
পরিবর্তনশীল মিডিয়া জগতে টিকে থাকতে হলে একজন সংবাদকর্মীকে অবশ্যই ‘লাইফ লং লার্নার’ বা আজীবন শিক্ষার্থী হতে হবে। প্রযুক্তির বিবর্তনে গণমাধ্যমের রূপ পাল্টালেও সৃজনশীলতা এবং সত্যের প্রতি নিষ্ঠাই হবে একজন মিডিয়া কর্মীর মূল চালিকাশক্তি।
গত ১০ মে নিউইয়র্কের জ্যামাইকা শাখায় অবস্থিত ‘কুরআন একাডেমি ফর ইয়ং স্কলার্স’ (কাফিস) হলরুম মিলনায়তনে অনুষ্ঠিত ‘মুনা নিউইয়র্ক নর্থ জোন মিডিয়া ও কালচারাল বিভাগ’ আয়োজিত এক কর্মশালায় বক্তারা এসব কথা বলেন। মুনা নিউইয়র্ক নর্থ জোনের সভাপতি মমিনুল ইসলাম মজুমদারের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত এই কর্মশালায় স্বাগত বক্তব্য রাখেন মুনার ন্যাশনাল অ্যাসিস্ট্যান্ট এক্সিকিউটিভ ডিরেক্টর (মিডিয়া ও কালচারাল) আনিসুর রহমান গাজী।
কর্মশালায় মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন এমসিটিভি ইউএস’র সিইও ও প্রেসিডেন্ট প্রবীণ সাংবাদিক কাজী শামসুল হক। তিনি গণমাধ্যমের শ্রেণিবিভাগ, প্রধান কার্যাবলি, ইকোনমিক কনভারজেন্স এবং বর্তমান বিশ্বে এর প্রভাব ও চ্যালেঞ্জের বিভিন্ন দিক তুলে ধরেন। তিনি বলেন, “মিডিয়া এখন আর শুধু খবর দেওয়ার মাধ্যম নয়, এটি মানুষের চিন্তাচেতনা, সংস্কৃতি এবং বিশ্বরাজনীতি নিয়ন্ত্রণের এক শক্তিশালী হাতিয়ার। এর মূল লক্ষ্য হওয়া উচিত সত্যের প্রকাশ ও জনকল্যাণ।”
কর্মশালার বিষয়ভিত্তিক আলোচনায় অংশ নিয়ে কমিউনিটি ও সংস্কৃতির বিভিন্ন দিক তুলে ধরেন আমন্ত্রিত অতিথিরা। সাপ্তাহিক বাংলাদেশ’র উপদেষ্টা সম্পাদক আনোয়ার হোসেইন মঞ্জু সাহিত্যের গুরুত্ব তুলে ধরে বলেন, সাহিত্যকে অবলম্বন করেই সংস্কৃতির সঙ্গীত, নাটক ও চিত্রশিল্পের মতো শাখা-প্রশাখা গড়ে ওঠে। প্রতিভা ও ভাষার প্রাঞ্জলতা অর্জনের জন্য প্রচুর সাহিত্য পড়ার আহ্বান জানিয়ে তিনি আফসোস করেন যে, আমাদের জাতীয় চরিত্র ও প্রতিভা এখনো সাহিত্য-শিল্পে পুরোপুরি ফুটে ওঠেনি।
সাপ্তাহিক বাংলাদেশ’র সম্পাদক ডা. ওয়াজেদ এ খান সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের প্রভাবে পাঠকদের সিরিয়াস কনটেন্টের প্রতি আগ্রহ কমে যাওয়াকে তিনি ‘কমিউনিটি সাংবাদিকতার’ বড় চ্যালেঞ্জ হিসেবে উল্লেখ করেন। তিনি সাংবাদিকদের বিবেকনির্ভর হয়ে জীবনের প্রত্যেক ক্ষেত্রে আলোকবর্তিকা হওয়ার প্রত্যাশা ব্যক্ত করেন।
নাহার চেয়ারম্যান ডা. আতাউল হক ওসমানী সূরা লোকমানের ৬ নম্বর আয়াত উল্লেখ করে বিনোদনের ইসলামী সীমানা ব্যাখ্যা করেন। তিনি বলেন, চিত্তবিনোদনের এমন ব্যবস্থা নেওয়া জায়েজ নয় যা মানুষকে দীনি দায়িত্ব থেকে গাফেল করে। খেলাধুলা ও বিনোদন কেবল দেহ-মনের ক্লান্তি দূর করার জন্য এবং কারও ক্ষতি না করার শর্তে জায়েজ।
স্বাগত বক্তব্যে আনিসুর রহমান গাজী বলেন, গণমাধ্যম হলো রাষ্ট্রের চতুর্থ স্তম্ভ। সত্য ও স্বাধীন সংবাদ প্রকাশ করা এক ধরণের ইবাদত; কিন্তু কারও আজ্ঞাবহ হয়ে অসত্য প্রকাশ করা গুনাহের কাজ। তিনি স্মরণ করিয়ে দেন, ইসলামে মতপ্রকাশের স্বাধীনতা থাকলেও তা দিয়ে সমাজ ও রাষ্ট্রের ক্ষতি করা বা কারও সম্মানে আঘাত হানা যাবে না।
সভাপতির বক্তব্যে মমিনুল ইসলাম মজুমদার বলেন, বস্তুনিষ্ঠ মিডিয়া ও সুস্থ সংস্কৃতির মাধ্যমে একটি নৈতিকতাসমৃদ্ধ সমাজ গঠন করা সম্ভব। তাওহিদি ঈমান ও আত্মিক পবিত্রতাই হলো ইসলামি সংস্কৃতির প্রাণ।
কবি ও সাহিত্যিক নাসির উদ্দিন আহমেদের কুরআন তেলাওয়াতের মাধ্যমে কর্মশালাটি শুরু হয়। অনুষ্ঠানের দ্বিতীয় পর্বে উপস্থিত সকলে পরস্পরের সঙ্গে পরিচিত হন এবং নিজেদের স্বরচিত কবিতা, ইসলামিক গান ও বিভিন্ন লেখা তুলে ধরেন। পুরো অনুষ্ঠানটি সফলভাবে পরিচালনা করেন মুনা নিউইয়র্ক নর্থ জোনের সাহিত্য ও সংস্কৃতি সম্পাদক অ্যাডভোকেট আবুল হাশেম।