নিউইয়র্কে প্রবাসী বাংলাদেশিদের অন্যতম বৃহৎ সংগঠন বাংলাদেশ সোসাইটির নির্বাচন আদালতের নির্দেশে স্থগিত করা হয়েছে। আগামী ২৫ অক্টোবর রোববার নির্বাচনটি অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা থাকলেও ভোটের মাত্র দুই দিন আগে শুক্রবার (২৩ অক্টোবর) কুইন্স সুপ্রিম কোর্ট এ নির্দেশ দেন। এ ঘটনায় প্রার্থী, ভোটার ও তাঁদের সমর্থকদের মধ্যে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে।
ঠিকানা নিউজের প্রতিবেদন অনুযায়ী, শুক্রবার দুপুর ১২টার দিকে নির্বাচন স্থগিতের বিষয়ে আদালতে শুনানি অনুষ্ঠিত হয়। পরে বিকেল সাড়ে ৫টার দিকে বিচারক নির্বাচনের ওপর স্থগিতাদেশ দেন। তবে কোন আবেদন এবং কী ধরনের আইনি যুক্তির ভিত্তিতে আদালত এ সিদ্ধান্ত দিয়েছেন, সে বিষয়ে বিস্তারিত তথ্য তাৎক্ষণিকভাবে জানা যায়নি।
নির্বাচনকে ঘিরে প্রার্থীদের প্রচার-প্রচারণা ও প্রস্তুতি চলছিল। ভোটগ্রহণের ঠিক আগমুহূর্তে আদালতের নির্দেশ আসায় পুরো নির্বাচনী প্রক্রিয়া নিয়ে নতুন করে অনিশ্চয়তা দেখা দিয়েছে। পরবর্তী সময়ে নির্বাচন কবে অনুষ্ঠিত হবে, তা আদালতের সিদ্ধান্ত ও নির্বাচন কমিশনের পদক্ষেপের ওপর নির্ভর করছে।
সংবাদ সম্মেলন ডেকেছে নির্বাচন কমিশন
বাংলাদেশ সোসাইটির প্রধান নির্বাচন কমিশনার আবু নাসের জানিয়েছেন, নির্বাচন স্থগিতের বিষয়ে বিস্তারিত তথ্য জানাতে নির্বাচন কমিশনের পক্ষ থেকে সংবাদ সম্মেলন করা হবে।
নির্বাচন কমিশনার মিয়া মোহাম্মদ দুলালও জানিয়েছেন, শুক্রবার রাত ৮টায় বাংলাদেশ সোসাইটির কার্যালয়ে সংবাদ সম্মেলন আহ্বান করা হয়েছে। সেখানে আদালতের নির্দেশ, নির্বাচনের বর্তমান পরিস্থিতি এবং পরবর্তী করণীয় সম্পর্কে বিস্তারিত তুলে ধরার কথা রয়েছে।
সংবাদ সম্মেলনে নির্বাচন কমিশন কী ব্যাখ্যা দেয় এবং আদালতের নির্দেশের পর নির্বাচন আয়োজনের বিষয়ে কী সিদ্ধান্ত নেয়, সেদিকে তাকিয়ে রয়েছেন প্রার্থী ও ভোটাররা।
২০১৮ সালেও আইনি জটিলতায় নির্বাচন স্থগিত হয়েছিল
বাংলাদেশ সোসাইটির নির্বাচন নিয়ে আদালতের হস্তক্ষেপের ঘটনা এবারই প্রথম নয়। প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, ২০১৮ সালেও ভোটার তালিকা, নির্বাচন পরিচালনা এবং ভোটগ্রহণের নিয়মকানুন নিয়ে বিরোধের জেরে আদালতে মামলা হয়েছিল।
ওই সময় সংগঠনের সাবেক কর্মকর্তা ওসমান চৌধুরী আদালতের দ্বারস্থ হন। একই বছরের অক্টোবরে আরও কয়েকজন সদস্য পৃথক মামলা করেন। পরবর্তী সময়ে আইনি জটিলতার কারণে সে বছরের নির্বাচনও স্থগিত হয়ে যায় বলে প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে।
পরবর্তী শুনানি ৫ নভেম্বর
আট বছর পর আবারও নির্বাচনের ঠিক আগে আদালতের নির্দেশে ভোট স্থগিত হওয়ায় বাংলাদেশ সোসাইটির নির্বাচনী প্রক্রিয়া নিয়ে আলোচনা শুরু হয়েছে। আগামী ৫ নভেম্বর পরবর্তী শুনানির দিন ধার্য করা হয়েছে।
ওই শুনানিতে আদালত কী সিদ্ধান্ত দেন এবং নির্বাচন কমিশন কী পদক্ষেপ নেয়, তার ওপরই নির্ভর করছে বাংলাদেশ সোসাইটির পরবর্তী নির্বাচনের সময়সূচি। আপাতত নতুন তারিখ ঘোষণা না হওয়া পর্যন্ত প্রার্থী ও ভোটারদের অপেক্ষা করতে হবে।
