ভাইকে অপহরণের পর হত‍্যা

মৌলভীবাজারে ক্লুলেস হত্যা মামলার রহস্য উদঘাটন

মৌলভীবাজারে ক্লুলেস হত্যা মামলার রহস্য উদঘাটন

উদঘাটন করেছে মৌলভীবাজার সদর মডেল থানা পুলিশ। জমিজমা সংক্রান্ত দীর্ঘদিনের বিরোধের জেরে থেকে আপন ভাইকে অপহরণ করে হত্যা করার ঘটনায় মূল পরিকল্পনাকারীসহ ৫ জনকে গ্রেফতার করে আদালতে সোপর্দ করা হয়েছে।

গ্রেফতারকৃতরা হলেন নিহত আব্দুল মতিনের আপন ভাই আব্দুল মজিদ, আব্দুল আজিদ, আব্দুল রুফ, বোন আয়েশা আক্তার রত্না এবং আব্দুল মজিদের স্ত্রী তুলি বেগম।

প্রাথমিক তদন্তে জানা যায়, ভিকটিম আব্দুল মতিনের সঙ্গে তার ভাই-বোনদের দীর্ঘদিন ধরে জমিজমা সংক্রান্ত বিরোধ ও মামলা-মোকদ্দমা চলমান ছিল। এই বিরোধের জের ধরে তার ভাই আব্দুল মজিদ হত্যার পরিকল্পনা করে এবং পরিকল্পনা বাস্তবায়নের জন্য লোক নিয়োগ করে। ২৮ জুন তারিখে আব্দুল মতিনের আদালতে সাক্ষ্য দেওয়ার বিষয়টি পূর্ব থেকেই তার জানা ছিল। সেই সুযোগকে কাজে লাগিয়ে পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করা হয়।

ঘটনার দিন আনুমানিক সকাল সাড়ে ৯ ঘটিকায় মৌলভীবাজার সদর উপজেলার শমসেরগঞ্জের দৌলতপুর এলাকার হাজী আব্দুল মন্নান এর পুত্র ভিকটিম আব্দুল মতিন একটি মামলায় সাক্ষ্য দেওয়ার জন্য মৌলভীবাজার আদালতের উদ্দেশ্যে বাড়ি থেকে রওনা হন। এ সময় আব্দুল মজিদের পরিকল্পিত টিম তাকে অনুসরণ করতে থাকে। পরবর্তীতে সুযোগ বুঝে নির্জন স্থানে তাকে জোরপূর্বক একটি গাড়িতে তুলে নিয়ে হাত-পা বেঁধে হত্যা করে এবং মরদেহ সুন্দর মিয়ার পুকুরের দক্ষিণ পাশ সংলগ্ন ঢালের পাকা রাস্তার উপর ফেলে রেখে পালিয়ে যায়।

সন্ধ্যায় আব্দুল মতিন বাড়িতে ফিরে না আসায় তার স্ত্রী লাকি আক্তার শেফা মোবাইল ফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করলে ফোনটি বন্ধ পান। পরে তিনি স্বামীর খোঁজে বের হলে সংবাদ পান যে, তাদের বাড়ির পূর্ব পাশে সুন্দর মিয়ার পুকুরের দক্ষিণ পাশ সংলগ্ন ঢালে পাকা রাস্তার উপর হাত-পা বাঁধা এবং গলায় শার্ট প্যাঁচানো অবস্থায় একজনের মরদেহ পড়ে আছে। ঘটনাস্থলে গিয়ে তিনি তার স্বামী আব্দুল মতিনের মরদেহ শনাক্ত করেন। মরদেহের মাথা ও শরীরের বিভিন্ন স্থানে আঘাতের চিহ্ন ছিল।

সংবাদ পেয়ে মৌলভীবাজার সদর মডেল থানা পুলিশ ২৮ জুন রাত আনুমানিক সাড়ে ঘটিকায় ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয়ে মরদেহ উদ্ধার করে এবং সুরতহাল প্রতিবেদন প্রস্তুত করে। ঘটনাটি এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি করে।

পুলিশ সুপার মোঃ মনিরুল ইসলাম জানান, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ক্রাইম), নোবেল চাকমার তত্ত্বাবধানে এবং অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (সদর সার্কেল) আবুল খয়ের-এর নেতৃত্বে সদর মডেল থানার অফিসার ইনচার্জ সাইফুল ইসলামসহ থানার একটি বিশেষ টিম ঘটনার তদন্ত শুরু করে।

তদন্তের একপর্যায়ে ঘটনার সঙ্গে সংশ্লিষ্টতা পাওয়ায় মৌলভীবাজার সদর উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় অভিযান পরিচালনা করে গত ৩০ জুন উল্লিখিত পাঁচজনকে গ্রেফতার করে আদালতে সোপর্দ করা হয়।

সদর মডেল থানার অফিসার ইনচার্জ মোঃ সাইফুল ইসলাম জানান, এ ঘটনায় থানায় একটি হত্যা মামলা রুজু করা হয়েছে। ইতিমধ্যে মূল পরিকল্পনাকারিসহ পাঁচজনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। মামলার ঘটনায় জড়িত অপর আসামিদের গ্রেফতারের লক্ষ্যে পুলিশের অভিযান অব্যাহত রয়েছে।

 

 

মৌলভীবাজার/হা

নামাজের সময়সূচি
  • ফজর
  • যোহর
  • আছর
  • মাগরিব
  • এশা
  • সূর্যোদয়
  • ৩:৪২
  • ১২:০০
  • ৪:৩৬
  • ৬:৪৮
  • ৮:১৪
  • ৫:০৮