
মৌলভীবাজারের কুলাউড়ায় ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনী বিএসএফের গুলিতে মুজিবুর রহমান (৩০) নামে এক বাংলাদেশি যুবক নিহত হওয়ার খবর পাওয়া গেছে। শুক্রবার (১২ জুন) সন্ধ্যায় উপজেলার শরীফপুর ইউনিয়নের দত্তগ্রাম সীমান্ত এলাকায় ভারতের লখাইরচড় এলাকায় এ ঘটনাটি ঘটে।
নিহত মুজিবুর রহমান উপজেলার দত্তগ্রাম এলাকার মৃত অজিবুর রহমানের ছেলে। খবর পেয়ে স্থানীয় দত্তগ্রাম বিজিবি ক্যাম্পের সদস্যরা ও পুলিশের একটি দল ঘটনাস্থলে গিয়েছে।
এদিকে ভারতীয় এক গণমাধ্যমকর্মী এই প্রতিবেদককে শুক্রবার রাতে জানান, নিহত মুজিবুর রহমানের লাশ ভারতের উনকোটি জেলা হাসপাতালে রয়েছে। শনিবার ময়নাতদন্ত করে লাশ বাংলাদেশে পাঠানোর কথা রয়েছে।
স্থানীয়, বিজিবি ও পুলিশ সূত্রে জানা যায়, দত্তগ্রাম সীমান্ত বর্ডার গার্ড বাংলাদেশের শ্রীমঙ্গল ব্যাটালিয়ন ৪৬ বিজিবির আওতায় পড়েছে। মুজিবুর রহমানসহ স্থানীয় এলাকার ৬-৭ জন যুবক শুক্রবার সন্ধ্যায় দত্তগ্রাম সীমান্ত সংলগ্ন ভারতের লখাইরচড় এলাকায় ভারতীয় চোরাই মালামাল আনতে গিয়েছিলেন। এসময় ভারতের লাটিয়াপুড়া বিএসএফ ক্যাম্পের সদস্যরা তাঁদের লক্ষ্য করে গুলি ছুড়লে ঘটনাস্থলে মুজিবুর মারা যান এবং তার সঙ্গে থাকা বাকিরা পালিয়ে এসে রক্ষা পায়।
স্থানীয় ইউপি সদস্য জয়নুল ইসলাম ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন, ‘নিহত মুজিবুর রহমানের পরিবারের কাছ থেকে তিনি বিষয়টি জেনেছেন।
চোরাই মালামাল আনতে গিয়ে বিএসএফের গুলিতে মুজিবুর মারা গেছে বলে ধারণা করছি নিহতের ভাই আজিজুর ফোনে জানিয়েছে, তার ভাইয়ের লাশ বিএসএফ ভারতের হাসপাতালে নিয়ে গেছে।
কুলাউড়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শেখ জহিরুল ইসলাম মুন্না বলেন, ‘গুলিবিদ্ধ হয়ে মুজিবুর রহমান মারা গেছেন বলে প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে। ঘটনাস্থলে পুলিশের একটি টিম গিয়েছে। পরবর্তী প্রয়োজনীয় আইনানুগ ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন।
ভারতীয় বিএসএফের গুলিতে বাংলাদেশী চোরাকারবারী যু্বক নিহত প্রসঙ্গে ৪৬ বিজিবি শ্রীমঙ্গল ব্যাটালিয়নের অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল সরকার আসিফ মাহমুদ গণমাধ্যমকে বলেন, ১২ জুন সন্ধ্যায় দত্তগ্রাম সীমান্ত এলাকা দিয়ে বাংলাদেশী ৬-৭ জনের চোরাকারবারীর দল ভারতীয় চোরাকারবারীদের সহায়তায় চোরাচালানী মালামাল আনতে সীমান্ত পিলার ১৮৫২/৫-এস হতে আনুমানিক ৫০০ গজ ভারতের অভ্যন্তরে লখাইরচর নামক স্থান অবৈধভাবে প্রবেশ করে। এসময় ১৯৯ ব্যাটালিয়নের লাঠিয়াপুড়া বিএসএফ ক্যাম্পের সদস্যরা চোরাকারবারীদের বাঁধা প্রদান করলে বাংলাদেশী চোরাকারবারীরা বিএসএফ সদস্যদের উপর দেশীয় অস্ত্র দ্বারা আক্রমণের চেষ্টা করে। ওইসময় বিএসএফ সদস্যরা আত্মরক্ষার্থে চোরাকারবারীদের উপর ২-৩ রাউন্ড গুলি করলে মুজিবুর রহমান মুজিব নামে বাংলাদেশী চোরাকারবারী গুলিবিদ্ধ হয়ে ঘটনাস্থলে মৃত্যুবরণ করে। এছাড়া তার সাথে থাকা বাকি চোরাকারবারীরা বাংলাদেশের অভ্যন্তরে পালিয়ে এসে আত্মগোপনে রয়েছে বলে জানা যায়। নিহত চোরাকারবারী ইতিপূর্বে চোরাচালানী মালামাল পরিবহনের সাথে সম্পৃক্ত ছিল বলে জানা যায়। তিনি আরো বলেন, ভারতীয় বিএসএফের সাথে যোগাযোগ হয়েছে। তারা জানিয়েছে নিহতের ময়নাতদন্ত ও আইনী প্রক্রিয়া শেষে দুই দেশের মধ্যে পতাকা বৈঠকের মাধ্যমে মরদেহ দেশে পাঠানো হবে।