বলিউডের আলোচিত গায়ক বাদশাহ বরাবরই ব্যক্তিগত জীবন নিয়ে খুব একটা মুখ খোলেন না। ক্যারিয়ারের শুরু থেকেই আলোচনায় থেকেছেন তাঁর গান, বিতর্ক এবং বিলাসবহুল জীবনযাপন নিয়ে। কিন্তু সম্প্রতি তাঁর ব্যক্তিগত জীবনের একটি খবর ভক্তদের মধ্যে ব্যাপক কৌতূহল তৈরি করেছে। বহুদিনের গুঞ্জনের অবসান ঘটিয়ে অবশেষে তাঁর স্ত্রী হিসেবে নিজের পরিচয় প্রকাশ করেছেন পাঞ্জাবি অভিনেত্রী ইশা রিখি।

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে একটি সাধারণ পোস্ট থেকেই শুরু হয় আলোচনা। ‘পতিদেব’ সম্বোধন করে বাদশাহর সঙ্গে একটি ছবি শেয়ার করেন ইশা। এরপর আর কোনো আনুষ্ঠানিক ঘোষণা না এলেও ভক্তদের কাছে পরিষ্কার হয়ে যায়, দীর্ঘদিনের প্রেমের সম্পর্ক শেষ পর্যন্ত বিয়েতে গড়িয়েছে। কিন্তু কে এই ইশা রিখি? কীভাবে তিনি পাঞ্জাবি চলচ্চিত্রের পরিচিত মুখ হয়ে উঠলেন? আর কীভাবেই বা বাদশাহর জীবনের অংশ হয়ে উঠলেন তিনি?

মডেলিং থেকে অভিনয়ে
১৯৯৩ সালে চণ্ডীগড় শহরে জন্মগ্রহণ করেন ইশা রিখি। বাবা প্রদীপ কুমার রিখি ও মা পুনম রিখির পরিবারে বেড়ে ওঠা ইশার শোবিজে আসার গল্পটা বেশ মজার। এক সাক্ষাৎকারে তিনি জানিয়েছিলেন, ছোটবেলায় অভিনয় করার কোনো স্বপ্ন ছিল না তাঁর। বরং মডেলিংয়ের প্রতি আগ্রহ ছিল পরিবারের। বিশেষ করে তাঁর বাবা চেয়েছিলেন মেয়েকে একজন সফল মডেল হিসেবে দেখতে। সেই সূত্র ধরেই বিনোদনজগতে প্রবেশ।

মডেলিংয়ের কাজ করতে করতেই অভিনয়ের প্রস্তাব আসে। প্রথমে দ্বিধা থাকলেও পরে অভিনয়ের প্রতি ভালোবাসা জন্ম নেয়। এরপর আর পেছনে ফিরে তাকাতে হয়নি।

‘জাট অ্যান্ড জুলিয়েট’ থেকে নায়িকা
পাঞ্জাবি সিনেমার ইতিহাসে অন্যতম জনপ্রিয় চলচ্চিত্র ‘জাট অ্যান্ড জুলিয়েট’-এ ছোট একটি উপস্থিতির মাধ্যমে দর্শকের নজরে আসেন ইশা।
এরপর ২০১৩ সালে ‘জাট বয়েজ পুত জাট দে’ ছবিতে অভিনেতা সিপ্পি গিলের বিপরীতে প্রথম বড় চরিত্রে অভিনয়ের সুযোগ পান।

সেই ছবির সাফল্য তাঁর ক্যারিয়ারের মোড় ঘুরিয়ে দেয়। পরবর্তী সময়ে একের পর এক পাঞ্জাবি সিনেমায় অভিনয় করে নিজস্ব অবস্থান তৈরি করেন তিনি। তাঁর উল্লেখযোগ্য ছবির মধ্যে রয়েছে ‘হ্যাপি গো লাকি’, ‘হোয়াট দ্য জ্যাট!!’, ‘দেশি মুন্ডে’, ‘আরদাস’ ইত্যাদি।

এ ছাড়া অনেক মিউজিক ভিডিওতেও কাজ করেছেন তিনি। পাঞ্জাবি বিনোদন অঙ্গনে তাঁর জনপ্রিয়তা ধীরে ধীরে বাড়তে থাকে।

বলিউডে পা
পাঞ্জাবি ইন্ডাস্ট্রিতে প্রতিষ্ঠা পাওয়ার পর বলিউডেও সুযোগ আসে ইশার। ২০১৮ সালে মুক্তিপ্রাপ্ত ‘নওয়াবজাদে’ ছবির মাধ্যমে বলিউডে অভিষেক ঘটে তাঁর। ছবিটিতে অভিনয় করেছিলেন রাঘব জুয়াল ও পুনিশ পাঠক। তখন অবশ্য কেউ ভাবেনি, কয়েক বছর পর সেই বাদশাহই তাঁর জীবনের সঙ্গী হয়ে উঠবেন।

চার বছরের প্রেম
ভারতীয় গণমাধ্যমের বিভিন্ন প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, প্রায় চার বছর ধরে সম্পর্কে ছিলেন বাদশাহ ও ইশা। তাঁদের প্রথম পরিচয় হয়েছিল একটি পার্টিতে। সেখান থেকেই বন্ধুত্ব, পরে প্রেম। তবে সম্পর্কের পুরো সময়টাই তাঁরা মিডিয়ার নজর থেকে দূরে রেখেছিলেন। অন্য অনেক তারকা জুটির মতো সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে একসঙ্গে ছবি দেওয়া বা প্রকাশ্যে প্রেমের কথা বলার পথ বেছে নেননি তাঁরা। বরং ব্যক্তিগত জীবনকে ব্যক্তিগতই রাখতে চেয়েছেন।

বাদশাহ। গায়কের ইনস্টাগ্রাম থেকে
বাদশাহ। গায়কের ইনস্টাগ্রাম থেকে

গোপন বিয়ে, প্রকাশ্যে স্বীকৃতি
বিয়ের গুঞ্জন শুরু হয়েছিল অনেক আগেই। চলতি বছরের মার্চে ইশার মা পুনম রিখি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে কয়েকটি ছবি ও ভিডিও শেয়ার করেন, যেখানে বিয়ের পোশাকে দেখা যায় ইশা ও বাদশাহকে। ভিডিওতে তাঁদের বিয়ের নানা আচার-অনুষ্ঠানও দেখা যায়। যদিও তখনো কেউ সরাসরি বিয়ের বিষয়টি নিশ্চিত করেননি। অবশেষে ইনস্টাগ্রামের ‘আস্ক মি অ্যানিথিং’ সেশনে এক ভক্তের প্রশ্নের জবাবে ইশা জানান, তিনি বিবাহিত।

আর সেখানেই মজার ছলে তিনি লিখেছিলেন, ‘হ্যাঁ, আমি বিবাহিত। তবে সবচেয়ে বেশি জিজ্ঞাসিত প্রশ্ন হলো—আমরা একে অপরকে ফলো করি না কেন? এই প্রশ্নের উত্তর আমার স্বামীকেই দিতে হবে।’ ‘পতিদেব’ শব্দটি ব্যবহার করার পর আর কোনো সন্দেহের অবকাশ থাকেনি।

ইশা রিখি। অভিনেত্রীর ইনস্টাগ্রাম থেকে
ইশা রিখি। অভিনেত্রীর ইনস্টাগ্রাম থেকে

বাদশাহর দ্বিতীয় সংসার
এটি বাদশাহর দ্বিতীয় বিয়ে। এর আগে জেসমিন ম্যাসিহর সঙ্গে বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ হয়েছিলেন তিনি। তবে ২০২০ সালে তাঁদের বিচ্ছেদ ঘটে।
সাবেক এই দম্পতির একটি কন্যাসন্তান রয়েছে—জেসি গ্রেস ম্যাসিহ সিং। বিচ্ছেদের পরও মেয়ের দায়িত্ব দুজনই ভাগাভাগি করে পালন করছেন।

বিচ্ছেদের পর দীর্ঘ সময় বাদশাহ ব্যক্তিগত জীবন নিয়ে কোনো মন্তব্য করেননি। সেই নীরবতার মধ্যেই তাঁর জীবনে আসেন ইশা রিখি।

ভারতের সংগীতজগতে বাদশাহর জনপ্রিয়তা যেমন আকাশছোঁয়া, তেমনি পাঞ্জাবি চলচ্চিত্র অঙ্গনে ইশা রিখিরও রয়েছে নিজস্ব পরিচিতি। ফলে তাঁদের বিয়ের খবর প্রকাশ্যে আসার পর থেকেই ভক্তদের আগ্রহ তুঙ্গে। যদিও বাদশাহ এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে বিয়ে নিয়ে কোনো বক্তব্য দেননি, তবু ইশার স্বীকারোক্তির পর এ নিয়ে আর খুব বেশি রহস্য নেই।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *