
পবিত্র ঈদুল আজহার কোরবানির পর মাত্র ৮ ঘণ্টার মধ্যেই সিলেট নগরীকে বর্জ্যমুক্ত করা সম্ভব হয়েছে বলে দাবি করেছে সিলেট সিটি কর্পোরেশন (সিসিক)। বুধবার রাত থেকে শুরু হওয়া বিশেষ পরিচ্ছন্নতা অভিযানের মাধ্যমে বৃহস্পতিবার (২৮ মে) সন্ধ্যা ৬টার মধ্যেই নগরের সব ওয়ার্ডের বর্জ্য অপসারণ সম্পন্ন হয়েছে বলে জানিয়েছে সংস্থাটি।
সিসিকের তথ্য অনুযায়ী, ঈদের রাত থেকেই পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রম শুরু করা হয়। সহস্রাধিক পরিচ্ছন্নতাকর্মী, সিসিকের নিজস্ব ও ভাড়ায় আনা যানবাহনের সহায়তায় নগরের বিভিন্ন এলাকা থেকে বর্জ্য সংগ্রহ ও পরিবহন করা হয়।
অভিযান চলাকালে সিসিক প্রশাসক আব্দুল কাইয়ুম চৌধুরী এবং প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মোহাম্মদ রেজাই রাফিন সরকার নগরের বিভিন্ন এলাকা পরিদর্শন করেন এবং সার্বিক কার্যক্রম তদারকি করেন। প্রধান বর্জ্য ব্যবস্থাপনা কর্মকর্তা লে. কর্নেল (অব.) একলিম আবদীন পুরো কার্যক্রমে দায়িত্ব পালন করেন।
সিসিক আরও জানায়, ঈদের আগেই প্রতিটি ওয়ার্ডে সচেতনতামূলক মাইকিং, লিফলেট বিতরণ এবং পরিবেশবান্ধব পলিব্যাগ ও ব্লিচিং পাউডার সরবরাহ করা হয়। নগরবাসীর জন্য বিশেষ হটলাইন সেবাও চালু রাখা হয়।
সংস্থাটির দাবি অনুযায়ী, নগরে ১টি স্থায়ী ও ৫টি অস্থায়ী পশুর হাটসহ বিভিন্ন স্থানে থাকা কোরবানির বর্জ্য দ্রুত অপসারণ করা হয়। বর্জ্য পরিবহনে ৬০টি সিসিক ট্রাকের পাশাপাশি ৫৫টি ভাড়ায় নেওয়া ডাম্পার ও ট্রাক ব্যবহার করা হয়।
বৃহস্পতিবার বিকেলে প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা জানান, বিকেল ৫টার মধ্যে প্রায় ৯০ শতাংশ বর্জ্য অপসারণ সম্পন্ন হয় এবং নির্ধারিত সময়ের মধ্যেই পুরো নগরী পরিচ্ছন্ন করা সম্ভব হয়।
তবে পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রমের সাফল্য নিয়ে সিসিকের পক্ষ থেকে এই সময়সীমা ও পূর্ণাঙ্গ বাস্তবায়নের বিষয়টি “নিজেদের দাবি” হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে।
প্রধান বর্জ্য ব্যবস্থাপনা কর্মকর্তা লে. কর্নেল (অব.) একলিম আবদীন বলেন, নগরবাসীর সহযোগিতা ও কর্মীদের সমন্বিত প্রচেষ্টায় দ্রুত সময়ের মধ্যে বর্জ্য অপসারণ সম্ভব হয়েছে। পরে জীবাণু ও দুর্গন্ধ নিয়ন্ত্রণে পুরো নগরীতে জীবাণুনাশক স্প্রে ও ব্লিচিং পাউডার ছিটানো হয়।
সিসিক প্রশাসক আব্দুল কাইয়ুম চৌধুরী এ অর্জনে পরিচ্ছন্নতাকর্মী, কর্মকর্তা-কর্মচারী, গণমাধ্যমকর্মী ও নগরবাসীর প্রতি কৃতজ্ঞতা জানান। পাশাপাশি ঈদের পরবর্তী দিনগুলোতে দেরিতে কোরবানি দেওয়া হলে দ্রুত বর্জ্য অপসারণে সহযোগিতা করার আহ্বান জানান তিনি।