
চব্বিশের জুলাই গণঅভ্যুত্থানে পেশাগত দায়িত্ব পালনকালে পুলিশের গুলিতে নিহত ফটো সাংবাদিক এটিএম তুরাব হত্যাকাণ্ডের জড়িতদের গ্রেফতার ও দ্রুত বিচার নিশ্চিতের দাবিতে প্রধানমন্ত্রীর কাছে স্মারকলিপি দেওয়া হয়েছে। বাংলাদেশ ফটো জার্নালিস্ট অ্যাসোসিয়েশন (বিপিজেএ) সিলেট বিভাগীয় কমিটির মাসব্যাপী কর্মসূচির অংশ হিসেবে আজ রবিবার (১২ জুলাই) দুপুরে সিলেটের সর্বস্তরের সাংবাদিকদের পক্ষে জেলা প্রশাসকের মাধ্যমে এই স্মারকলিপি হস্তান্তর করা হয়। সিলেটের ভারপ্রাপ্ত জেলা প্রশাসক স্মারকলিপিটি গ্রহণ করেন।
স্মারকলিপিতে সাংবাদিক নেতৃবৃন্দ ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, “বুকে ‘PRESS’ লেখা ভেস্ট থাকার পরও একজন সংবাদকর্মীকে নির্মমভাবে গুলি করে হত্যা করা স্বাধীন সাংবাদিকতা ও গণমাধ্যমের ওপর চরম আঘাত। ঘটনার দীর্ঘদিন পেরিয়ে গেলেও হত্যাকাণ্ডের মূল হোতা ও নির্দেশদাতাদের দৃশ্যমান বিচার প্রক্রিয়া শেষ না হওয়া অত্যন্ত দুঃখজনক ও হতাশাজনক।” নেতৃবৃন্দ অনতিবিলম্বে দোষী পুলিশ সদস্যদের দ্রুত আইনের আওতায় এনে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানান, অন্যথায় কঠোর আন্দোলনের হুঁশিয়ারি দেন।
স্মারকলিপি গ্রহণ করে ভারপ্রাপ্ত জেলা প্রশাসক সাংবাদিকদের আশ্বস্ত করে বলেন, “সাংবাদিক এটিএম তুরাব হত্যাকাণ্ডের বিষয়টি অত্যন্ত গুরুত্বের সাথে দেখা হচ্ছে। দ্রুত বিচার নিশ্চিত করতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে বিষয়টি জোরালোভাবে উত্থাপন করা হবে।”
স্মারকলিপি প্রদানের সময় উপস্থিত ছিলেন সিলেট প্রেস ক্লাবের সভাপতি মুকতাবিস উন নুর, সাধারণ সম্পাদক মোহাম্মদ সিরাজুল ইসলাম, বাংলাদেশ ফটো জার্নালিস্ট অ্যাসোসিয়েশন সিলেট বিভাগীয় কমিটির ভারপ্রাপ্ত সভাপতি হুমায়ুন কবির লিটন, সাধারণ সম্পাদক আশকার ইবনে আমিন লস্কর রাব্বি, সাবেক সিনিয়র সহ-সভাপতি মো. দুলাল হোসেন, মো. ইউসুফ আলী এবং সাবেক কোষাধ্যক্ষ মাহমুদ হোসেনসহ বিভিন্ন সংগঠনের শীর্ষস্থানীয় নেতৃবৃন্দ।
শহীদ তুরাব স্মরণে বিপিজেএ ঘোষিত মাসব্যাপী কর্মসূচির মধ্যে আরও রয়েছে—আগামী ১৮ জুলাই আলোচনা সভা ও দোয়া মাহফিল, ১৯ জুলাই কবর জিয়ারত এবং ২৫ জুলাই মানববন্ধন।
২০২৪ সালের ১৯ জুলাই বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন চলাকালে সিলেট নগরের কোর্ট পয়েন্ট এলাকায় দায়িত্ব পালনকালে পুলিশের গুলিতে গুরুতর আহত হন দৈনিক নয়া দিগন্তের স্টাফ রিপোর্টার ও জালালাবাদ পত্রিকার ফটো সাংবাদিক এটিএম তুরাব। পরে নগরের একটি বেসরকারি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তাঁর মৃত্যু হয়। ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন অনুযায়ী, তাঁর শরীরে ৯৮টি ছররা গুলির আঘাতের চিহ্ন ছিল।
৫ আগস্ট গণঅভ্যুত্থানের পর ১৯ আগস্ট সিলেট অতিরিক্ত চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে নিহতের ভাই আবুল আহসান মো. আযরফ (জাবুর) বাদী হয়ে সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীসহ ১৮ জনের নাম উল্লেখ এবং ২৫০ জনকে অজ্ঞাত আসামি করে মামলা দায়ের করেন। মামলার প্রধান আসামিদের মধ্যে রয়েছেন এসএমপির তৎকালীন অতিরিক্ত উপকমিশনার মো. সাদেক দস্তগীর কাউসার, উপকমিশনার আজবাহার আলী শেখ, সহকারী কমিশনার মিজানুর রহমান এবং কোতোয়ালি থানার সাবেক ওসি মঈন উদ্দিনসহ একাধিক পুলিশ সদস্য ও রাজনৈতিক কর্মী।
মামলাটি বর্তমানে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে বিচারাধীন রয়েছে এবং পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই) সিলেট এর তদন্ত কার্যক্রম পরিচালনা করছে। মামলায় এ পর্যন্ত ২ জন আসামি গ্রেফতার হলেও বাকিরা এখনও পলাতক রয়েছে।
সিলেট/হা



