
মৌলভীবাজারের বড়লেখায় ৫ নম্বর শাহবাজপুর ইউনিয়নের ভারপ্রাপ্ত ইউপি চেয়ারম্যান আব্দুল মন্নান মনাকে রাজনৈতিকভাবে হেয় করতে গিয়ে তাঁর ভাইয়ের বাসার এক নিরীহ নারী গৃহকর্মীকে (শিরিন বেগম) ফিল্মিস্টাইলে জিম্মি করে মিথ্যা ভিডিও ধারণ ও তা ফেসবুকে ভাইরালের ঘটনা ঘটেছে। এই ঘটনায় সিলেটের সাইবার ট্রাইব্যুনালে মামলা দায়ের করে এখন পরিবার হারিয়ে এবং আসামিদের প্রাণনাশের হুমকিতে চরম নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন বড়লেখার মুছেগুল গ্রামের ওই নারী। উপায়ান্তর না পেয়ে গত ১৭ জুন (২০২৬) তিনি নিরাপত্তা ও আসামিদের গ্রেপ্তারের দাবিতে সিলেটের রেঞ্জ ডিআইজি বরাবরে একটি লিখিত আবেদন করেছেন।
ভুক্তভোগী ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান আব্দুল মন্নান মনার প্রতিপক্ষরা তাকে সামাজিক ও রাজনৈতিকভাবে ঘায়েল করতে এই নিষ্ঠুর ষড়যন্ত্র করে। কিছুদিন পূর্বে শিরিন বেগম তাঁর শিশুপুত্রকে নিয়ে ওই বাসায় অবস্থান করার সময় ১০/১২ জনের একটি অপরাধী চক্র জোরপূর্বক ঘরে প্রবেশ করে। তারা শিরিনকে মারধর করে এবং চাকুর মুখে জিম্মি করে তাঁর সন্তানের গলা চিপে ধরে। সন্তানের জীবন রক্ষার্থে শিরিন তাদের শেখানো কথা অনুযায়ী— ‘চেয়ারম্যানের সঙ্গে তাঁর অনৈতিক সম্পর্ক রয়েছে’ বলে মিথ্যা জবানবন্দি দিতে বাধ্য হন। চক্রের সদস্য সাদিকুর রহমান মোবাইল ফোনে সেই দৃশ্য রেকর্ড করে এবং গত অক্টোবর মাসে ফেসবুকে ভিডিওটি ভাইরাল করে দেয়। ভিডিওটি ছড়িয়ে পড়ার পর শিরিনের স্বামী সত্য-মিথ্যা যাচাই না করেই তাঁকে মারধর করে ঘর থেকে তাড়িয়ে দেন, যার ফলে তাঁর সংসারটি ভেঙে যায়।
ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান আব্দুল মন্নান মনা এ প্রসঙ্গে বলেন, “আমার ওপর ব্যক্তিগত আক্রোশ মেটাতে গিয়ে প্রতিপক্ষের প্রভাবশালী লোকজন এই নিরীহ গৃহকর্মীর জীবন ও সংসারটা সম্পূর্ণ ধ্বংস করে দিয়েছে।”
সামাজিকভাবে বিপর্যস্ত হয়ে শিরিন বেগম সিলেটের সাইবার ট্রাইব্যুনালে ‘সাইবার সুরক্ষা অধ্যাদেশ ২০২৫’ এর অধীনে একটি মামলা দায়ের করেন (বড়লেখা থানার মামলা নং- ০৪, তারিখ: ০২-১২-২০২৫; জিআর মামলা নং- ২০৯/২০২৫)। মামলাটি বর্তমানে তদন্ত করছে ‘পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন’ (পিবিআই) মৌলভীবাজার শাখা।
ভুক্তভোগীর অভিযোগ, মামলা দায়েরের পর থেকে এজাহারনামীয় প্রভাবশালী আসামি— হাসান আহমদ, নাজিম উদ্দিন, জুলহাস আহমদ, সুনাম উদ্দিন, আবু সালমা, সাদিকুর রহমান ও সিপার প্রকাশ্যে ঘুরে বেড়াচ্ছে এবং মামলা তুলে নিতে অনবরত হুমকি দিচ্ছে। গত ১ এপ্রিল তারা শিরিনের বাবার বাড়িতে গিয়ে আগামী তারিখের পূর্বে মামলা না তুললে তাকে হত্যা করে লাশ গুম করার হুমকি দেয়। এই বিষয়ে পিবিআই-এর তদন্তকারী কর্মকর্তা এসআই বিকাশ চন্দ্র দাসকে জানানো হলেও তিনি ব্যবস্থা না নিয়ে বড়লেখা থানায় যোগাযোগের পরামর্শ দেন। অন্যদিকে বড়লেখা থানা পুলিশ জানায়, মামলা পিবিআই তদন্ত করায় আসামি গ্রেপ্তারের এখতিয়ার তাদের নেই। এই পরিস্থিতিতে দুই সংস্থার পরস্পরবিরোধী বক্তব্যে আসামিরা অধরাই থেকে যাচ্ছে।
এ বিষয়ে জানতে চাওয়া হলে পিবিআই মৌলভীবাজারের তদন্তকারী কর্মকর্তা (এসআই) বিকাশ চন্দ্র দাস বলেন, “মামলাটি কিছুটা জটিল ও সংবেদনশীল হওয়ায় তদন্তে সময় লাগছে। তবে আসামিরা প্রকাশ্যে ঘুরছে— এই তথ্যটি সঠিক নয়। আমি বড়লেখায় একাধিকবার অভিযান চালিয়েও আসামিদের এলাকায় পাইনি। আমাদের অভিযান ও চেষ্টা অব্যাহত রয়েছে।”