
পুলিশের মধ্যখানে ছিনতাইকারী সুমন, ইনসেটে কিশোরগ্যাং সদস্য। ছবি কোলাজ : আমার সিলেট
সিলেটে ধারালো চাকুসহ ৭ মামলার আসামি এক চিহ্নিত ছিনতাইকারী এবং মারামারি ও হত্যাচেষ্টা মামলার এজাহারনামীয় এক কিশোর গ্যাং সদস্যকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। কতোয়ালি ও জালালাবাদ থানা পুলিশের পৃথক অভিযানে তাদের আটক করা হয়।
নগরীর সুরমা পয়েন্ট এলাকা থেকে ধারালো চাকুসহ সুমন আহমদ (২৩) নামে এক চিহ্নিত ছিনতাইকারীকে গ্রেপ্তার করেছে কোতোয়ালী মডেল থানা পুলিশ। গ্রেপ্তারকৃত সুমন ছিনতাইয়ের পাশাপাশি সিলেটে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনে সাধারণ শিক্ষার্থীদের ওপর হামলার ঘটনায় দায়েরকৃত মামলার একজন তদন্তাধীন সন্দেহভাজন (সন্দিগ্ধ) আসামি।
গত শুক্রবার (৫ জুন) সকাল আনুমানিক সাড়ে ৬টার দিকে কোতোয়ালী মডেল থানার উপপরিদর্শক (এসআই) মো. সোলায়মান মিয়া সঙ্গীয় ফোর্সসহ সুরমা পয়েন্ট এলাকায় অভিযান চালিয়ে তাকে গ্রেপ্তার করেন। এ সময় তার কাছ থেকে ছিনতাইয়ের কাজে ব্যবহৃত একটি ধারালো চাকু উদ্ধার করা হয়।
গ্রেপ্তারকৃত সুমন নেত্রকোনা জেলার মদন থানার ত্রিপন (জয় বাংলাবাজার) গ্রামের হেলাল মিয়ার ছেলে। বর্তমানে সে সিলেট নগরীর শামীমাবাদ আবাসিক এলাকার লিচু মিয়ার কলোনিতে বসবাস করে আসছিল।
পুলিশের ‘ক্রাইম ডাটা ম্যানেজমেন্ট সিস্টেম’ (সিডিএমএস) পর্যালোচনা করে দেখা গেছে, সুমনের বিরুদ্ধে কোতোয়ালী মডেল থানায় হত্যাচেষ্টা, ছিনতাই ও বৈষম্যবিরোধী আন্দোলনে হামলা সংক্রান্ত আরও ৭টি মামলা রয়েছে [মামলা নম্বর যথাক্রমে: ১৪(০৪)২০১৫, ৪৫(১০)২০২২, ০৯(০৮)২০২৪, ১১(০৭)২০২৪, ৫২(০১)২০২৫, ৪২(০১)২০২৫ এবং ০৩(০২)২০২৫]।
এদিকে মহানগরীর জালালাবাদ থানা পুলিশের আরেকটি দল অভিযান চালিয়ে মো. মোস্তফা (২০) নামে এক সক্রিয় কিশোর গ্যাং সদস্যকে গ্রেপ্তার করেছে। সে জালালাবাদ থানায় দায়েরকৃত একটি সংঘাত ও গুরুতর জখম মামলার এজাহারনামীয় আসামি।
গত শুক্রবার (৫ জুন) বিকেল আনুমানিক সাড়ে ৫টার দিকে জালালাবাদ থানার উপপরিদর্শক (এসআই) রিয়াজ আহম্মদ সঙ্গীয় অফিসার ও ফোর্সসহ পাঠানটুলা এলাকায় অভিযান চালিয়ে তাকে গ্রেপ্তার করেন। গ্রেপ্তারকৃত মোস্তফা পাঠানটুলা (রাগিব-রাবেয়া মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল সংলগ্ন) এলাকার মোশারফের ছেলে।
পুলিশ জানায়, গত ২১ মে জালালাবাদ থানায় দায়েরকৃত একটি মামলা নং-২১ (ধারা: ১৪৩/৩৪১/৩২৩/৩২৪/৩২৬/৩০৭/৫০৬(২)/১১৪ পেনাল কোড) এর এজাহারনামীয় আসামি হিসেবে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়। তার বিরুদ্ধে এলাকায় দলবদ্ধ হয়ে মারামারি, ধারালো অস্ত্র দিয়ে গুরুতর জখম ও হত্যাচেষ্টার অভিযোগ রয়েছে।
সিলেট মেট্রোপলিটন পুলিশ (এসএমপি) জানায়, নগরবাসীকে ছিনতাইকারী, কিশোর গ্যাং এবং চিহ্নিত অপরাধীদের উৎপাত থেকে মুক্ত রাখতে পুলিশের এই চিরুনি অভিযান ও কঠোর নজরদারি অব্যাহত থাকবে।