
সিলেটের জেলা প্রশাসক মোঃ সারওয়ার আলম বলেছেন, কৃষির বহুমুখীকরণ,পুষ্টিসমৃদ্ধ খাদ্য নিশ্চিতকরণ এবং কৃষকের আয় বৃদ্ধিতে ফল চাষ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। ফল মানুষের পুষ্টি চাহিদা পূরণের পাশাপাশি কৃষকের অর্থনৈতিক উন্নয় নেও গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখে। ফলের অপচয় রোধ ও বছরব্যাপী সংরক্ষণ নিশ্চিত করতে আধুনিক প্রযুক্তির ব্যবহার বাড়াতে হবে। একই সঙ্গে প্রতিটি পরিবারকে ফলের গাছ রোপণ এবং নিয়মিত দেশীয় ফল গ্রহণে উদ্বুদ্ধ হতে হবে। জলবায়ু পরিবর্তনের চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় ফলভিত্তিক কৃষি ব্যবস্থার সম্প্রসারণ সময়ের দাবি।
দেশের চলমান জাতীয় ফল মেলা দেশীয় ফলের উৎপাদন বৃদ্ধি, পুষ্টি নিরাপত্তা নিশ্চিতকরণ ও অর্থনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। পুষ্টি সম্পর্কে সচেতনতা বৃদ্ধি, আধুনিক প্রযুক্তির ব্যবহার শেখানো এবং নতুন উদ্যোক্তা ও কৃষক তৈরি করতে কাজ করে। দেশি ও বিদেশি নানা ধরনের প্রচলিত ও অপ্রচলিত ফলের প্রদর্শনীর মাধ্যমে নতুন জাতের ফলের সাথে সাধারণ মানুষের পরিচয় ঘটে। এর মাধ্যমে ফল প্রক্রিয়াজাতকরণ শিল্পের প্রসার, কর্মসংস্থান সৃষ্টি এবং আন্তর্জাতিক বাজারে ফল রপ্তানির মাধ্যমে জাতীয় অর্থনীতিতে অবদান রাখার সম্ভাবনা তৈরি হয়।
তিনি ফলের উৎপাদন বাড়ানোর পাশাপাশি জনগণকে ফল খাওয়ায় অভ্যস্ত করতে সকলের প্রতি আহবান জানান।
তিনি শুক্রবার বিকেলে ‘করব মোরা ফল চাষ, সংরক্ষণ করব বারো মাস’ এই প্রতিপাদ্যকে সামনে রেখে কৃষি সম্প্রসারন অধিদপ্তর সিলেট কতৃক নগরীর ধোপাদিঘীর পার খামারবাড়ীতে আয়োজিত
৩ দিনব্যাপী জাতীয় ফল মেলা ২০২৬ এর আলোচনা সভা ও চারা বিতরণ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন।
কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর সিলেট এর উপ পরিচালক মোঃ শামসুজ্জামানের সভাপতিত্বে আলোচনা সভায় প্রধান বক্তার বক্তব্য রাখেন,কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর সিলেট অঞ্চল সিলেট এর অতিরিক্ত পরিচালক কৃষিবিদ ড. মো. মোশাররফ হোসেন।
অতিরিক্ত উপ পরিচালক (পিপি) মোহাম্মদ আনিছুজ্জামানের পরিচালনায় আলোচনা সভায় বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন, জেলা প্রশিক্ষণ কর্মকর্তা দীপক কুমার দাস,কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর সিলেট এর অতিরিক্ত পরিচালক (শস্য) দেবল সরকার,কৃষি সম্প্রসারন অধিদপ্তর সিলেট এর অতিরিক্ত উপ পরিচালক (উদ্যান) তামান্না নাহার।
আলোচনা সভায় মেট্রোপলিটন কৃষি অফিসার সায়মা নাজমিন,ডিএই সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা, ষ্টল মালিক, কৃষি উদ্দোক্তা, বাগান ও নার্সারি মালিকসহ সাংবাদিকবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।
আলোচনা সভাশেষে প্রধান অতিথি ফল মেলার বিভিন্ন ষ্টল ঘুরে দেখেন এবং প্রনোদনার চারা বিতরণ করেন এবং পরে খামার বাড়ী প্রাঙ্গণে বৃক্ষের চারা রোপন করেন।
কৃষি বিভাগ জানায়, জেলায় দেশিয় ফলের উৎপাদন বৃদ্ধি, পুষ্টি নিরাপত্তা নিশ্চিতকরণ এবং ফল সংরক্ষণে জনসচেতনতা সৃষ্টির লক্ষ্যে জাতীয় ফল মেলার আয়োজন করা হয়েছে। তিন দিনব্যাপী এ মেলা চলাকালে ফল চাষ ও সংরক্ষণ, আধুনিক কৃষি পরামর্শ এবং সচেতনতামূলক বিভিন্ন কার্যক্রম বিষয়ে সরাসরি পরামর্শ প্রদান করা হবে।
এছাড়া মেলার ৬ টি স্টলে বিভিন্ন সরকারি বেসরকারি প্রতিষ্ঠান, কৃষি উদ্যোক্তা এবং ফল চাষিরা দেশীয় ও বিদেশি বিভিন্ন জাতের ফলের চারা ও ফল প্রদর্শন করা হচ্ছে । পাশাপাশি ফল দিয়ে তৈরি বিভিন্ন খাদ্য পণ্য, চারা এবং ফল সংরক্ষণ প্রযুক্তিও প্রদর্শন করা হচ্ছে ।
সিলেট/হা