দক্ষিণ সুরমায় রোড ডিভাইডার যেন মরণফাঁদ

সড়কে শৃঙ্খলা ও জীবন বাঁচানোর তাগিদে রোড ডিভাইডার (সড়ক বিভাজক) তৈরি করা হলেও, ঢাকা-সিলেট মহাসড়কের দক্ষিণ সুরমার তেলিবাজারে তা উল্টো ‘মরণফাঁদে’ পরিণত হয়েছে। প্রতিনিয়ত এই ঝুঁকিপূর্ণ রোড ডিভাইডারে ধাক্কা খেয়ে গাড়ি উল্টে ছোট-বড় দুর্ঘটনা ঘটছে। ডিভাইডারটির দৈর্ঘ্য অপ্রশস্ত হওয়া, কোনো দৃশ্যমান সাইনবোর্ড বা নির্দেশক বাতি না থাকা এবং যথাযথ সংস্কারের অভাবে প্রতিদিন চরম ঝুঁকি নিয়ে চলাচল করছে হাজার হাজার যানবাহন। বর্তমানে সিলেট-সুনামগঞ্জ সড়কের প্রবেশমুখ থেকে মহাসড়কে প্রায় ৫০ মিটার দীর্ঘ একটি উঁচু ও ঢালু ডিভাইডার রয়েছে, যা দুর্ঘটনার প্রধান কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।

​স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, ঢাকা-সিলেট মহাসড়কের তেলিবাজার নামক স্থানে ঢাকা থেকে ছেড়ে আসা দ্রুতগতির দূরপাল্লার বাস, মালবাহী ট্রাক, পিকআপ ভ্যান, ডিআই পিকআপ ও কার্গো ভ্যানগুলো প্রায়ই নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে এই ডিভাইডারের ওপর উঠে যায় বা উল্টে যায়। বিশেষ করে রাতের আঁধারে ও ভোরের কুয়াশায় এই সমস্যা প্রকট আকার ধারণ করে। ঘন ঘন ধাক্কা লাগার ফলে ডিভাইডারটি ইতিমধ্যে মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। স্থানীয়দের দাবি, এই তেলিবাজার পয়েন্ট ও সিলেট-সুনামগঞ্জ বাইপাস সড়কে এ পর্যন্ত কমপক্ষে ৫০টি ছোট-বড় দুর্ঘটনা ঘটেছে। এতে প্রাণ হারিয়েছেন ১৩ জন এবং আহত হয়েছেন অন্তত অর্ধশত মানুষ।

​গত ৩ মে (রোববার) সকাল ৭টায় এই তেলিবাজারেই শ্রমিকবাহী একটি ডিআই পিকআপ ও ট্রাকের মুখোমুখি সংঘর্ষে এক নারীসহ মোট ৮ জন শ্রমিক ঘটনাস্থলেই নিহত হন। এ ছাড়া গত ২৩ এপ্রিল (বৃহস্পতিবার) দুপুরে সিলেট-সুনামগঞ্জ বাইপাস সড়কের তেলিবাজার অংশে রাস্তার খানাখন্দে পড়ে মোটরসাইকেল দুর্ঘটনায় এক প্রতিষ্ঠিত ব্যবসায়ী নিহত হয়েছেন। এমন মর্মান্তিক দুর্ঘটনা এই স্পটে নিয়মিত চিত্র হয়ে উঠেছে।

​সরেজমিনে দেখা যায়, ঢাকাগামী কোনো যানবাহন সিলেট শহরের প্রবেশদ্বার তেলিবাজার ব্রিজের মুখে আসলে দূর থেকে বোঝার কোনো উপায় নেই যে সামনে একটি রোড ডিভাইডার রয়েছে। অত্যন্ত কম উচ্চতায় নির্মিত হওয়ায় চালকরা দূর থেকে এটি দেখতে পান না। যারা এই সড়কে নতুন যাতায়াত করছেন, তারা সবচেয়ে বেশি বিপাকে পড়েন। দ্রুতগতিতে আসা গাড়ি হঠাৎ ব্রেক করতে গেলে পিছনের দিক থেকে আসা অন্য গাড়ির সাথে ভয়াবহ সংঘর্ষের আশঙ্কা থাকে।

​পিকআপ ভ্যান চালক ফয়ছল আহমদ বলেন, “প্রতিদিন ভোরে এই স্পটে ছোট-বড় গাড়ি দুর্ঘটনার শিকার হতে দেখি। এই ডিভাইডারে যদি ‘ক্যাটস আই’ (লুমিনাস রিফ্লেক্টর) বাতি বা দূর থেকে দৃশ্যমান কোনো সাইনবোর্ড দেওয়া হতো, তবে চালকরা সতর্ক হতে পারতেন। একই সাথে ডিভাইডারটির দৈর্ঘ্য বাড়িয়ে আরও প্রশস্ত করা জরুরি।”

​তেতলী টিলাবাড়ি এলাকার এক স্থানীয় ব্যবসায়ী জানান, ডিভাইডারটি প্রশস্ত করে দ্রুত ব্যবস্থা না নিলে এখানে মৃত্যুর মিছিল থামানো যাবে না।

​বলদী ও আহমদপুরসহ আশপাশের বেশ কয়েকটি এলাকার জনসাধারণকে চরম ঝুঁকি নিয়ে এই মহাসড়ক দিয়েই যাতায়াত করতে হয়। ঢাকামুখী দ্রুতগতির যানবাহনের কারণে এই অংশটি স্থানীয়দের জন্য পারাপার হওয়া অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ। বলদী ও আহমদপুর এলাকাবাসীর জোর দাবি— জনসাধারণের নিরাপদ যাতায়াতের সুবিধার্থে বিকল্প রাস্তা হিসেবে সিলেট-সুনামগঞ্জ বাইপাস সড়ককে সরাসরি মহাসড়কের এই প্রবেশদ্বারের সাথে সহজভাবে যুক্ত করা হোক।

সিলেট সড়ক ও জনপথ (সওজ) অধিদপ্তর কর্তৃপক্ষ এখান থেকে কিছুটা দূরে বদিকোনা মার্কাজ মসজিদের প্রবেশমুখে ‘সাবধান, দুর্ঘটনা প্রবণ এলাকা’ সংবলিত সাইনবোর্ড লাগালেও, মূল ঝুঁকিপূর্ণ স্পট তেলিবাজারে কোনো সাইনবোর্ড নেই। স্থানীয়রা অবিলম্বে এই ভুল স্থানে থাকা সাইনবোর্ডটি সরিয়ে তেলিবাজারের মূল পয়েন্টে দৃশ্যমান নির্দেশক স্থাপনের দাবি জানিয়েছেন।

​ঝুঁকিপূর্ণ রোড ডিভাইডার ও এর দৈর্ঘ্য প্রশস্তকরণ প্রসঙ্গে সিলেট সড়ক ও জনপথ (সওজ) বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী সাদ্দাম হোসেন বলেন, “তেলিবাজারের এই ঝুঁকিপূর্ণ স্থানটি দ্রুত আমাদের টিম দিয়ে পরিদর্শন করা হবে। দুর্ঘটনাপ্রবণ এলাকা হিসেবে স্পটটি চিহ্নিত করে দ্রুত প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।”

নামাজের সময়সূচি
  • ফজর
  • যোহর
  • আছর
  • মাগরিব
  • এশা
  • সূর্যোদয়
  • ৩:৩৮
  • ১১:৫৫
  • ৪:৩০
  • ৬:৪১
  • ৮:০৭
  • ৫:০৪