
শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (শাবিপ্রবি) সমুদ্রবিজ্ঞান বিভাগের দ্বিতীয় ব্যাচের শিক্ষার্থী মো. শাহাদাত হোসাইন বিশ্বের অন্যতম শীর্ষ বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় ম্যাসাচুসেটস ইনস্টিটিউট অব টেকনোলজি (এমআইটি) তে পিএইচডি করার সুযোগ পেয়েছেন। এই খবরে বিভাগের শিক্ষক-শিক্ষার্থীরা উচ্ছ্বাস প্রকাশ করছেন।
বিভাগ সূত্রে জানা যায়, মো. শাহাদাত হোসেন শাবিপ্রবির সমুদ্রবিজ্ঞান বিভাগ থেকে স্নাতক ও স্নাতকোত্তর শেষ করেছেন। বিশ্ববিদ্যালয়ের শুরু থেকেই তিনি পড়াশোনা ও গবেষনার প্রতি অনেক বেশী আগ্রহী ছিলেন। বিভাগের তার একাডেমিক রেজাল্টও ছিল খুব ভালো।
এমআইটিতে পড়ার সুযোগ পাওয়ার বিষয়ে জানতে চাইলে মো. শাহাদাত হোসেন বলেন, এটা অনেকটা স্বপ্নের মতো। আমার ইচ্ছা ছিল বিশ্বের সেরা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে উচ্চ শিক্ষা গ্রহণ করার। সেই সুযোগটি আমি পেয়েছি। এজন্য মহান আল্লাহর দরবারে শুকরিয়া জানাই। এ যাত্রায় যারা আমাকে বিভিন্নভাবে সহযোগিতা করেছেন তাদের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করছি। বিশেষ করে আমাদের বিভাগের চেয়ারম্যান সহযোগী অধ্যাপক ড. সুব্রত সরকার স্যারের প্রতি আমি গভীরভাবে কৃতজ্ঞ। তাঁর তত্ত্বাবধানেই আমার গবেষণাজীবনের শুরু। তিনি আমার স্নাতক ও স্নাতকোত্তর গবেষণার সুপারভাইজার ছিলেন এবং গবেষণার প্রতি আগ্রহ, ধৈর্য ও শৃঙ্খলা গড়ে তুলতে সবচেয়ে বড় ভূমিকা রেখেছেন। পাশাপাশি কানাডায় আমার মেন্টররাও গবেষণা ক্ষেত্রে আমাকে গুরুত্বপূর্ণ দিকনির্দেশনা দিয়েছেন।
তিনি আরো বলেন, আমি যখন বিশ্ববিদ্যালয়ের দ্বিতীয় বর্ষে পড়ি তখনই জানতে পারি এমআইটিতে “এমআইটি- হুই জয়েন্ট প্রোগ্রাম” নামে একটি ডেডিকেডেট প্রোগ্রাম আছে। যা সমুদ্র বিজ্ঞান বিষয়ের জন্য বিশ্বের অন্যতম সেরা পিএইচডি প্রোগ্রাম। তবে বাংলাদেশ থেকে এত প্রতিযোগিতাপূর্ণ একটি প্রতিষ্ঠানে পড়ার সুযোগ পাব এমন আত্মবিশ্বাস তখন আমার ছিল না। তবুও স্বপ্ন দেখা থামাইনি, নিজের একাডেমিক ও গবেষণার যাত্রাকে ধারাবাহিকভাবে এগিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করেছি।
তিনি নিজেকে কিভাবে তৈরি করেছেন জানতে চাইলে তিনি বলেন, স্নাতক ও স্নাতকোত্তর পর্যায়ে ভালো ফলাফলের পাশাপাশি গবেষণার কাজে যুক্ত ছিলাম। আন্তর্জাতিক জার্নালে প্রবন্ধ প্রকাশ করেছি এবং ২০২৪ সালে “নাসা স্পেস অ্যাপস চ্যালেঞ্জ”এ দলনেতা হিসেবে অংশ নিয়ে সিলেট বিভাগের চ্যাম্পিয়ন হয়েছিলাম। একই বছরে কানাডার “ডালহৌসি ইউনিভার্সিটি এর ওশেন ফ্রন্টিয়ার ইনস্টিটিউট” এ পর্যবেক্ষণভিত্তিক সমুদ্রবিজ্ঞান বিষয়ে একটি আন্তর্জাতিক প্রশিক্ষণ কর্মসূচিতে অংশ নেওয়ার সুযোগ পাই। এসব অভিজ্ঞতা আমাকে গবেষণার প্রতি আরও আত্মবিশ্বাসী করে তোলে। যা আমাকে এমআইটিতে পিএইচডি প্রোগ্রাম পেতে সাহায্য করেছে।
তিনি আরো বলেন, এমআইটিতে এই প্রোগ্রামটি অত্যন্ত প্রতিযোগিতাপূর্ণ। বিশেষ করে বর্তমান সময়ে বৈশ্বিক গবেষণা তহবিলের সীমাবদ্ধতার কারণে প্রতিযোগিতা আরও বেড়েছে। কিন্তু আমি চেষ্টা চালিয়ে গেছি। শেষ পর্যন্ত মহান আল্লাহর অশেষ রহমতে আমি সফল হয়েছি। সাধারণত এমআইটিতে প্রকৌশল, পদার্থবিজ্ঞান বা রসায়নের শিক্ষার্থীদের কথা বেশি শোনা যায়। তাই সমুদ্রবিজ্ঞান নিয়ে পড়েও যে একদিন এমআইটিতে পড়ার সুযোগ পাব, সেটা একসময় শুধু স্বপ্নই মনে হতো। আজ তা বাস্তবে রূপ নিয়েছে।
তিনি তার গবেষণার বিষয়বস্তুর কথা বলতে গিয়ে বলেন, এমআইটিতে আমি ফিজিক্যাল ওশেনোগ্রাফি নিয়ে পিএইচডি করব। আমার গবেষণার মূল বিষয় হবে সমুদ্রের স্রোতের পরিবর্তন কীভাবে পৃথিবীর জলবায়ুকে প্রভাবিত করে তা বুঝা।
শিক্ষার্থীদের উদ্দেশ্যে তিনি বলেন, প্রতিদিন ধারাবাহিকভাবে কাজ করতে হবে। হতাশ হওয়া যাবে না। নিজের উপর আত্মবিশ্বাস রাখতে হবে। তাহলেই স্বপ্ন একদিন বাস্তবে পরিনত হবে।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে সমুদ্রবিজ্ঞান বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ও বিভাগীয় প্রধান ড. সুব্রত সরকার বলেন, আমাদের বিভাগের জন্য এবং তার থিসিস সুপারভাইজার হিসেবে বিশেষভাবে আমার জন্য এটা সত্যিই অনেক গর্বের বিষয়। এটা বিভাগের বর্তমানে অধ্যয়নরত শিক্ষার্থীদের দারুনভাবে রিসার্সের প্রতি, গবেষণার প্রতি ও বিদেশে উচ্চশিক্ষার প্রতি আগ্রহী করে তুলবে বলে আমি মনে করি।
তিনি আরো বলেন, শাহাদাত যে প্রোগ্রামে এমআইটিতে পিএইচডির সুযোগ পেয়েছেন এটি সমুদ্রবিজ্ঞানের ছাত্রছাত্রীদের জন্য সবচেয়ে সেরা প্রোগ্রাম হিসেবে বিবেচিত হয়। বাংলাদেশে রিসার্সের বাজেটে স্বল্পতা রয়েছে। আর সমুদ্র বিজ্ঞানের জন্য তো এর সংকট আরো বেশী। সেই জায়াগা থেকে সে (শাহাদাত) এমআইটিতে সরাসরি পিএইচডির সুযোগ পেয়েছে। এটা অত্যন্ত গর্বের বিষয়।



