একই মোহনায় পিতাপুত্র

বাসিয়া নদী : যেখানে মিশে আছে জিয়ার স্মৃতি

বাসিয়া নদী : যেখানে মিশে আছে জিয়ার স্মৃতি

একসময় যে নদীটি ছিল রূপবতী ও খরস্রোতা, যার বুক চিরে চলত পণ্যবাহী নৌকা—সেই বাসিয়া নদী আজ মৃতপ্রায়। সিলেট ও সুনামগঞ্জের পাঁচটি উপজেলার মানুষের জীবন-জীবিকা আর কৃষি সংস্কৃতির সঙ্গে মিশে থাকা এই নদীটি সময়ের আবর্তে পরিণত হয়েছিল এক সরু মরা খালে। তবে দীর্ঘ ৪৭ বছরের অবহেলা কাটিয়ে আজ ২ মে, ২০২৬ শনিবার, এক ঐতিহাসিক মুহূর্তের সাক্ষী হতে যাচ্ছে সিলেটবাসী। তৎকালীন রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের স্মৃতিবিজড়িত এই নদীটি তাঁরই সন্তান প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের হাত ধরে ফিরে পেতে যাচ্ছে হারানো যৌবন।

সিলেট সদর উপজেলার মাসুকগঞ্জ বাজার এলাকায় সুরমা নদী থেকে বাসিয়ার উৎপত্তি। এরপর দক্ষিণ সুরমা, ওসমানীনগর, বিশ্বনাথ ও সুনামগঞ্জের জগন্নাথপুরের বরাক হাওর হয়ে এটি মিশেছে কুশিয়ারা নদীতে। দীর্ঘ ৪০.৫ কিলোমিটারের এই যাত্রাপথে বাসিয়া ছিল এই অঞ্চলের অর্থনীতির মূল চালিকাশক্তি। বিশেষ করে বিশ্বনাথ উপজেলা সদর এই নদীকে কেন্দ্র করেই গড়ে উঠেছিল। কিন্তু পলি জমে ভরাট হওয়া, অবৈধ দখল আর দূষণের কারণে নদীটি তার নাব্যতা হারিয়ে ফেলে। ফলে ব্যাহত হয় নৌ-যোগাযোগ, আর শুষ্ক মৌসুমে সেচের অভাবে হাহাকার পড়ে যায় কৃষিজমিতে।

ইতিহাসের পাতা উল্টে দেখা যায়, ১৯৭৯ সালে তৎকালীন রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান তাঁর যুগান্তকারী ‘খাল কাটা কর্মসূচির’ আওতায় বাসিয়া নদী খননের উদ্যোগ নিয়েছিলেন। তিনি নিজ হাতে কোদাল চালিয়ে এই খনন কাজের উদ্বোধন করেছিলেন, যা আজও স্থানীয় প্রবীণদের স্মৃতিতে উজ্জ্বল। এরপর দীর্ঘ সময় কোনো সরকারই নদীটির পুনর্জীবনে কার্যকর পদক্ষেপ নেয়নি। অবশেষে প্রধানমন্ত্রীর এবারের সিলেট সফরকে কেন্দ্র করে বাসিয়া নদী খননের মেগা প্রকল্পটি আলোর মুখ দেখছে।

মৃতপ্রায় বাসিয়া নদী। ছবি : সংগৃহিত

সংশ্লিষ্ট প্রকৌশল দপ্তরের তথ্যমতে, নদীটির মোট দৈর্ঘ্যের মধ্যে ভরাট হয়ে যাওয়া প্রায় ২৩.২৫ কিলোমিটার অংশ খনন করা হবে। তলদেশ ৮ মিটার এবং উপরিভাগ ৩০ মিটারের বেশি প্রশস্ত করে নদীটিকে গভীর করা হবে, যাতে করে বছরজুড়ে পানির স্বাভাবিক প্রবাহ নিশ্চিত হয়।

জানা গেছে, এবার খনন কৌশলেও পরিবর্তন আনা হয়েছে। নদী থেকে তোলা মাটি পাড়ে না রেখে দূরে সরিয়ে নেওয়া হবে, যাতে বৃষ্টির পানিতে ধুয়ে সেই মাটি পুনরায় নদী ভরাট করতে না পারে। ১২ কোটি টাকা ব্যয়ের এই প্রকল্পটি প্রধানমন্ত্রীর সরাসরি তত্ত্বাবধানে বাস্তবায়িত হচ্ছে।

এই খনন কাজের সুফল হবে সুদূরপ্রসারী। কৃষি বিভাগ ও স্থানীয় জনপ্রতিনিধিদের মতে, বাসিয়া প্রাণ ফিরে পেলে সিলেটের কৃষিতে এক অভাবনীয় ‘জোয়ার’ আসবে। বর্তমানে পানির অভাবে যেসব জমিতে কেবল একবার ফসল হয়, সেখানে দুই থেকে তিনবার চাষাবাদ সম্ভব হবে। এতে প্রায় ৯০ হাজার কৃষক সরাসরি উপকৃত হবেন এবং প্রায় ২০ হাজার হেক্টর অনাবাদি জমি আধুনিক সেচ সুবিধার আওতায় আসবে। ফলে শীতকালীন সবজি ও বোরো ধানের উৎপাদনে এই অঞ্চল দেশের অন্যতম প্রধান কেন্দ্রে পরিণত হবে।

আজকের এই উদ্বোধনী অনুষ্ঠানের মধ্য দিয়ে শুধু একটি নদী খনন নয়, বরং সিলেটের মানুষের দীর্ঘদিনের আবেগ আর অর্থনৈতিক মুক্তির স্বপ্নপূরণ হতে যাচ্ছে। ৪৭ বছর আগে পিতা যে কাজের সূচনা করেছিলেন, আজ পুত্র তার পূর্ণতা দিচ্ছেন—এ যেন এক অনন্য সেতুবন্ধন। বাসিয়ার বুকে আবারও বড় বড় নৌকা চলবে, কৃষকের মাঠ সবুজ ফসলে ভরে উঠবে—এমনই প্রত্যাশা এখন সিলেট ও সুনামগঞ্জের লাখো মানুষের।

নামাজের সময়সূচি
  • ফজর
  • যোহর
  • আছর
  • মাগরিব
  • এশা
  • সূর্যোদয়
  • ৩:৫৯
  • ১১:৫৩
  • ৪:২৫
  • ৬:২৫
  • ৭:৪৪
  • ৫:১৮