
ছবিতে নিথর হয়ে থাকা কন্যা শিশুটির নাম রিক্তা। মাত্র ৯/১০ বছর বয়স। মেয়েটির গ্রামের বাড়ি সিলেটে। গরিব ঘরে তারা ৪ বোন।
কিছুদিন আগে ঢাকায় তাকে ৪ হাজার টাকা বেতনে কাজের জন্য দেওয়া হয়। সরকারের ঊর্ধ্বতন এক কর্মকর্তা, পানি উন্নয়ন বোর্ডের অতিরিক্ত প্রধান প্রকৌশলীর বাসায়।
কোরবানির ঈদের মাত্র ১৫ দিন আগে কাজে এসেছিল মেয়েটি। দিন কয়েক আগে মেয়েটি মায়ের কাছে ফোন দিয়ে কান্নাকাটি করে। জানায়, সে আর ওই বাসায় কাজ করবে না।
মেয়ের মা মেয়েটিকে নিয়ে যেতে চাইলে সেই ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তার স্ত্রী জানিয়ে দেন যে ব্যক্তির মাধ্যমে মেয়েটিকে কাজে রেখেছেন তাকে ১০ হাজার টাকা দিয়েছেন তিনি।
ওই ১০ হাজার টাকা দিয়ে পরে মেয়ে নিতে হবে। কিন্তু চার কন্যার জননী যে মা শিশু কন্যাকে মাত্র চার হাজার টাকা বেতনে ঢাকায় পাঠিয়েছেন সে ১০ হাজার টাকা কই পাবে?
আজ সে মেয়েটি ভোর ৬ টার দিকে ধানমন্ডির ১৫ নম্বর সড়কের ৯এ-এর ৩৭ নম্বর বাড়ির দশ তলা থেকে পরে মরে গেছে।
সিকিউরিটি গার্ড যখন শব্দ শুনে মেয়েটিকে গিয়ে দেখতে পায়, তখন তার হাত ছিড়ে গেছে এবং সেখান থেকে রক্ত ঝরছে। দ্রুত রিকশায় করে নিয়ে প্রথমে ধানমন্ডির ইবনে সিনা ডায়াগনস্টিক সেন্টারে যায় তারা।
সেখান থেকে শংকরে ইবনে সিনা হাসপাতালে। সেখানকার গেটে নেওয়ার পর বাচ্চাটি শেষবারের মতো নিঃশ্বাস নেয়।
মাত্র দশ হাজার টাকার জন্য একটা মেয়ে মরে গেল? মেয়েটি কি পরে গেছে? নাকি ফেলে দেওয়া হয়েছে? এটা কি আত্মহত্যা নাকি খুন?
আত্মহত্যা হলেও তা খুনই, পরে গেলেও তা খুনই। মাত্র ১০ হাজার টাকার জন্য সরকারের একজন অতিরিক্ত প্রধান প্রকৌশলী মেয়েটিকে তার মায়ের কাছে যেতে দেয় নি। লাশ করে ফেরত দিয়েছে।
মেয়ের মা বলেছেন মেয়েটিকে মেরে ফেলা হয়েছে। ১০ হাজার টাকায় তারা মেয়েটির জীবন কিনে নিলো?
ধানমন্ডির দশতলা বাসার গ্যারেজে একটি গাড়িও ছিল না? সেই প্রকৌশলীরও না? হাসপাতালে নেওয়ার জন্য গাড়ি জুটলো না!
ছবিতে মেয়ে আর মেয়ের মা!
এই রাষ্ট্র গরিবের জন্য না! রিক্তার জন্য বিচার এনে কে দেবে?