ব্রেকিং নিউজ
খুইয়েছেন ২০ লাখ টাকা

টেলিগ্রাম প্রতারকচক্রের খপ্পরে নিঃস্ব সিলেটের যুবক

টেলিগ্রাম প্রতারকচক্রের খপ্পরে নিঃস্ব সিলেটের যুবক

টেলিগ্রামে প্রতারণার ফাঁদে পড়ে নিঃস্ব হয়েছেন সিলেটের মোগলাবাজারের এক যুবক। প্রতারকদের চটকদার কথায় অধিক মুনাফার লোভে প্রলুব্ধ হয়ে নুজহাতুল ইসলাম সায়েম খুইয়েছেন প্রায় ২০ লাখ টাকা। সায়েম এসএমপির মোগলাবাজার থানার আলমপুর মালিপুরের বাসিন্দা আবুল হাসনাতের ছেলে। এ ঘটনায় তদন্তে নেমে পুলিশ পেয়েছে টেলিগ্রাম প্রতারকচক্রের দেশব্যাপী বিস্তৃত জালের সন্ধান।

তদন্তে জানা গেছে, টেলিগ্রাম অ্যাপের মাধ্যমে নতুন ফাঁদ পেতেছে ভয়ঙ্কর প্রতারক চক্র। তারা ছড়িয়ে ছিটিয়ে আছে দেশজুড়ে। অ্যাপের মাধ্যমে যোগাযোগ করে অনলাইন ট্রেডিংয়ের নামে লুটে নিচ্ছে কোটি কোটি টাকা। সম্প্রতি সিলেটের এক যুবকের কাছ থেকে লুটে নিয়েছে প্রায় ২০ লাখ টাকা। এমন ঘটনায় অবাক হয়েছেন আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরাও। টাকা লুটে নিয়ে অ্যাকাউন্ট ব্লক করে দিয়ে যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন করার পর সিলেটের ওই যুবক মোগলাবাজার থানায় করেছেন মামলা। তদন্তে নেমে পুলিশ খুঁজে পেয়েছে প্রতারণার ভয়ঙ্কর জাল।

পুলিশ জানায়- টেলিগ্রাম অ্যাকাউন্টে যুক্ত হয়ে সিলেটের মোগলাবাজার থানার আলমপুর মালিপুরের বাসিন্দা আবুল হাসনাতের ছেলে এম নুজহাতুল ইসলাম সায়েম প্রতারক চক্রের খপ্পরে পড়ে ১৯ লাখ ৯২ হাজার খুইয়ে থানায় মামলা করেন। মামলার অভিযুক্তরা হচ্ছে- কুমিল্লা সদর চম্পকনগরের ভূঁইয়া বাড়ির শিপন মিয়ার মেয়ে শিউলী আক্তার, গাজীপুরের নিজ মাওনা গ্রামের আব্দুস সাত্তারের ছেলে হৃদয় হাসান তন্ময়, খুলনা পাইকগাছা থানার হোল্ডিং ৩৮৭ লস্কর বাসার বাসিন্দা অমর কৃষ্ণ সানার ছেলে মৃণ্ময় কান্তি সান ও ঢাকার মিরপুর ১৩নং ওয়ার্ড সাত্তার রোডের বাসিন্দা আনিছুর রহমানের ছেলে নুরে আলম।

মামলা দায়েরের পর তদন্ত শুরু করেন সিলেটের মোগলাবাজার থানার এসআই রাজীব পাল। তিনি তদন্তের মাধ্যমে প্রতারক চক্রের সন্ধানে তথ্যপ্রযুক্তির মাধ্যমে ব্যাংক অ্যাকাউন্ট, এনআইডি কার্ড, পাসপোর্ট সংগ্রহ করেন। একইসঙ্গে চক্রকে গ্রেপ্তারে দেশের বিভিন্নস্থানে অভিযান শুরু করেন। কিন্তু চক্রটি বারবার স্থান বদল করার ফলে এখনো গ্রেপ্তার করা সম্ভব হয়নি। প্রতারণার শিকার হওয়া এম নুজহাতুল হক সায়েম মামলায় দাবি করেন- প্রতারক চক্র জেরিন নামক টেলিগ্রাম অ্যাকাউন্ট থেকে তার নিজ মোবাইল নম্বরের টেলিগ্রাম লিংকে জয়েন্টের জন্য অনুরোধ পাঠায়।

ওই টেলিগ্রাম গ্রুপে প্রবেশের পর এডমিন রাশেদুল ইসলাম মোগলাবাজারের সায়েমের বিকাশ নম্বরে গত বছরের ২৯শে জুলাই ৫০০ টাকা পাঠায়। এরপর একাধিকবার ওই অ্যাকাউন্ট থেকে সায়েমের বিকাশ নম্বরে কম টাকার লেনদেন করা হয়। প্রতারক চক্র বাদীর টেলিগ্রাম অ্যাকাউন্টে ফোন করে বলে তাদের ‘উইথ লোকালস’ নামের একটি কোম্পানিতে সীমিত সময়ের জন্য বিশেষ অফার দেয়া হয়েছে।

যদি ওই অফারে অংশ নিলে বেশি মুনাফা সম্ভব বলেও জানায়। টেলিগ্রাম গ্রুপের কাস্টমার কেয়ারের সদস্য দাবিদার আবু হুরাইয়ার সঙ্গে যোগাযোগের অনুরোধ জানায়। তাদের অফারের প্রলোভনে পড়ে টাকা বিনিয়োগের আগ্রহ প্রকাশ করেন সায়েম। কথাবার্তার একপর্যায়ে একই চক্রের আরেক প্রতারক হৃদয় হাসান তন্ময়ের গাজীপুরের জয়নাবাজারের পূবালী ব্যাংক লি.-এর একটি অ্যাকাউন্ট নম্বর দেয়।

পরবর্তীতে হৃদয় ও আবু হুরায়রার কথামতো সিলেটের সায়েম ৫ লাখ টাকা প্রদান করেন। টাকা পাওয়ার পর আবু হুরাইয়া সায়েমকে জানায়-অনলাইন অফারের পরবর্তী ধাপে যেতে হলে তাকে পুনরায় মৃণ্ময় কান্তি সানার নামের ডাচ্‌-বাংলা ব্যাংক লি-এর ঢাকার নিউ মার্কেট শাখার অ্যাকাউন্টে, নুরুল আলমের নামে সিটি ব্যাংকের ঢাকার মিরপুর শাখার অ্যাকাউন্টে ও শিউলী আক্তারের নামে কুমিল্লার ডাচ্‌- বাংলা ব্যাংকে টাকা জমা দিতে হবে।

আবু হুরায়রার কথামতো সায়েম সানার অ্যাকাউন্টে ৩ লাখ ৯২ হাজার ২৭০ টাকা ও নুরুল আলমের অ্যাকাউন্টে নগদ ৫ লাখ টাকা ও শিউলী আক্তার নামক ব্যাংক অ্যাকাউন্টে ১০ লাখ টাকা পাঠান। এই টাকা প্রাপ্তির পর আবু হুরায়রা জানায়- অনলাইন অফারের পরবর্তী ধাপে যেতে হলে পুনরায় আরও ১৫ লাখ টাকা জমা দিতে হবে। বারবার টাকা চাওয়ায় সন্দেহ হয় সায়েমের।

একপর্যায়ে তিনি টাকা দিতে অস্বীকৃতি জানালে প্রতারক চক্র তাদের টেলিগ্রাম নম্বর ব্লক করে দেয়।মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা এসআই রাজীব পাল জানিয়েছেন- প্রতারক চক্রের প্রতারণার অভিযোগ পাওয়ার প্রেক্ষিতে মোগলাবাজার থানা পুলিশ মামলা রেকর্ড করে। মামলাটি বর্তমানে তদন্তাধীন আছে। প্রতারক চক্রের নাম ঠিকানা সংগ্রহ প্রক্রিয়া চলমান আছে। তাদের গ্রেপ্তারে পুলিশের অভিযান অব্যাহত রয়েছে বলে জানান তিনি।

নামাজের সময়সূচি
  • ফজর
  • যোহর
  • আছর
  • মাগরিব
  • এশা
  • সূর্যোদয়
  • ৪:০৫
  • ১১:৫৪
  • ৪:২৪
  • ৬:২২
  • ৭:৩৯
  • ৫:২৩