সাহসী ঝুমার গল্প

যে নারীর হাতের ইশারায় নিয়ন্ত্রিত হয় ট্রেন

যে নারীর হাতের ইশারায় নিয়ন্ত্রিত হয় ট্রেন পতাকা উঁচিয়ে ট্রেনকে সবুজ সিগনাল দিচ্ছেন ঝুমা। ছবি : আমার সিলেট

তিনি যখন ধীর পায়ে গেটের কাছে এসে দাঁড়ান, তখন যেন প্রাণ ফিরে পায় ইস্পাতের দীর্ঘ রেললাইন। দূর থেকে আসা ট্রেন হুইসেল বাজায় তাঁর নির্দেশনা পেতে। তিনি যখন পতাকা উঁচিয়ে সবুজ সিগনাল দেন, তখন গন্তব্যের দিকে এগিয়ে যায় ছুটন্ত ট্রেন। বলছি ঝুমা আক্তারের কথা।

পুরুষদের কর্মক্ষেত্র হিসেবে পরিচিত রেলওয়ের গেইটমেন বা গেইট কিপারের মতো ঝুঁকিপূর্ণ কাজে নারীরা এখন সফলতার সাথে দায়িত্ব পালন করছেন। মৌলভীবাজারের কুলাউড়ার রেলস্টেশনের গেইট কিপার ঝুমা সেইসব নারীদের পথিকৃত।

সরেজমিন দেখা যায়, উপজেলার টিলাগাঁও রেলওয়ে স্টেশনের দক্ষিণ দিকের লালবাগ সড়কের রেলক্রসিংয়ের গেইট কিপারের দায়িত্ব পালন করছেন ঝুমা আক্তার। অপরদিকে রেলস্টেশনের উত্তর পাশে রবিরবাজার-টিলাগাঁও সড়কের রেলক্রসিংয়ে গেইটকিপারের দায়িত্ব পালন করছেন নাফিসা আক্তার। কর্মস্থলে এই সাহসী নারীর সঙ্গে কথা হয় কুলাউড়ার আমার সিলেট’র প্রতিবেদকের। প্রতিদিন ভোর ৬টা থেকে সন্ধ্যা ৬টা পর্যন্ত নিজ কর্মস্থলে দায়িত্ব পালন করেন ঝুমা আক্তার। তিনি সুনামগঞ্জ জেলার ধর্মপাশা উপজেলার মাহাদিপুর গ্রামের বাসিন্দা।

ঝুমা জানান, ডিগ্রী শেষে একের পর এক চাকরির নিয়োগ পরীক্ষায় ব্যর্থ হয়েছেন। তবে দমে যাননি কিংবা হাল ছাড়েননি। অবশেষে ২০১৮ সালে রেলওয়ে প্রকল্পের আওতাধীন গেইটকিপার পদে চাকুরি জুটে যায় তার। কর্মস্থল হয় কুলাউড়া উপজেলার টিলাগাঁও রেল স্টেশন সংলগ্ন ইয়ারগেট। ২০১৯ সালে ওয়েম্যান পদে যোগদান করেন তার অপর নারী সঙ্গী নাফিসা। নানা প্রতিকুলতার পরও নিজেদের ইচ্ছার বলে আট বছর ধরে এই পদে দায়িত্ব পালন করে আসছেন নিষ্ঠার সাথে।

যদিও ভোর ৬টা থেকে দুপুর ২টা পর্যন্ত আট ঘন্টার ডিউটি করার কথা কিন্তু জনবল কম থাকার কারণে তাকে অনেক সময় বারো ঘন্টা ডিউটি করতে হয়। আট বছর আগে থেকে ১৪ হাজার ৪৫০ টাকা বেতনে যোগদান করে এখন বেতন পাচ্ছেন ২০ হাজার ৪০০ টাকা। তবে হচ্ছে হবে করেও দীর্ঘ আট বছরেও চাকুরি রাজস্বখাতভুক্ত হওয়ার ভাগ্য হয়নি এই সাহসী নারীর।

পতাকা উঁচিয়ে ট্রেনকে সবুজ সিগনাল দিচ্ছেন ঝুমা। ছবি : আমার সিলেট

টিলাগাঁও স্টেশন রেলগেইট সংলগ্ন ইয়ার রেলগেইটে দেখা মিলে ঝুমা ও নাফিসা আক্তারের। অপর দুই পুরুষ সহকর্মীর সঙ্গে সমান তালে দায়িত্ব পালন করেন তারা। সহকর্মীরাও প্রশংসায় ভাসালেন কর্মবনিষ্ঠ ঝুমাকে। ট্রেনের গতিপথ সুগম করার পাশাপাশি হাতের সবুজ পতাকা আর মুখের বাঁশিতে রেলগেইটের নিরাপত্তা ভালোই সামাল দিচ্ছেন তিনি।

চাকুরির সুবাদে স্বামী থাকেন সুনামগঞ্জ জেলায়। এক সন্তানকে নিয়ে রেল স্টেশনের পাশের একটি বাসায় ভাড়া থাকেন তিনি।
ঝুমা আক্তার জানান, পেশাগত দায়িত্ব পালনের পাশাপাশি ছোট শিশুকেও সামলাতে হয়। একজন মা ও রেল গেইটের প্রহরী দুটি পরিচয়ে সাধ্যমতো কাজ করে যাচ্ছেন। এই পেশায় বেতন-ভাতা বৃদ্ধির পাশাপাশি চাকুরি নিয়মিতকরণে সরকার ও রেলওয়ে কর্তৃপক্ষের সার্বিক সহায়তা চেয়েছেন তিনি।

নাফিসা আক্তার জানান, ২০১৯ সালে ওয়েম্যান পদে যোগদান করেন। বর্তমানে আমি আট ঘন্টা ডিউটি করছেন। তার সাথে আরো দুজন পুরুষ সহকর্মী রয়েছেন। সততা ও নিষ্ঠার সাথে গেইট কিপারের দায়িত্ব পালন করার চেষ্টা করে যাচ্ছেন। বর্তমানে ২০ হাজার ৪০০ টাকা বেতনে পাচ্ছেন।

কুলাউড়া রেলওয়ে স্টেশন মাস্টার রুমান আহমদ জানান, গেইটকিপারের ঝুঁকিপূর্ণ দায়িত্ব দক্ষতার সঙ্গে পালন করছেন এই নারীরা। তিনি তাদের কাজের প্রশংসা করেন।

নামাজের সময়সূচি
  • ফজর
  • যোহর
  • আছর
  • মাগরিব
  • এশা
  • সূর্যোদয়
  • ৩:৫৯
  • ১১:৫৩
  • ৪:২৫
  • ৬:২৫
  • ৭:৪৪
  • ৫:১৮