
ইতিহাস ও ঐতিহ্যের প্রাচীন শহর সিলেট। একদিকে শতাব্দীর পুরোনো ঐতিহাসিক নিদর্শন, অন্যদিকে প্রকৃতির নৈসর্গিক সৌন্দর্য—সব মিলিয়ে এই জনপদ হয়ে উঠেছে দেশের অন্যতম প্রধান পর্যটননগরী। শহরের ইট-পাথরের ব্যস্ত জীবন থেকে একটু স্বস্তির খোঁজে এবং প্রকৃতির সান্নিধ্যে সব ক্লান্তি ভুলে যেতে এবারের ঈদের ছুটিতে সিলেটে ছুটে এসেছেন দেশের বিভিন্ন প্রান্তের কয়েক হাজার পর্যটক। বর্ষার যৌবনা সাদা পাথর কিংবা সিলেটের সবুজে মোড়ানো চা বাগানগুলো এখন প্রকৃতি-প্রেমীদের অন্যতম প্রধান গন্তব্যে পরিণত হয়েছে।
সাদা পাথর, রাতারগুল, জাফলং কিংবা মালিনীছড়াসহ সিলেটের প্রতিটি পর্যটন কেন্দ্রকে ঘিরেই গড়ে উঠেছে হাজারো মানুষের জীবিকা। দীর্ঘ খরা কেটে দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে বিপুল সংখ্যক পর্যটকের আগমনে প্রাণ ফিরে পেয়েছে পর্যটন সংশ্লিষ্ট ব্যবসা-বাণিজ্য। হোটেল-মোটেল থেকে শুরু করে স্থানীয় ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীদের মুখেও ফুটেছে হাসির ঝিলিক।
তবে পর্যটন কেন্দ্রের সম্ভাবনাকে পুরোপুরি কাজে লাগাতে আধুনিকায়নের দাবি জানিয়েছেন পর্যটক ও স্থানীয় ব্যবসায়ীরা। তাঁদের মতে, যোগাযোগ ব্যবস্থা, পর্যাপ্ত ওয়াশরুম ও নারীদের কাপড় পরিবর্তনের (চেঞ্জ রুম) সুবিধা বাড়ালে এই স্থানগুলো বিশ্বমানের পর্যটন কেন্দ্রে রূপ নেবে। পাশাপাশি নিরাপত্তা ব্যবস্থা আরও জোরদার করার তাগিদ দেন তাঁরা।
ভ্রমণে আসা পর্যটকদের নিরাপত্তা ও সার্বিক সহযোগিতায় প্রশাসন সম্পূর্ণ তৎপর রয়েছে বলে নিশ্চিত করেছে সিলেট মেট্রোপলিটন পুলিশ। সিলেট মেট্রোপলিটন পুলিশের পুলিশ কমিশনার আব্দুল কুদ্দুছ চৌধুরী বলেন:
“ঈদের পরপর এই পর্যটনের জন্য বাইরে থেকে অনেক লোকজন আসবে। তাঁদের নিরাপত্তা এবং যাঁরা ঈদ উপলক্ষে বাসা-বাড়ি খালি রেখে বাইরে গেছেন, তাঁদের নিরাপত্তার জন্য আমাদের পর্যাপ্ত প্রস্তুতি রয়েছে এবং এই তৎপরতা বজায় থাকবে।”
সিলেট জেলার বেশিরভাগ আকর্ষণীয় পর্যটন কেন্দ্র নিজ নির্বাচনী এলাকায় হওয়ায় এর উন্নয়ন ও তদারকিতে ব্যক্তিগতভাবে কাজ করছেন বলে জানিয়েছেন প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরী।
মন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরী বলেন:
“প্রকৃতির কন্যা জাফলং, বিছনাকান্দি, কোম্পানীগঞ্জের সাদা পাথর, লালাখাল—এসব স্থানে প্রচুর ভিজিটরস আসেন। সেখানে কঠোর নজরদারি রাখা হচ্ছে এবং পর্যাপ্ত নিরাপত্তার ব্যবস্থা করা হয়েছে, যাতে কোনো পর্যটক কোনো ধরনের অসুবিধার সম্মুখীন না হন।”
ভ্রমণপিয়াসীদের মতে, প্রাকৃতিক সৌন্দর্যে ভরপুর এই জনপদকে আন্তর্জাতিক মানের পর্যটন কেন্দ্রে রূপ দিতে এখন প্রয়োজন দীর্ঘমেয়াদি ও পরিকল্পিত উদ্যোগ, উন্নত যোগাযোগ ব্যবস্থা এবং আধুনিক নাগরিক সুযোগ-সুবিধা।