ফুলতলীর ডামি এমপির হুঙ্কার ও জাগ্রত জুলাই

ফুলতলীর ডামি এমপির হুঙ্কার ও জাগ্রত জুলাই

মরহুম আল্লামা আব্দুল লতিফ চৌধুরী ফুলতলী আমৃত্যু আওয়ামী লীগ বিরোধী রাজনীতি ও আদর্শের ধারক ছিলেন। তাঁর পরিবার এবং মসলকও (অনুগামী গোষ্ঠী) ধর্মনিরপেক্ষতাবাদের বিরুদ্ধে সব সময় সোচ্চার ভূমিকা পালন করেছে। তিনি স্পষ্টভাবেই জামায়াত বিরোধী ছিলেন; তবে জামায়াতকে ঘায়েল করতে গিয়ে তিনি কখনোই আওয়ামী লীগের কোলে চড়েননি, বরং নিজের স্বাতন্ত্র্য বজায় রেখেই নিজস্ব মতবাদের চর্চা করে গেছেন।

তবে ছাত্রজীবন থেকেই পীর সাহেবের ছোট ছেলে মাওলানা হুছাম উদ্দিন চৌধুরী ছিলেন অতি উচ্চাকাঙ্ক্ষী এবং আওয়ামী লীগ ঘেঁষা। পীর সাহেবের মৃত্যুর পর তিনি পুরো মসলকটিকে আওয়ামী লীগের দিকে ঝুঁকিয়ে দেন। শুরুতে ফুলতলী পরিবার ও মসলকের অনেক মুরব্বি, এমনকি তরুণ নেতারাও হুছাম সাহেবের এই ‘ইউটার্ন’ ভালোভাবে মেনে নেননি। কিন্তু তাঁর একক প্রভাবের কাছে পরাজিত হয়ে সবাই যেন জেনেশুনে বিষপান করে নীলকণ্ঠী হয়ে পড়েন। ফলশ্রুতিতে, বিগত আওয়ামী লীগ শাসনামলের ১৭ বছর ধরে হাসিনার ফ্যাসিবাদের ধর্মীয় বৈধতা দেওয়ার অ্যাসাইনমেন্টটি যোগ্যতার সাথেই পালন করে গেছেন জনাব হুছাম উদ্দিন চৌধুরী। বিনিময়ে তাঁর প্রাপ্তিযোগও কম হয়নি—শেষমেশ ডামি নির্বাচনে তিনি এমপিও হয়েছিলেন।

মাত্র ৬ মাসের এই এমপি ৫ আগস্টের রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর গর্তে লুকিয়ে যান। তৎকালীন সময়ে তাঁকে গ্রেপ্তার না করাটা যে বড় ভুল ছিল, তা এখন তিনি নিজেই প্রমাণ করছেন। প্রায় দীর্ঘ অজ্ঞাতবাস শেষে প্রকাশ্যে এসেই তিনি একের পর এক উত্তেজনাকর বক্তব্য দিচ্ছেন, যা মূলত শেখ হাসিনাকে ফেরত আনার প্রেক্ষাপট রচনার এক নতুন অ্যাসাইনমেন্ট। সারাজীবন আওয়ামী লীগের তল্পিবহন করা এই মাওলানা এখন আবার কৌশলে বিএনপির ঘাড়ে সওয়ার হওয়ারও চেষ্টা করছেন।

কিন্তু সংশ্লিষ্টদের মনে রাখা উচিত, এই বাংলায় ‘জুলাই’ এখনো বেঁচে আছে। জুলাইয়ের গণঅভ্যুত্থানের জনতা মরে যায়নি। ফ্যাসিস্ট সরকারের কোনো এমপি যদি এভাবে প্রকাশ্যে হুংকার দিয়ে বেড়ায়, তবে ‘জুলাই জনতার’ মেহমানদারি হয়তো তাঁকে আবারও বরণ করে নিতে হতে পারে।

নামাজের সময়সূচি
  • ফজর
  • যোহর
  • আছর
  • মাগরিব
  • এশা
  • সূর্যোদয়
  • ৩:৪৬
  • ১১:৫২
  • ৪:২৭
  • ৬:৩৩
  • ৭:৫৫
  • ৫:০৮