কিয়ার স্টারমার

যুক্তরাজ্যের রাজনীতিতে নতুন করে অস্থিরতা তৈরি হয়েছে ক্ষমতাসীন লেবার পার্টির ভেতরে। প্রধানমন্ত্রী কিয়ার স্টারমারকে ঘিরে এবার প্রকাশ্যে দেখা দিয়েছে মন্ত্রিসভার অভ্যন্তরীণ বিভাজন ও নেতৃত্ব নিয়ে অসন্তোষ। সাম্প্রতিক স্থানীয় সরকার নির্বাচনে লেবারের ভরাডুবির পর দলীয় এমপি ও মন্ত্রীদের একাংশ প্রকাশ্যে প্রধানমন্ত্রীর পদত্যাগের দাবি তুলতে শুরু করেছেন।

সরকারি সূত্রে জানা গেছে, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী শাবানা মাহমুদ প্রধানমন্ত্রী কিয়ার স্টারমারের কাছে পদত্যাগের একটি নির্দিষ্ট সময়সূচি ঘোষণার দাবি জানিয়েছেন। দলীয় নেতাকর্মীদের মধ্যে বাড়তে থাকা চাপ ও রাজনৈতিক অনিশ্চয়তার প্রেক্ষাপটে এই দাবি সামনে এসেছে বলে জানা গেছে। যদিও এ বিষয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো মন্তব্য করেনি ডাউনিং স্ট্রিট বা স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর দপ্তর।

এদিকে লেবার পার্টির অন্তত ৭০ জন এমপি ইতোমধ্যে প্রধানমন্ত্রীর নেতৃত্ব নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন এবং তার পদত্যাগ দাবি করেছেন। দলীয় সূত্র বলছে, এই সংখ্যা ৮১ জনে পৌঁছালে বিষয়টি আনুষ্ঠানিকভাবে কেবিনেট বৈঠকে আলোচনার জন্য তোলা হতে পারে। ফলে দলীয় রাজনীতিতে উত্তেজনা আরও বাড়ছে।

রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, সাম্প্রতিক স্থানীয় সরকার নির্বাচনে লেবারের আশানুরূপ ফল না আসায় দলের ভেতরে হতাশা ও ক্ষোভ তৈরি হয়েছে। বিশেষ করে কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ অঞ্চলে লেবারের পরাজয়কে নেতৃত্বের ব্যর্থতা হিসেবে দেখছেন অনেক এমপি। এর ফলে প্রধানমন্ত্রী কিয়ার স্টারমারের নেতৃত্ব নিয়ে নতুন করে বিতর্ক শুরু হয়েছে।

দলের ভেতরের একটি অংশ মনে করছে, আগামী জাতীয় নির্বাচনের আগে নেতৃত্বে পরিবর্তন না আনলে লেবারের জনপ্রিয়তা আরও কমে যেতে পারে। অন্যদিকে স্টারমারের সমর্থকরা বলছেন, বর্তমান পরিস্থিতিতে নেতৃত্ব পরিবর্তন দলকে আরও বড় সংকটে ফেলতে পারে।

রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকরা বলছেন, আগামী কয়েক সপ্তাহ লেবার পার্টির জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হতে যাচ্ছে। এমপিদের মধ্যে অসন্তোষ আরও বাড়লে তা সরাসরি সরকারের স্থিতিশীলতার ওপর প্রভাব ফেলতে পারে। একই সঙ্গে বিরোধী দলগুলোও এই পরিস্থিতিকে রাজনৈতিকভাবে কাজে লাগানোর চেষ্টা করবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

সব মিলিয়ে, স্থানীয় সরকার নির্বাচনে ভরাডুবির পর প্রধানমন্ত্রী কিয়ার স্টারমার এখন নিজের দল থেকেই সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি হয়েছেন। পরিস্থিতি কোন দিকে গড়ায়, সেটাই এখন যুক্তরাজ্যের রাজনীতিতে সবচেয়ে আলোচিত বিষয়।

By এহসানুল ইসলাম চৌধুরী শামীম

যুক্তরাজ্য প্রতিনিধি

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *