সিলেট বিভাগে হামের সংক্রমণ ও শিশুমৃত্যুর ঘটনায় উদ্বেগ বাড়ছে। হাসপাতালে প্রতিদিন নতুন রোগী ভর্তি হওয়া এবং একের পর এক শিশুর মৃত্যুর খবরে আতঙ্কিত অভিভাবকেরা। একই সঙ্গে টিকাদান কার্যক্রম, জনসচেতনতা এবং সংক্রমণ প্রতিরোধে স্বাস্থ্য বিভাগের তৎপরতা নিয়ে প্রশ্ন উঠছে।

স্বাস্থ্য বিভাগ ও হাসপাতাল সূত্রের বরাতে জানা গেছে, শুক্রবার (২৩ অক্টোবর) সিলেট এমএজি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় আরও তিন শিশুর মৃত্যু হয়েছে। মৃত শিশুদের মধ্যে রয়েছে বিয়ানীবাজারের এক বছর বয়সী আব্দুল্লাহ আল সাফওয়ান, কোম্পানীগঞ্জের নয় মাস বয়সী জিসান আহমেদ এবং হবিগঞ্জ সদরের তিন মাস নয় দিন বয়সী শিশু জায়ান।

শিশুদের মৃত্যুর খবর ছড়িয়ে পড়ায় হাসপাতালে চিকিৎসা নিতে আসা অভিভাবকদের মধ্যে উদ্বেগ আরও বেড়েছে। তাঁদের মতে, সংক্রমণ নিয়ন্ত্রণে সময়মতো চিকিৎসা, প্রয়োজনীয় পরীক্ষা এবং শিশুদের নিয়মিত টিকাদান নিশ্চিত করা জরুরি।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক অভিভাবক জানান, একের পর এক শিশুর মৃত্যুর খবর শুনে তাঁরা আতঙ্কিত। পরিস্থিতি মোকাবিলায় সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের আরও সক্রিয় ভূমিকা প্রয়োজন।

সিলেট নগরীর তালতলার বাসিন্দা ফাতেমা বেগমও পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেন। তাঁর মতে, প্রতিদিন নতুন রোগী ভর্তি ও শিশুমৃত্যুর খবর সাধারণ মানুষকে চিন্তিত করে তুলছে। টিকাদান কার্যক্রম কোথায় চলছে এবং সংক্রমণ ঠেকাতে কী ধরনের পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে, সে বিষয়ে জনগণকে স্পষ্ট তথ্য জানানো প্রয়োজন।

এক দিনে নতুন রোগী ভর্তি ৯৪ জন

প্রতিবেদনটিতে দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, শুক্রবার (২৩ অক্টোবর) সিলেট বিভাগের বিভিন্ন হাসপাতালে নতুন করে ৯৪ জন রোগী ভর্তি হয়েছেন। এর মধ্যে শহীদ শামসুদ্দিন আহমেদ হাসপাতালে ৪৯ জন, সিলেট এমএজি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ৩২ জন, মৌলভীবাজার সদর হাসপাতালে ৯ জন, জালালাবাদ রাগীব-রাবেয়া মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে তিনজন এবং কোম্পানীগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে একজন ভর্তি হয়েছেন।

চার জেলায় মৃত্যুর পরিসংখ্যান

প্রতিবেদনে উল্লেখ করা জেলা-ভিত্তিক হিসাব অনুযায়ী, সিলেটে ৮৩ জন, সুনামগঞ্জে ৬৯ জন, হবিগঞ্জে ৩২ জন এবং মৌলভীবাজারে ১৬ জনের মৃত্যুর তথ্য দেওয়া হয়েছে। সব মিলিয়ে এই হিসাব ২০০ ছাড়িয়েছে।

তবে এসব মৃত্যু হামের কারণে নিশ্চিতভাবে হয়েছে কি না এবং পরিসংখ্যানটি কোন সময়কাল পর্যন্ত হালনাগাদ, তা স্বাস্থ্য বিভাগের আনুষ্ঠানিক তথ্যের সঙ্গে যাচাই করা প্রয়োজন।

স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞদের মতে, হাম মোকাবিলায় নিয়মিত টিকাদান নিশ্চিত করা, আক্রান্ত শিশুদের দ্রুত শনাক্ত করা, প্রয়োজনীয় চিকিৎসার ব্যবস্থা করা এবং সংক্রমণ নিয়ন্ত্রণে দ্রুত সাড়াদানকারী দল সক্রিয় রাখা গুরুত্বপূর্ণ। পাশাপাশি আক্রান্ত রোগীর সংখ্যা, মৃত্যুর তথ্য ও টিকাদান কার্যক্রম সম্পর্কে নিয়মিত নির্ভরযোগ্য তথ্য প্রকাশ করাও জরুরি।

সিলেট বিভাগে সংক্রমণ পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে স্বাস্থ্য বিভাগ, হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ এবং স্থানীয় পর্যায়ের সংশ্লিষ্টদের সমন্বিত উদ্যোগের প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরছেন সংশ্লিষ্টরা।


Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *