
সিলেটে ধর্ষণের পর নৃশংস হত্যাকাণ্ডের শিকার হওয়া শিশু ফাহিমার পরিবারের পাশে দাঁড়াতে আজ মঙ্গলবার তাঁর বাড়িতে যাচ্ছেন সংসদের বিরোধীদলীয় নেতা ও বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমীর ডা. শফিকুর রহমান। আজ সকাল ১১টায় সিলেট সদর উপজেলার সোনাতলা গ্রামে ফাহিমাদের বাড়িতে তাঁর যাওয়ার কথা রয়েছে।
এর আগে, সিলেট সফরে অংশ নিতে তিনি সোমবার রাত ৯টায় ইউএস বাংলার একটি ফ্লাইটে সিলেটে এসে পৌঁছান। বিমানবন্দর থেকে সরাসরি রাত ১০টায় তিনি নগরীর সোবহানীঘাটস্থ সিলেট ইবনে সিনা হাসপাতালে যান এবং সেখানে চিকিৎসাধীন প্রবীণ জামায়াত নেতা ও সাবেক এমপি অধ্যক্ষ মাওলানা ফরিদ উদ্দিন চৌধুরীকে দেখতে যান।
সিলেট সফরকালে আজ মঙ্গলবার (২ জুন) জামায়াত আমীরের দিনভর বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ কর্মসূচি রয়েছে। সকাল সাড়ে ৯টায় তিনি নগরীর একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান মিলনায়তনে বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রশিবির আয়োজিত সভায় যোগদান করেন। এরপর সকাল ১১টায় সোনাতলা গ্রামে নিহত শিশু ফাহিমার বাড়িতে গিয়ে শোকসন্তপ্ত পরিবারকে সান্ত্বনা ও সমবেদনা জানাবেন।
দিনের অন্যান্য কর্মসূচির মধ্যে রয়েছে— বেলা ১২টায় সিলেট উইমেন্স মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের কর্মকর্তাদের সাথে মতবিনিময়, বিকেল ৫টায় শাহী ঈদগাহস্থ জেলা শিল্পকলা একাডেমী মিলনায়তনে জামায়াত আয়োজিত সুধী সমাবেশে যোগদান এবং সন্ধ্যা ৭টায় নগরীর বন্দরবাজারস্থ জামায়াত কার্যালয়ে জেলা ও মহানগর জামায়াত নেতৃবৃন্দের সাথে মতবিনিময় সভায় অংশগ্রহণ। সফর শেষে আজ রাত ১০টায় ইউএস বাংলার একটি ফ্লাইটে ওসমানী বিমানবন্দর থেকে ঢাকার উদ্দেশ্যে তাঁর সিলেট ত্যাগ করার কথা রয়েছে।
উল্লেখ্য, গত ৬ মে নিজ বাড়ি থেকে নিখোঁজ হয় শিশু ফাহিমা। এর দুদিন পর, ৮ মে বাড়ির পাশের একটি ডোবা থেকে ফাহিমার মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। পরবর্তীতে ১১ মে রাতে ফাহিমাকে হত্যার অভিযোগে তাঁর প্রতিবেশী চাচা জাকির হোসেনকে (৩০) গ্রেপ্তার করা হয়। গ্রেপ্তারের পর পুলিশের কাছে ও আদালতে ১৬৪ ধারায় ঘটনার লোমহর্ষক বর্ণনা দেয় ঘাতক জাকির।
গত ১২ মে এক সংবাদ সম্মেলনে সিলেট মহানগর পুলিশের উপকমিশনার (উত্তর) মোহাম্মদ সাইফুল ইসলাম জানান, ৬ মে সকালে ফাহিমাকে একটি দোকান থেকে সিগারেট এনে দিতে পাঠায় জাকির। শিশুটি সিগারেট এনে দেওয়ার পর নিজের ঘরে কোনো লোক না থাকার সুযোগে তাকে ভেতরে ডেকে নেয় সে। ঘরের দরজা বন্ধ করে শিশুটিকে ধর্ষণের চেষ্টা করা হয়। তবে ধর্ষণ সংঘটিত হয়েছিল কি না, তা মেডিকেল রিপোর্ট পাওয়ার পর নিশ্চিত হওয়া যাবে বলে জানায় পুলিশ।
পুলিশের দাবি অনুযায়ী, ধস্তাধস্তির একপর্যায়ে শিশুটি অজ্ঞান হয়ে গেলে তাকে গলা টিপে হত্যা করা হয়। এরপর মরদেহ প্রথমে ঘরের ভেতরে একটি ব্রিফকেসে লুকিয়ে রাখা হয়। এলাকায় ফাহিমাকে খোঁজাখুঁজি শুরু হলে লাশটি সরিয়ে খাটের নিচে রাখা হয়। পরে সেখান থেকে দুর্গন্ধ বের হতে শুরু করলে গভীর রাতে পাশের একটি ডোবায় ফেলে দেওয়ার চেষ্টা করা হয়। কিন্তু মরদেহ পানিতে না ডোবায় সেখানেই রেখে পালিয়ে যায় অভিযুক্ত জাকির। পুলিশ ইতোমধ্যে অভিযুক্তের দেখানো স্থান থেকে হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত চাদর ও ব্রিফকেস আলামত হিসেবে জব্দ করেছে।