-----

টেকসই কৃষি উন্নয়ন, খাদ্যনিরাপত্তা নিশ্চিতকরণ এবং জলবায়ু পরিবর্তনের চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় উদ্ভিদবিজ্ঞান ও প্রযুক্তিনির্ভর গবেষণার ওপর গুরুত্বারোপ করে সিলেট কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ে (সিকৃবি) শুরু হয়েছে দুই দিনব্যাপী উদ্ভিদবিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিষয়ক ৫ম আন্তর্জাতিক সম্মেলন। ‘প্লান্ট সায়েন্স এন্ড টেকনোলজি ফর সাস্টেনেবল এগ্রিকালচার: অপরচুনিটিজ এন্ড চ্যালেন্জ’প্রতিপাদ্যকে সামনে রেখে ২৯ অক্টোবর (বৃহস্পতিবার) বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় অডিটোরিয়ামে এ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়।

বাংলাদেশ সোসাইটি অব প্ল্যান্ট সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি (বিএসপিএসটি) এবং সিলেট কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের কৃষি অনুষদের যৌথ উদ্যোগে আয়োজিত সম্মেলনে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশনের (ইউজিসি) সদস্য প্রফেসর ড. মাছুমা হাবিব। প্রধান পৃষ্ঠপোষক হিসেবে উপস্থিত ছিলেন সিলেট কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের ভাইস-চ্যান্সেলর প্রফেসর ড. মুহাম্মদ সফি উল্যাহ মজুমদার এবং বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন হবিগঞ্জ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের ভাইস-চ্যান্সেলর প্রফেসর ড. মোঃ মোজাম্মেল হক।

উদ্বোধনী অধিবেশনে সভাপতিত্ব করেন বিএসপিএসটির সভাপতি ও গাজীপুর কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রফেসর ড. মোঃ আবদুল বাসেত মিয়া। স্বাগত বক্তব্য দেন বিএসপিএসটির সাধারণ সম্পাদক ও বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের ফসল উদ্ভিদ বিজ্ঞান বিভাগের প্রফেসর ড. মোঃ আলমগীর হোসেন। মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন মালয়েশিয়ার ইউনিভার্সিটি সায়েন্স মালয়েশিয়া (ইউএসএম), স্কুল অব বায়োলজিক্যাল সায়েন্সেসের ডিন ড. আমির হামজা আহমদ গাজালি। ধন্যবাদ জ্ঞাপন করে বক্তব্য প্রদান করেন সিলেট কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের কৃষি অনুষদের ডিন প্রফেসর ড. মোঃ শহীদুল ইসলাম।

প্রধান অতিথির বক্তব্যে ইউজিসি সদস্য প্রফেসর ড. মাছুমা হাবিব বলেন, দেশের কৃষি ও খাদ্যনিরাপত্তার টেকসই উন্নয়নে বিজ্ঞানভিত্তিক গবেষণা, উদ্ভাবন এবং আধুনিক প্রযুক্তির কার্যকর প্রয়োগ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। জলবায়ু পরিবর্তন, প্রাকৃতিক সম্পদের সীমাবদ্ধতা এবং ক্রমবর্ধমান খাদ্যচাহিদার মতো চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় বিশ্ববিদ্যালয়গুলোকে মানসম্মত ও প্রয়োগমুখী গবেষণায় আরও গুরুত্ব দিতে হবে। তিনি বলেন, আন্তর্জাতিক সম্মেলন গবেষকদের জন্য একটি কার্যকর মঞ্চ, যেখানে নলেজ লার্নিং ও টেকনোলজি এক্সচেঞ্জের মাধ্যমে জ্ঞান ও অভিজ্ঞতার আদান-প্রদান ঘটে, নতুন প্রযুক্তি উদ্ভাবনের পথ সুগম হয় এবং গবেষকদের মধ্যে পারস্পরিক সহযোগিতা আরও জোরদার হয়।

তিনি আরও বলেন, গবেষণার ফলাফল যেন শুধু গবেষণাগারে সীমাবদ্ধ না থাকে, বরং কৃষকের বাস্তব সমস্যার সমাধানে কাজে লাগে, সে বিষয়ে সংশ্লিষ্ট সবাইকে সচেষ্ট হতে হবে। তাঁর মতে, নলেজ লার্নিং ও টেকনোলজি এক্সচেঞ্জ সমন্বয় করে উদ্ভিদবিজ্ঞান ও প্রযুক্তির সমন্বিত প্রয়োগের মাধ্যমে উৎপাদনশীল, পরিবেশবান্ধব ও জলবায়ু-সহনশীল কৃষিব্যবস্থা গড়ে তোলা সম্ভব।

প্রধান পৃষ্ঠপোষক ও সিলেট কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিসি প্রফেসর ড. মুহাম্মদ সফি উল্যাহ মজুমদার বক্তব্যে বলেন, কৃষি বাংলাদেশের অর্থনীতি, খাদ্যনিরাপত্তা ও গ্রামীণ জীবিকার অন্যতম প্রধান ভিত্তি। এ খাতকে আরও সমৃদ্ধ ও টেকসই করতে গবেষণা, প্রযুক্তি উদ্ভাবন এবং আন্তর্জাতিক সহযোগিতার বিকল্প নেই। উদ্ভিদবিজ্ঞানের অগ্রগতি এবং আধুনিক প্রযুক্তির যথাযথ ব্যবহারের মাধ্যমে ফসলের উৎপাদনশীলতা বৃদ্ধি, রোগবালাই মোকাবিলা ও পরিবেশগত ঝুঁকি হ্রাসে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখা সম্ভব।

তিনি আরও বলেন, সিলেট কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষা, গবেষণা ও উদ্ভাবনের মাধ্যমে দেশের কৃষি উন্নয়নে ভূমিকা রাখতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। এ ধরনের আন্তর্জাতিক সম্মেলন শিক্ষক, গবেষক ও শিক্ষার্থীদের নতুন জ্ঞান অর্জন, গবেষণার অভিজ্ঞতা বিনিময় এবং আন্তর্জাতিক পর্যায়ে সহযোগিতা সম্প্রসারণের সুযোগ সৃষ্টি করবে।

সম্মেলনে বাংলাদেশসহ বিশ্বের মোট ১২টি দেশের শিক্ষক, গবেষক ও পেশাজীবীরা অংশগ্রহণ করেন। এতে ২০টি কারিগরি অধিবেশনে মোট ২৬৫টি বৈজ্ঞানিক গবেষণাপত্র উপস্থাপন করা হয়।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *