
রাজধানীর পল্লবীতে শিশু রামিসাকে ধর্ষণের পর নৃশংসভাবে হত্যার ঘটনায় দেয়া আদালতের রায় ৩ মাসের মধ্যে কার্যকর করা সম্ভব বলে জানিয়েছেন আইনমন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামান। তিনি বলেছেন, ‘বিচারিক ও আপিল সংক্রান্ত প্রয়োজনীয় প্রক্রিয়া দ্রুত সম্পন্ন করা গেলে নির্ধারিত সময়ের মধ্যেই রায় কার্যকর করা সম্ভব হবে।’
রোববার সচিবালয়ে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে আইনমন্ত্রী বলেন, ‘আলোচিত এ হত্যাকাণ্ডকে সরকার সর্বোচ্চ গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করছে। দ্রুত বিচার নিশ্চিত করতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে। আইনের সব ধাপ অনুসরণ করেই রায় কার্যকরের উদ্যোগ নেয়া হবে।’
তিনি বলেন, ‘দ্রুততম সময়ে বিচার সম্পন্ন করতে সক্ষম হয়েছি। বাংলাদেশে এ ধরনের মামলার বিচারে এটি একটি নজির। ঘোষিত শাস্তিতে আমরা সন্তুষ্ট। উচ্চ আদালতেও এ রায় বহাল থাকবে বলে আশা করছি।’
আইনমন্ত্রী আরও বলেন, ‘রামিসা হত্যা মামলার পাশাপাশি আসিয়া, রাকিবসহ অপেক্ষমাণ অন্যান্য স্পর্শকাতর মামলাগুলোর বিচারও দ্রুত নিষ্পত্তির উদ্যোগ নেয়া হবে।’
তিনি বলেন, ‘‘শিশুদের বিরুদ্ধে সংঘটিত অপরাধের ক্ষেত্রে সরকার ‘জিরো টলারেন্স’ নীতি অনুসরণ করছে। এ ধরনের নৃশংস ঘটনার পুনরাবৃত্তি রোধে কঠোর আইন প্রয়োগের পাশাপাশি জনসচেতনতা বৃদ্ধির দিকেও গুরুত্ব দেয়া হচ্ছে।’’
এর আগে শিশু রামিসাকে ধর্ষণের পর হত্যা মামলায় প্রধান আসামি সোহেল রানা ও তার স্ত্রী স্বপ্না খাতুনকে মৃত্যুদণ্ড দেন আদালত। ঢাকার মহানগর শিশু সহিংসতা দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক মাসরুর সালেকীন রোববার এ রায় ঘোষণা করেন।
সোহেল রানাকে ৫ লাখ টাকা ও স্বপ্নাকে ২ লাখ টাকা জরিমানা করেছেন আদালত। বহুল আলোচিত এ মামলার রায়ে সন্তোষ প্রকাশ করেছেন রামিসার পরিবারের সদস্যরা। তারা দ্রুত রায় কার্যকরের দাবি জানিয়েছেন।