
ফুটবল বিশ্বকাপ বাংলাদেশের কাছে এক অলীক কল্পনা। স্বপ্ন সাজিয়েও স্বপ্ন থেকে দূর বহুদূরে লাল-সবুজের অবস্থান। আমাদের উচ্ছাস, উন্মাদনা কেবল প্রিয় দলকে সমর্থন জানিয়ে আর জার্সিতে, পতাকায়। তবে বিশ্বকাপে না থেকেও, বিশ্বকাপে না খেলেও প্রায় প্রতিটি বিশ্বকাপে বেশ ভালোভাবেই থাকে বাংলাদেশ! আর সেটি ফিফার অফিসিয়াল জার্সি কিংবা বিশ্বকাপে অংশ নেয়া বিভিন্ন দেশের জার্সি তৈরিতে জড়িয়ে। মেসি, নেইমাররা তাঁদের জার্সির কলার উল্টালেই দেখতে পেতেন সেখানে বাংলাদেশের নাম লেখা! কিন্তু এবার আর সেই গর্ব করার মতো কিছু থাকছে না।
বিশ্বের দ্বিতীয় বৃহত্তম পোষাক রপ্তানিকারক দেশ হয়েও ফিফার অফিসিয়াল জার্সি কিংবা বিশ্বকাপে অংশ নেয়া কোন দেশের জার্সিতেই থাকছে না বাংলাদেশের নাম। এই গৌরবগাঁথায় বাংলাদেশ পিছিয়ে পড়ায় সুযোগটা নিয়েছে দক্ষিণ এশিয়ার অন্য দেশগুলো। বৈশ্বিক পোষাক রপ্তানিতে বাংলাদেশের পেছনে থাকা ভারত, পাকিস্তান, কম্বোডিয়ার মতো দেশ বিশ্বকাপের অফিসিয়াল জার্সি তৈরির কাজ পেয়েছে। তাই বিশ্বকাপের মাঠেই থাকছে এসব দেশের নাম। অন্যদিকে ২০২৬ বিশ্বকাপে বাংলাদেশ থাকছে কেবল দর্শকদের জন্য বানানো ফ্যান জার্সি ও টি-শার্টে।
বিশ্বকাপ ফুটবলে জার্সির বাজার কয়েক বিলিয়ন ডলারের। বৈশ্বিক বাজার গবেষণা প্রতিষ্ঠান গ্লোবাল গ্রোথ ইনসাইটস বিশ্লেষণ করে দেখেছে ২০২৬ ফুটবল বিশ্বকাপে জার্সির বাজারের আকার ৮৩৯ কোটি মার্কিন ডলারের হতে পারে!
ফিফার অফিসিয়াল জার্সি অথবা দলীয় জার্সিতে বাংলাদেশ না থাকলেও বিভিন্ন দেশের ফ্যান জার্সি তৈরিতে আছে বাংলাদেশ। ঢাকা ও চট্রগ্রামের ৩৩টি রপ্তানীমুখী পোষাক প্রস্তুতকারী প্রতিষ্ঠান ১৮টি দেশে পাঠিয়েছে ফ্যান জার্সি। এসব জার্সি ও টি-শার্টের রপ্তানিমূল্য প্রায় ৩৭ লাখ মার্কিন ডলার, যা বাংলাদেশী মুদ্রায় ৪৫ কোটি ১৪ লাখ টাকা। বিশ্বকাপের দুই আয়োজক দেশ যুক্তরাষ্ট্র ও কানাডায় এসব পণ্য রপ্তানি হয়েছে।
এছাড়া যুক্তরাজ্য, জার্মানী, ডেনমার্ক, বেলজিয়াম, স্পেন, নেদারল্যান্ডস, ফিনল্যান্ড, সৌদি আরব, সংযুক্ত আরব আমিরাত ও কাতারেও গেছে বাংলাদেশের তৈরি ফ্যান জার্সি ও টি-শার্ট। বিশ্বখ্যাত প্রতিষ্ঠান ওয়ালমার্ট, নেক্সট, প্রাইমার্ক, পুমা, ওমএ্যান্ডএস, ডিক্যাথলনসহ ৩৬টি প্রতিষ্ঠান এসব পণ্য কিনেছে বাংলাদেশ থেকে। বাংলাদেশ থেকে সবচেয়ে বেশি ফ্যান জার্সি রপ্তানি করেছে চট্রগ্রামের কেডিএস ফ্যাশন। প্রতিষ্ঠানটি কানাডা ও যুক্তরাজ্যে প্রায় ৫ লাখ ৪৮ হাজার পিস জার্সি ও টি-শার্ট রপ্তানি করেছে, যার মূল্য সাড়ে ১২ লাখ ডলার।