সূচী অনুযায়ী বিশ্বকাপ শুরু হয়েছে ১১ জুন। মেক্সিকো- দক্ষিণ আফ্রিকা উদ্বোধনী ম্যাচের পর খেলা হয়েছে আরো তিনটি। তবু মনে হয় বিশ্বকাপ এখনো শুরুই হয়নি! অনেকের মনের কথাটাই বলে দিলাম কিন্তু। ব্রাজিল- আর্জেন্টিনা না নামলে বিশ্বকাপ পূর্ণতা পায় কি করে। অপেক্ষা, পূর্ণতার অবসান হতে যাচ্ছে আজ রাত পেরিয়ে ভোরে। সূর্যের আলো দেখা দেয়ার আগেই বাংলাদেশ সময় ৪টায় মরক্কোর বিপক্ষে নিউজার্সির মেটলাইফ স্টেডিয়ামে গ্রুপ পর্বে নিজেদের প্রথম ম্যাচ খেলতে নামবে ব্রাজিল। এ পর্যন্ত বিশ্বকাপের প্রথম পর্বের ৪টি খেলা হয়েছে। চার ম্যাচে গোলও হয়েছে ১২টি। কিন্তু বিশ্বকাপের আসল যে রুপ, সুন্দর ফুটবলের প্রদর্শনী দেখেনি মানুষ। মরক্কো- দক্ষিণ আফ্রিকা উদ্বোধনী ম্যাচ তো লাল কার্ডের বিজ্ঞাপন! টরন্টোর উদ্বোধনী মঞ্চে কানাডা- বসনিয়ার বিরক্তিকর ফুটবল। ফুটবল বলতে যা বোঝায় তার কিছুটা ছিল যুক্তরাষ্ট্র- প্যারাগুয়ে, দক্ষিণ কোরিয়া- চেক প্রজাতন্ত্র ম্যাচে। তবু এই ম্যাচ দুটিও মানুষের মন ভরাতে পারেনি। টিকিটের অগ্নিমূল্যে ডলার বিলিয়ে দিয়ে কিংবা রাত জেগে টেলিভিশনের পর্দায় চোখ রেখে ফুটবলে পাগল মানুষ দেখতে চায় ছন্দময় ফুটবল, কারও অতিমানবীয় কিছু। যার শুরু হয়ত হতে যাচ্ছে রোববার ভোর থেকে। ব্রাজিল মাঠে নামতে আর কয়েক ঘন্টার অপেক্ষা। আগামীকাল বিশ্বকাপ শুরু করবে জার্মানী, ১৫ জুন নেদারল্যান্ডস, ১৬ জুন স্পেন, ফ্রান্স, ১৭ জুন আর্জেন্টিনা। মাঠের উত্তাপ, গ্যালারীর উন্মাদনা, বাণিজ্যের বাজারের আসল রঙ তো শুরু কাল থেকে।

ব্রাজিল-মরক্কো ম্যাচকে ধরা হচ্ছে এই বিশ্বকাপে গ্রুপ পর্বের সবচেয়ে আকর্ষণীয় ম্যাচ। ফিফার অবস্থান তালিকায় দুই দলের প্রায় কাছাকাছি থাকা, সাম্প্রতিক ফর্ম, বহু তারকা মিলিয়ে এই ম্যাচের ওজন অনেক ভারী। সর্বশেষ তিন প্রীতি ম্যাচের তিনটিতেই জিতেছে মার্কিনুইসের ব্রাজিল। অন্যদিকে গত বিশ্বকাপের সেমিতে খেলা মরক্কো টানা ২৮ ম্যাচে অপরাজিত! দুই দলের বর্তমান শক্তি বুঝাতে এই তথ্য দুটিই যথেষ্ট। আগুনে এক ম্যাচই হওয়ার কথা। তবে মরক্কো শিবিরে ইনজুরির থাবা কিছুটা হলেও ব্রাজিলের বিপক্ষে পিছিয়ে রাখছে তাঁদের। এদিকে ব্রাজিল যার পায়ে ভরসা খুঁজছে সেই নেইমার আছেন ইনজুরিতে। ক্যারিয়ার জুড়ে ইনজুরিই যার নিয়তি সেই নেইমারকে বিশ্বকাপে নিয়ে এসেছে ব্রাজিল। তবে মরক্কোর বিপক্ষে বিগ ম্যাচে খেলতে পারছেন না সেলেসাওদের তারকা এই ফুটবলার। গেল পাঁচ বিশ্বকাপেই ব্যর্থ ব্রাজিল অবশ্য প্রেরণা খুঁজবে বিশ্বকাপে তাঁদের রেকর্ড পাঁচ শিরোপা আর ১৯৯৪ বিশ্বকাপের স্মৃতিতে। ১৯৭০ থেকে ১৯৯৪, ২৪ বছরের হতাশা ভুলে যুক্তরাষ্ট্রে এসে চতুর্থ বিশ্বকাপ ট্রফির দেখা পায় ব্রাজিল। এরপর ২০০২ বিশ্বকাপেও চ্যাম্পিয়ন হয় তাঁরা। ২০০২ থেকে ২০২৬, আবারও ২৪ বছরের হিসেব! বিশ্বকাপের ভেন্যুও ফিরে এসেছে যুক্তরাষ্ট্রে! রোমারিও, বেবেতো, রোনালদোদের মতো ইতিহাস ডাকছে ভিনিসিয়াস, কাসেমিরো, নেইমারদের। সেই ডাক তাঁরা শুনতে পেলেই এবার পুরন হতে পারে হেক্সা জয়ের স্বপ্ন। সেই স্বপ্নের পথে আজ ব্রাজিলের প্রথম পরীক্ষা মরক্কো। ব্রাজিলের কাছে মরক্কো অবশ্য পরীক্ষা হওয়ার কথা নয়। বিশ্বকাপে একবারই মুখোমুখি হয়েছিল দুই দল। ১৯৯৮ বিশ্বকাপের সেই ম্যাচ ব্রাজিল জিতেছিল ৩-০ গোলে। তবে দিল বদলেছে, ফুটবলে ল্যাটিনের একক আধিপত্যে এখন ইউরোপ বড় চ্যালেঞ্জ। আফ্রিকা, এশিয়াও মাঝেমধ্যে ব্রাজিল-আর্জেন্টিনাকে চোখ রাঙায়! মরক্কো আফ্রিকার এমনই এক প্রতিনিধি। যাদের কাছে গত বিশ্বকাপটা প্রেরণা হয়ে কাজ করছে। কাতার বিশ্বকাপে স্পেনকে হারিয়ে, পর্তুগালকে দেশের টিকিট ধরিয়ে সেমিফাইনালে উঠে বিশ্বকে চমকে দেয় মরক্কো। এখন তো ফর্মের আরো তুঙ্গে আশরাফ হাকিমির দল। টানা ২৮ ম্যাচে অপরাজিত থেকেই ব্রাজিলের বিপক্ষে মাঠে নামছে তাঁরা। তবে কি রোববার হবে ব্রাজিলের ধরা খাওয়ার দিন? নাকি সাম্বায় থামবে মরক্কোর জয়রথ? উত্তর জানতে আজ রাতটা জাগুন, না হয় আগে ঘুমিয়ে উঠে পড়ুন ভোর ৪টার আগে!

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *