
একশ দিন আগে (২১ জানুয়ারি) সিলেট এসেছিলেন তারেক রহমান। তখন তিনি বিএনপির চেয়ারম্যান ও নির্বাচনের দৌড়ে থাকা ‘হবু’ প্রধানমন্ত্রী। নির্বাচনী প্রচারণার ওই সফরে সিলেটের উন্নয়ন নিয়ে স্পষ্ট কোনো প্রতিশ্রুতি না দিলেও, যোগাযোগ ব্যবস্থার বেহাল দশার বর্ণনা দিয়েছিলেন। একশ দিন পর প্রধানমন্ত্রী হিসেবে আজ ২ মে তিনি যখন সিলেট আসছেন, তখন যোগাযোগ ব্যবস্থার উন্নয়ন নিয়ে তাঁর সুনির্দিষ্ট নির্দেশনা ও সরকারের কার্যকর পদক্ষেপ দেখতে চান সিলেটবাসী। প্রধানমন্ত্রীর সফর ঘিরে সিলেট বিভাগজুড়ে উচ্ছ্বাসের আবহে সিলেটের সঙ্গে রাজধানীর যোগাযোগ ব্যবস্থা নিয়ে তার সরকারের কী পদক্ষেপের ঘোষণা দেন প্রধানমন্ত্রী, সবার মনযোগ সেদিকেই।
সড়ক-রেল-আকাশপথ রাজধানী ঢাকার সঙ্গে সিলেটের তিন মাধ্যমের যোগাযোগ ব্যবস্থারই বেহাল দশা। আওয়ামী সরকারের আমলে উন্নয়ন বৈষম্যের শিকার হয়েছে সিলেট। ঢাকা-সিলেট মহাসড়ক চার থেকে ছয় লেনে উন্নত করার স্বপ্ন দেখালেও এখন জমি অধিগ্রহণই সম্পন্ন হয়নি। এরমধ্যে কাজ শুরু হওয়ায় ঢাকা-সিলেট মহাসড়কে জার্নি ভোগান্তিতে পরিণত হয়েছে। দশক দুই আগে ৪-৫ ঘণ্টায় ঢাকায় যাতায়াত করা গেলে এখন সেটি ৭-৮ ঘণ্টার রুটিনে দাঁড়িয়েছে। যানজটের কারণে ১৭-১৮ ঘণ্টার ভোগান্তিও পোহাতে হচ্ছে যাত্রীদের। একই অবস্থা রেলপথেও। চাহিদার তুলনায় অপ্রতুল ট্রেন ও ডাবল লাইনের অভাবে এখানেও বৈষম্যের শিকার সিলেট। সিলেটের একমাত্র বিমানবন্দরটি নামেই আন্তর্জাতিক হয়েছে, সেবায় ও বিমানে আন্তর্জাতিক হয়নি। তাছাড়া, ঢাকা-সিলেট রুটে বিমানের অত্যধিক বাড়ার বিষয়টিও সিলেটের বঞ্চনাকে পরিহাস করে। এমন অবস্থায় বাংলাদেশ বিমানযোগে ঘণ্টাখানেকের মধ্যে (এখন সকাল ৯টা) সিলেট অবতরণ করার কথা প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের।
প্রধানমন্ত্রীর সফরকে ঘিরে স্থানীয় বিভিন্ন সংগঠন উন্নয়নসংক্রান্ত দাবিদাওয়াও সামনে আনছে। সম্প্রতি বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আবদুল মুক্তাদিরের কাছে স্মারকলিপি দিয়ে ২৫ দফা দাবি জানিয়েছে সিলেট বিভাগ গণদাবি ফোরাম। দাবিগুলোর মধ্যে আছে সিলেটকে ‘আধ্যাত্মিক ও অর্থনৈতিক রাজধানী’ ঘোষণা, বিভাগকে পর্যটন অঞ্চল হিসেবে গেজেট প্রকাশ এবং ওসমানী আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরকে পূর্ণাঙ্গ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে উন্নীতকরণ।
এ ছাড়া সিলেট-ঢাকা ও সিলেট-চট্টগ্রাম রেলপথ আধুনিকায়ন, সিলেট-ঢাকা মহাসড়ক ছয় লেনে উন্নীতকরণ, মৌলভীবাজারের কমলগঞ্জে বিমানবাহিনীর ঘাঁটি স্থাপন, সিলেটে প্রকৌশল ও পর্যটন বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠা, হাইকোর্টের পূর্ণাঙ্গ বেঞ্চ পুনঃস্থাপনসহ নানা দাবি জানানো হয়েছে। পাশাপাশি নদ-নদী ও খাল খনন, তেল সংরক্ষণাগার স্থাপন এবং বিরতিহীন আধুনিক ট্রেন চালুর বিষয়টিও দাবির তালিকায় আছে।
প্রধানমন্ত্রীর সফরঘিরে যে প্রত্যাশা তৈরি হয়েছে, আজকের একাধিক অনুষ্ঠানের কোনটিতে প্রাপ্তির প্রতিশ্রুতি আসতে পারে সেটাই এখন দেখার পালা।
সফরসূচি অনুযায়ী, আজ সকাল ১০টার দিকে আকাশপথে ঢাকা থেকে সিলেটে পৌঁছাবেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। সেখানে পৌঁছে তিনি হজরত শাহজালাল (রহ.)-এর মাজার জিয়ারত করবেন। ১১টার দিকে ক্বিন ব্রিজসংলগ্ন সুরমা নদীর পাড়ের চাঁদনিঘাটে জলাবদ্ধতা নিরসনে সিটি করপোরেশনের একটি প্রকল্পের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন শেষে সুধী সমাবেশে অংশ নেবেন। বেলা ১১টা ৩৫ মিনিটে বাংলাদেশ ওভারসিজ সেন্টার সিলেটের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করবেন। দুপুর ১২টায় সিলেট সদর উপজেলার কান্দিগাঁও ইউনিয়নে বাসিয়া খাল খনন কর্মসূচির উদ্বোধন করার কথা আছে প্রধানমন্ত্রীর। এরপর বেলা তিনটায় সিলেট জেলা স্টেডিয়ামে যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ের উদ্যোগে শিশু ও কিশোরদের ক্রীড়া প্রতিভা অন্বেষণে ‘নতুন কুঁড়ি স্পোর্টস’ কর্মসূচির উদ্বোধন করবেন। বিকেল পাঁচটায় জেলা শিল্পকলা একাডেমিতে দলীয় এক সভায় যোগ দিয়ে তিনি সন্ধ্যায় ঢাকায় ফিরবেন।