কাতার বিশ্বকাপই হতে পারতো লিওনেল মেসির শেষ বিশ্বকাপ। ক্যারিয়ারে যা কিছু চেয়েছেন, তার চেয়ে বেশিই পেয়েছেন ফুটবল জাদুকর। বার্সেলোনার হয়ে জিতেছেন সম্ভাব্য সবকিছু। বাকি ছিল একটা ১৮ ক্যারেটের বিশ্বকাপ। সেটাও জেতা হয়ে গেছে চার বছর আগে। কাতারের লুসাইল স্টেডিয়ামে কাপটা হাতে নিয়ে তাই বলতে পারতেন বিদায় আন্তর্জাতিক ফুটবল। বলেননি, তার ক্ষুধা এখনো মেটেনি। ২০১৪ ব্রাজিল বিশ্বকাপে হাতের মুঠো থেকে বেরিয়ে যাওয়া ট্রফিটাই হয়তো এলএম টেনকে পুড়াচ্ছে। তাঁর খুঁজেই হয়ত ২০২৬ এর মঞ্চেও নিজেকে সপে দিচ্ছেন মেসি। কিন্তু এটা তো ঝুঁকি! বয়স বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৩৯। বার্সেলোনা থেকে নতুন ঠিকানা হয়েছে মেজর লীগ সকারে। আমেরিকান লীগের পারফরম্যান্স বিশ্বকাপে টেনে নেয়া কঠিন। বিশ্বকাপ এমন এক জায়গা, যেখানে সব দলই সেরা। ২০২৬ বিশ্বমঞ্চের মেসিকে চার, আট বছর আগের রুপে দেখতে চাওয়াটা তাই বাড়াবাড়ি। আর্জেন্টাইন জাদুকর সবকিছু জেনে, বুঝেই হয়ত ঝুঁকিটা নিয়েছেন। কিন্তু বাস্তবতা তো ভিন্ন। বিশ্বকাপের ইতিহাস বলছে, ষাটের দশকের মাঝামাঝি থেকে ফুটবলের এই মেগা আসর পরপর দুইবার কোন দলকেই জিততে দেয়নি! সর্বশেষ টানা দুইবার(১৯৫৮, ১৯৬২) বিশ্বকাপ জিতেছিল পেলের ব্রাজিল। তারপর ৬৪ বছর গড়িয়েছে, ১৫টি বিশ্বকাপ অনুষ্ঠিত হয়েছে বিশ্বের নানা প্রান্তে। তবু এই কীর্তিতে ভাগ বসাতে পারেনি কেউ। ফ্রান্সের সামনে সুযোগ ছিল। ২০১৮ রাশিয়া বিশ্বকাপ জয়ের পর গত বিশ্বকাপেরও ফাইনালে উঠে আসে দিদিয়ের দেশমের দল। কিলিয়ান এমবাপ্পের অতিমানবীয় ফুটবলে ৩-৩ ড্রয়ের পর টাইব্রেকারে আর্জেন্টিনার কাছে হেরে স্বপ্নভঙ্গ হয় ফ্রান্সের। লিওনেল মেসির সামনেও এখন টানা দুই বিশ্বকাপ জেতার সুযোগ এসেছে। এর আগে সর্বকালের সেরা দুই ফুটবলারের একজন দিয়েগো ম্যারাডোনাও সেই সুযোগ পেয়েছিলেন। ১৯৮৬ বিশ্বকাপ জেতার পর ৯০ বিশ্বকাপেও আর্জেন্টিনাকে ফাইনালে তুলেন ম্যারাডোনা। জার্মানীর বিপক্ষে অনেক বিতর্কের সেই ফাইনাল ০-১ গোলে হেরে ম্যারাডোনারও পাওয়া হয়নি টানা দুই বিশ্বকাপ।

এসব ইতিহাস জেনেও লিওনেল মেসি চ্যালেঞ্জটা নিচ্ছেন। একদিন পর শুরু হওয়া যুক্তরাষ্ট্র-মেক্সিকো-কানাডা বিশ্বকাপে তাঁর দলটাও কাতার বিশ্বকাপের মতোই শক্তিশালী। নতুন-পুরনো মিলিয়ে লায়নেল স্কালোনির যে স্কোয়াড তাতে আর্জেন্টাইন ভক্তরা আবারও স্বপ্ন দেখছেন। চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী ব্রাজিল, শক্তিশালী ফ্রান্স, পর্তুগাল, জার্মানী, স্পেনের হিসেবও নিশ্চয়ই আর্জেন্টিনাকে ঘিরে। কিন্তু ওই যে পুরনো হিসেব, পুরনো মিথ, ফুটবলের বিশ্ব আসরের ইতিহাস এসব তো মেসি আর তাঁর দলের পক্ষ হয়ে কথা বলছে না। তবে লিওনেল মেসি নামের ফুটবল জাদুকরের তো জন্মই হয়েছে ইতিহাসকে নতুন করে লেখার জন্য। না হলে কি আর রেকর্ড আটটা ব্যালন ডি’অর, একটা বিশ্বকাপ, আরেকটার ফাইনাল, দুটি কোপা আমেরিকা আর একটি যুব বিশ্বকাপের শিরোপা মেসির হয়! বাঁধাটা কেবল বয়সের(৩৯) আর বিশ্বকাপ ইতিহাসের। আমেরিকার মেজর লীগ সকারের ফর্ম এই জুন-জুলাইয়ে চেনাজানা কানসাস, ডালাস, নিউইয়র্ক-নিউজার্সিতে নিয়ে আসতে পারবেন মেসি? পারলে বিশ্বকাপের ৬৪ বছরের ইতিহাস ভেঙে আর্জেন্টিনা চ্যাম্পিয়ন আর ফুটবলের রাজার পাশাপাশি লিওনেল মেসি!

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *