কোরবানির ঈদে পশুর চামড়া সংগ্রহে প্রশাসনের ব্যাপক তৎপরতা থাকলেও ন্যায্যমূল্য পাওয়া নিয়ে উদ্বেগ কাটেনি সিলেটের চামড়া ব্যবসায়ীদের। তৃণমূল পর্যায়ে অনেক চামড়া নামমাত্র মূল্যে কিংবা বিনামূল্যে হাতবদল হলেও ট্যানারি মালিকদের কাছ থেকে অতীতের বকেয়া পাওনা আদায় না হওয়া এবং বর্তমান বাজার পরিস্থিতি নিয়ে অনিশ্চয়তায় রয়েছেন তারা।

ব্যবসায়ীরা জানান, আকারভেদে প্রতিটি গরুর চামড়া দিনের বেলা ৩০০ থেকে ৪০০ টাকায় সংগ্রহ করা হয়েছে। তবে সন্ধ্যার পর সেটি ৫০-৬০ টাকায় নেমে যায়। এদিকে ট্যানারিগুলো কী দামে চামড়া কিনবে এবং সময়মতো মূল্য পরিশোধ করবে কি না, তা নিয়ে সংশয় রয়েছে। অতীতেও নানা অজুহাতে অনেক ব্যবসায়ী তাদের পাওনা থেকে বঞ্চিত হয়েছেন।

সংশ্লিষ্টদের মতে, সরকার নির্ধারিত দামের ধারেকাছেও অধিকাংশ ক্ষেত্রে চামড়া বিক্রি হচ্ছে না। অনেক কোরবানিদাতা চামড়া মাদ্রাসা বা বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে দান করছেন, আবার কেউ কেউ খুবই কম দামে বিক্রি করছেন। ফলে মাঠপর্যায়ের বাজারে প্রত্যাশিত মূল্য পাওয়া যাচ্ছে না।

সিলেটের প্রধান চামড়া সংগ্রহকারী সংগঠন শাহজালাল চামড়া ব্যবসায়ী বহুমুখী সমবায় সমিতির সদস্য মো. শাহজাহান জানান, নগর এলাকা থেকে প্রায় ৪০ থেকে ৫০ হাজার এবং বিভিন্ন উপজেলা থেকে আরও ৩০ থেকে ৪০ হাজার চামড়া সংগ্রহ হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।

তিনি বলেন, “চামড়া সংগ্রহ হচ্ছে ঠিকই, কিন্তু ব্যবসায়ীরা দাম নিয়ে শঙ্কায় আছেন। ফেঞ্চুগঞ্জ, গোয়াইনঘাটসহ কয়েকটি উপজেলায় সংগ্রহ তুলনামূলক কম হয়েছে। অনেক কোরবানিদাতা চামড়া বিনামূল্যে দিয়ে দিয়েছেন বা খুব কম দামে বিক্রি করেছেন।”

ঈদের আগে সিলেটের কওমি মাদ্রাসাগুলো চামড়া সংগ্রহ না করার ঘোষণা দিলেও শেষ পর্যন্ত বাণিজ্যমন্ত্রীর নির্দেশনা ও জেলা প্রশাসনের সহযোগিতায় তারা সিদ্ধান্ত পরিবর্তন করে। বর্তমানে মাদ্রাসাগুলো চামড়া সংগ্রহ করছে এবং ব্যবসায়ীরা সেখান থেকে চামড়া কিনছেন।

নগরীর  সুবিদাবাজার এলাকার বাসিন্দা সামছুল আলম বলেন, আমি আমার কোরবানির পশুর চামড়া মাদ্রাসায় দান করার জন্য রেখেছিলাম । বিকেল পর্যন্ত  কেউ নিতে না আসায় ১০০টাকায় বিক্রি করে দিয়েছি। পরে সেটি মাদ্রাসায় দিয়ে দিব।

চামড়া সংগ্রহকারীরা জানান, অধিকাংশ চামড়া তারা নামমাত্র মূল্যে সংগ্রহ করেছেন। পরিবহন ব্যয় যুক্ত করে ব্যবসায়ীদের কাছে প্রতি পিস চামড়া ২০০ থেকে ৩০০ টাকায় বিক্রি করছেন তারা।

প্রান্তিক মৌসুমি ব্যবসায়ীরা ২০ থেকে ৫০টি পর্যন্ত চামড়া সংগ্রহ করে পাইকারি ব্যবসায়ীদের কাছে বিক্রি করছেন। বিভিন্ন মাদ্রাসা থেকেও সরাসরি চামড়া ক্রয় করা হচ্ছে।

সিলেটের জেলা প্রশাসক মো. সারওয়ার আলম বলেন,  এবার চামড়া সংগ্রহ ভালো হচ্ছে। কোথাও চামড়া ফেলে দেওয়ার ঘটনা ঘটেনি। মাদ্রাসাগুলো চামড়া সংগ্রহ করছে, ব্যবসায়ীরাও সেগুলো কিনছেন। সংরক্ষণের জন্য পর্যাপ্ত লবণ সরবরাহ করা হয়েছে। আমরা চামড়া শিল্পকে বাঁচিয়ে রাখতে কাজ করছি।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *