চায়ের রাজধানী খ্যাত ও পর্যটন নগরী মৌলভীবাজারের শ্রীমঙ্গলে অবস্থিত দেশের অন্যতম বৃহৎ হোটেল গ্র‍্যান্ড সুলতান টি-রিসোর্ট এন্ড গলফ হোটেলকে পরিবেশগত শর্তভঙ্গ করে প্রতিষ্ঠান পরিচালনা করায় এক লক্ষ টাকা জরিমানা করা হয়েছে।

সোমবার (১৫ জুন) দুপুরে পরিবেশ অধিদপ্তর, সিলেট বিভাগীয় কার্যালয় থেকে জারি করা এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।

সিলেটের বিভিন্ন এলাকার ১৩টি প্রতিষ্ঠানকে মোট ৪ লাখ ১৭ হাজার টাকা জরিমানা করেছে পরিবেশ অধিদপ্তর।

পরিবেশ সংরক্ষণ আইন, ১৯৯৫ (সংশোধিত- ২০১০) এর সংশ্লিষ্ট ধারার আলোকে পরিচালিত এই এনফোর্সমেন্ট অভিযানে নেতৃত্ব দেন অধিদপ্তরের কর্মকর্তারা। বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, দীর্ঘদিন ধরে আইন অমান্য করায় এবং পরিবেশগত ছাড়পত্রের শর্তভঙ্গ করায় এই আর্থিক দণ্ড প্রদান করা হয়েছে।

পরিবেশ অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, নিত্যদিনের বর্জ্য পণ্য ও জলকে দূষণমুক্ত করতে এসটিপি (স্যুয়ারেজ ট্রিটমেন্ট প্ল্যান্ট) না থাকায় ‘গ্র‍্যান্ড সুলতান টি রিসোর্ট অ্যান্ড গলফ হোটেলকে (১ লাখ টাকা), ছারপত্রের শর্তভঙ্গে স্টার পোরসেলিন লিঃ (২ লাখ টাকা) ও ম্যাটাডোর প্লাস্টিক অ্যান্ড রাবার ইন্ডাস্ট্রিজ লিঃ (১ লাখ টাকা) জরিমানা করা হয়।

এছাড়াও ছাড়পত্র বা নবায়ন না থাকায় আধুনিক ডায়াগনস্টিক সেন্টার (২০ হাজার), হেলদি চয়েজ ফুড অ্যান্ড বেভারেজ লিঃ (১০ হাজার), নিউ অ্যাপোলো ক্লিনিক অ্যান্ড ডায়াগনস্টিক সেন্টার (৫ হাজার), নোভা মাল্টিকেয়ার ডায়াগনস্টিক সেন্টার (৮ হাজার), সিটি আই কেয়ার হসপিটাল অ্যান্ড ফ্যাকো সেন্টার (১০ হাজার), নিরাময় ডিজিটাল ডায়াগনস্টিক অ্যান্ড কনসালটেশন সেন্টার (৬ হাজার), লাইফ লাইন ব্লাড ব্যাংক (৫ হাজার), মেডিসিতি বিয়ানীবাজার (৮ হাজার), চাতকের মো: আলী আলম কর্তৃক পরিচালিত স’মিল (৫ হাজার) এবং সিলেট গ্যাস্ট্রোলেভার হসপিটালকে ২০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়েছে।

পরিবেশ অধিদপ্তরের সিলেট বিভাগীয় কার্যালয়ের পরিচালক মো: আবুল কালাম আজাদ স্বাক্ষরিত ওই বিজ্ঞপ্তিতে স্পষ্টভাবে বলা হয়েছে, পরিবেশগত ছাড়পত্র ছাড়া কোনো অবস্থাতেই বাণিজ্যিক বা শিল্প কার্যক্রম পরিচালনা করা যাবে না। ছাড়পত্রের শর্ত ভঙ্গ করা বা সময়মতো নবায়ন না করা আইনত দণ্ডনীয় অপরাধ।

বিজ্ঞপ্তিতে আরও উল্লেখ করা হয়, জরিমানাকৃত এই প্রতিষ্ঠানগুলো যেন দ্রুত সময়ের মধ্যে তাদের প্রয়োজনীয় কাগজপত্র নবায়ন করে এবং পরিবেশের সুরক্ষা নিশ্চিত করে। অন্যথায়, পরবর্তীতে আইন অমান্য করলে প্রতিষ্ঠানগুলোর বিরুদ্ধে কঠোর আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে, যার মধ্যে কার্যক্রম সিলগালা বা সংশ্লিষ্ট আইনি প্রক্রিয়ায় তাদের জবাবদিহিতার আওতায় আনা হতে পারে।

এ ব্যাপারে গ্র্যান্ড সুলতানের মহাব্যবস্থাপক (জিএম) আরমান খানের সঙ্গে বাংলাবাজার পত্রিকার প্রতিবেদকের সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, পরিবেশ দূষন রোধ করার জন্য আমরা যথা সময়ে এসটিপি (স্যুয়ারেজ ট্রিটমেন্ট প্লান্ট) বসাতে পারিনি তাই পরিবেশ অধিদপ্তর এই জরিমানা করে। ইতিমধ্যে আমাদের এসটিপি বসানো হয়েছে। ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের কারণে আমাদের এসটিপি বসাতে দেরি হয়েছে বলে তিনি জানান।

স্থানীয় পরিবেশকর্মীরা প্রশাসনের এই উদ্যোগকে স্বাগত জানিয়েছেন। তারা মনে করছেন, নিয়মিত এমন এনফোর্সমেন্ট ড্রাইভ বা অভিযান পরিচালিত হলে সিলেটে অপরিকল্পিত শিল্পায়ন ও পরিবেশ দূষণ নিয়ন্ত্রণে আসবে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *