
নরওয়ের ওসলোতে এক দ্বিপাক্ষিক বৈঠক শেষে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমের মুখোমুখি হয়ে তীব্র অস্বস্তিতে পড়েছেন ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। নরওয়ের এক সাংবাদিকের করা সরাসরি প্রশ্ন ভারতের রাজনৈতিক জবাবদিহিতা নিয়ে নতুন করে বিশ্বজুড়ে বিতর্কের ঝড় তুলেছে।
এক যৌথ প্রেস ব্রিফিংয়ের সময় নরওয়ের নরওয়ের সাংবাদিক হেলে লিং ভারতের সংবাদমাধ্যমের অবস্থা ও গণতান্ত্রিক পরিস্থিতি নিয়ে সরাসরি প্রশ্ন করেছিলেন। কিন্তু সেই প্রশ্নের উত্তর না দিয়েই অনুষ্ঠানস্থল ছেড়ে চলে যান মোদি।
ঘটনার পরে সামাজিকমাধ্যমে ক্ষোভ প্রকাশ করেন ওই সাংবাদিক। তিনি লেখেন, সংবাদমাধ্যমের স্বাধীনতার সূচকে নরওয়ে বিশ্বের এক নম্বরে রয়েছে, অথচ ভারতের স্থান ১৫৭। তার ভাষ্য, যেসব দেশের সঙ্গে আন্তর্জাতিক সম্পর্ক রাখা হয়, তাদের সরকারকে প্রশ্ন করার অধিকার সংবাদমাধ্যমের অবশ্যই আছে।
২০১৪ সালে ক্ষমতায় আসার পর থেকে নরেন্দ্র মোদি এখনো পর্যন্ত একটি পূর্ণাঙ্গ স্বাধীন সাংবাদিক বৈঠকও করেননি। সাংবাদিকদের সরাসরি প্রশ্নের মুখোমুখি হওয়া এড়িয়ে গিয়েছেন তিনি বারবার। অধিকাংশ ক্ষেত্রেই বাছাই করা সাক্ষাৎকার বা নিয়ন্ত্রিত অনুষ্ঠানে হাজির হয়েছেন প্রধানমন্ত্রী। বিরোধীদের দাবি, গণতন্ত্রে জবাবদিহির অন্যতম জায়গা হলো সংবাদমাধ্যম কিন্তু মোদি সরকার সেই জায়গাকেই ক্রমশ দুর্বল করেছে।
সোমবার গভীর রাতে নরওয়েতে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হন ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সচিব সিবি জর্জ। সেখানে আবারো সংখ্যালঘু অধিকার, মানবাধিকার এবং সংবাদমাধ্যমের স্বাধীনতা নিয়ে প্রশ্ন ওঠে। এক সাংবাদিক জানতে চান, এই বিষয়গুলিতে কেন ভারতের ওপর ভরসা করা উচিত। জবাবে সিবি জর্জ বলেছেন, কিছু স্বেচ্ছাসেবী সংস্থার প্রতিবেদনের ভিত্তিতে ভারতের বিরুদ্ধে অভিযোগ তোলা হচ্ছে। তার দাবি, ভারতের সংবিধান সব নাগরিককে সমান অধিকার দিয়েছে এবং আইনি সুরক্ষার ব্যবস্থাও রয়েছে।
তবে আন্তর্জাতিক মহলের মত, ভারতে সংবাদমাধ্যমের ওপর চাপ, বিরোধী কণ্ঠ দমন এবং সাংবাদিকদের বিরুদ্ধে মামলার সংখ্যা গত কয়েক বছরে বেড়েছে। বিশ্ব সংবাদমাধ্যম স্বাধীনতা সূচকে ভারতের অবস্থান ১৫৭ নম্বরে নেমে যাওয়া নিয়েও উদ্বেগ বাড়ছে। নরওয়ে এই তালিকায় এক নম্বরে রয়েছে।