
মেয়র লুৎফুর রহমানের সঙ্গে আমার সিলেটের যুক্তরাজ্য প্রতিনিধি এহসানুল ইসলাম চৌধুরী শামীম।
লন্ডনের টাওয়ার হ্যামলেটস কাউন্সিল নির্বাচন ব্যাপক উৎসাহ-উদ্দীপনা ও উৎসবমুখর পরিবেশের মধ্য দিয়ে সম্পন্ন হয়েছে। বৃহস্পতিবার সকাল ৮টা থেকে রাত ১০টা পর্যন্ত টানা ভোটগ্রহণ চলে। নির্বাচনের দিন বিভিন্ন ওয়ার্ডে ভোটারদের দীর্ঘ লাইন ও স্বতঃস্ফূর্ত উপস্থিতি ছিল চোখে পড়ার মতো। ভোটগ্রহণ শেষে শুক্রবার রাতে গণনা সম্পন্ন হলে আনুষ্ঠানিক ফলাফল ঘোষণা করা হয়। এবারের নির্বাচনে সবচেয়ে বড় চমক দেখিয়েছে ‘এস্পায়ার’ দল। এক্সিকিউটিভ মেয়র হিসেবে লুৎফুর রহমান পুনরায় বিজয় অর্জনের পর কাউন্সিলর নির্বাচনেও দলটির ব্যাপক সাফল্য দেখা গেছে। মোট ২০টি ওয়ার্ড থেকে ৪৫ জন কাউন্সিলর নির্বাচিত হয়েছেন। এর মধ্যে এস্পায়ার দল একাই জয় পেয়েছে ৩৩টি আসনে। অন্যদিকে লেবার পার্টি ও গ্রীন পার্টি পেয়েছে ৫টি করে আসন। এছাড়া লিবারেল ডেমোক্রেটস ও কনজারভেটিভ পার্টি একটি করে আসনে বিজয় লাভ করেছে।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা বলছেন, এই ফলাফল টাওয়ার হ্যামলেটসের স্থানীয় রাজনীতিতে একটি বড় বার্তা বহন করছে। বিশেষ করে মেয়র লুৎফুর রহমানের নেতৃত্বে এস্পায়ার দলের জনপ্রিয়তা যে আরও সুসংহত হয়েছে, নির্বাচনের ফলাফল সেটিই প্রমাণ করেছে। নির্বাচনের ফল প্রকাশের পর বিভিন্ন এলাকায় বিজয়ী প্রার্থীদের সমর্থকদের আনন্দ-উচ্ছ্বাস লক্ষ্য করা যায়। কেউ কেউ রাস্তায় মিছিল করেন, আবার অনেকে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে শুভেচ্ছা ও অভিনন্দন বার্তা প্রকাশ করেন। স্থানীয় বাংলাদেশি কমিউনিটির মধ্যেও এই নির্বাচন নিয়ে ছিল ব্যাপক আগ্রহ। কারণ টাওয়ার হ্যামলেটসকে যুক্তরাজ্যে বাংলাদেশি অধ্যুষিত অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ এলাকা হিসেবে বিবেচনা করা হয়। ফলে এখানকার রাজনৈতিক পরিবর্তন ও নেতৃত্বের প্রশ্নটি কমিউনিটির জন্য বিশেষ গুরুত্ব বহন করে। বিশ্লেষকদের মতে, এবারের ফলাফল ভবিষ্যতে টাওয়ার হ্যামলেটসের উন্নয়ন পরিকল্পনা, আবাসন, শিক্ষা, সামাজিক সেবা ও কমিউনিটি উন্নয়ন কার্যক্রমে বড় ধরনের প্রভাব ফেলতে পারে। একই সঙ্গে এস্পায়ার দলের জন্য এটি একটি বড় রাজনৈতিক ম্যান্ডেট হিসেবেও দেখা হচ্ছে।