বলে পুলিশের ভাষ্য। এর প্রেক্ষিতে ৫৯টি মামলা থেকে ২৮৪ জনকে অব্যাহতির সুপারিশ করে আদালতে প্রতিবেদন দাখিল করা হয়েছে।
পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, সিলেট মেট্রোপলিটন ও জেলা পুলিশের পৃথক পৃথক মামলার তদন্ত শেষে এই অব্যাহতির সুপারিশ করা হয়। এরমধ্যে সিলেট মহানগরীর বিভিন্ন থানার ৩৯টি মামলায় ১৪৪ জনকে সিলেট রেঞ্জের অধীন ৩ জেলার ২০ মামলায় ১৪০ জনকে অব্যাহতি দেওয়ার সুপারিশসহ আদালতে অন্তর্বর্তী প্রতিবেদন দাখিল করেছে পুলিশ।
ফৌজদারি বিচার ব্যবস্থাকে জনবান্ধব, স্বচ্ছ ও রাজনৈতিক হয়রানিমুক্ত করার লক্ষ্যে বিগত অন্তর্বর্তী সরকার ‘কোড অব ক্রিমিনাল প্রসিডিউর-১৮৯৮’ (ফৌজদারি কার্যবিধি)-এ ১৭৩ (এ) নামক একটি নতুন ধারা সংযোজন করে।
এই ধারা অনুযায়ী, যদি কোনো ব্যক্তি কেবল হয়রানি বা প্রতিহিংসার শিকার হয়ে মামলার প্রাথমিক তথ্য বিবরণীতে (এফআইআর) আসামি হন, তবে তদন্ত কর্মকর্তা তদন্ত চলাকালীনই আদালতে একটি ‘অন্তর্বর্তী তদন্ত প্রতিবেদন’ দাখিল করতে পারেন। আদালত সেই প্রতিবেদন বিবেচনা করে ওই অভিযুক্তকে মামলা থেকে তাৎক্ষণিক অব্যাহতি দিতে পারেন।
তদন্ত সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা স্বীকার করেছেন যে, গণঅভ্যুত্থানের পর দায়ের হওয়া অনেক এজাহারে ব্যক্তিগত ক্ষোভ বা মিথ্যা মামলায় ফাঁসানোর উদ্দেশ্যে ঢালাওভাবে অনেকের নাম ঢুকিয়ে দেওয়া হয়েছিল।
পুলিশ সদরদপ্তরের এআইজি (মিডিয়া অ্যান্ড পাবলিক রিলেশন্স) এএইচএম শাহাদাত হোসাইন এই তদন্ত প্রক্রিয়ার ধারাবাহিক অগ্রগতি নিশ্চিত করে বলেন,
“সাক্ষ্য-প্রমাণ সংগ্রহ, ডিজিটাল তথ্য বিশ্লেষণ এবং সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের জিজ্ঞাসাবাদের মাধ্যমে প্রতিটি মামলার তদন্ত কার্যক্রম এগিয়ে নেওয়া হচ্ছে। একই সঙ্গে ফৌজদারি কার্যবিধির ১৭৩ (এ) ধারার কার্যকর প্রয়োগ নিশ্চিত করা হচ্ছে, যাতে কোনো নিরপরাধ ব্যক্তি হয়রানির শিকার না হন এবং তদন্তে শতভাগ স্বচ্ছতা বজায় থাকে।”