
বিশ্বকাপ তাহলে জমিদারদের জন্য! ঘুরেফিরে সেই স্পেন, ফ্রান্স, ইংল্যান্ড, আর্জেন্টিনা। বিশ্বকাপকে নিজেদের সম্পত্তি বানিয়ে ফেলা দলগুলোর কারো হাতেই উঠছে ট্রফি। বাকি সব যেন প্রজা! মেগা আসরে আসলেন, ঘাম ছুটিয়ে চেষ্টা কিছুটা করলেন, মাঝেমধ্যে বড় শিকার ধরলেন, এরপর বিদায়! কেউ কেউ আবার বিনা প্রতিরোধে জমিদারদের জন্য রাস্তা তৈরি করে দেন। এবারের আসরে মরক্কোকে দেখুন।
কোয়ার্টার ফাইনালে ফ্রান্সের বিপক্ষে যেন ইচ্ছে করেই হারলেন হাকিমিরা! নরওয়ে আর সুইজারল্যান্ড সেক্ষেত্রে ব্যতিক্রম। ইংল্যান্ড, আর্জেন্টিনার চোখে চোখ রেখে, শেষ মুহূর্ত পর্যন্ত লড়াই চালিয়ে তবেই হার মেনেছে নরওয়ে, সুইজারল্যান্ড।
আর্জেন্টিনা টানা তিন ম্যাচে এলোমেলো! গ্রুপ পর্ব থেকে মাথা উঁচু করে আসা দলটি নকআউটের শুরু থেকেই যেন অন্য কোন দল। আলভারেজ, মার্টিনেজ, ডি পলদের জার্সি দেখেই চিনতে হচ্ছে।
উদ্দেশ্যহীন ছুটাছুটি, বলের দখল নিয়ে ভুল পাসে নিয়ন্ত্রণ হারানো, অকারনে বল পেছনে টেনে এনে ঝুঁকিপূর্ণ পাস আর এসব ভুল থেকে কাউন্টার এ্যাটাকে গোল খেয়ে বসা! ২০১৮ থেকে ২০২৬, আট বছর ধরে এমন ফুটবল খেলছে, হারতে হারতে জিতছে, জিতে যাওয়া ম্যাচে নিজেদের ভুলেই বিপদ ডেকে আনছে! নকআউটের তিনটা ম্যাচে তো ভাগ্যের ভেলায় চড়ে পার হয়েছে আর্জেন্টিনা! এভাবে কেপ ভার্দে, মিশর, সুইজারল্যান্ড বাঁধা হয়ত পার হওয়া যায়, কিন্তু অন্য কোন দল হলে আর্জেন্টিনার কি হবে? সেই অন্য কোন দলের হিসেব তো শুরু হয়ে গেছে। হাতে সময় আছে মাত্র তিনদিন! এই সময়ে কি কৌশল নেবেন লায়নেল স্কালোনি।
ইংল্যান্ডের গতির বিপক্ষে তাল মেলাতে শিষ্যদের মনে নতুন কোন মন্ত্র ঢুকিয়ে দেয়া ছাড়া উপায় নেই তাঁর সামনে। সুইজারল্যান্ডের বিপক্ষে ম্যাচে নিজেও বিরক্ত হয়েছেন আর্জেন্টাইন কোচ। ম্যাচ শেষে বলেছেন, ভাগ্যই আজ আমাদের বাঁচিয়েছে। ভাগ্য না হয় ছোট দলগুলোর বিপক্ষে সাহায্যের হাত বাড়িয়ে দিল, কিন্তু ইংল্যান্ড, ফ্রান্স, স্পেনকে হারাতে হলে তো মাঠের খেলাতেই ভরসা খুঁজতে হবে। সেই ভরসার জায়গায় বারবার হতাশ করছেন মলিনা, তাগলিয়াফিকো, এনজো ফার্নান্দেজরা। গ্রুপ পর্ব থেকে কোয়ার্টার ফাইনাল পর্যন্ত মেসিই টানছেন আর্জেন্টিনাকে। গ্রুপ পর্বে তো তাঁর একক শো। নকআউটের টানা তিন ম্যাচেও মেসিই জ্বললেন।
নিজে গোল করেন, কর্ণার, ফ্রি-কিক কিংবা দারুণ সব পাসে গোলের সুযোগ তৈরি করে দেন। সুইজারল্যান্ডের বিপক্ষেও শুরুতে এগিয়ে যাওয়া মেসিরই কল্যাণে। তাঁর মাপা কর্ণার থেকে ম্যাক এ্যালিস্টারের হেডে ১-০। এরপর যা হলো তাতে আশায় গুড়ে বালি। ম্যাচের দশ মিনিটে এক গোলে এগিয়ে যাওয়া আর্জেন্টিনা এরপর খেলার নিয়ন্ত্রণ তুলে দিল সুইসদের হাতে। যার ফল দ্বিতীয়ার্ধের মাঝামাঝি সময়ে সুইজারল্যান্ডের গোল! একসময় দশ জনের দল হয়ে যাওয়ার পরও খেলা তাঁদেরই নিয়ন্ত্রণে! ৯০ মিনিটের খেলা ১-১ সমতায় শেষ হওয়ার পর অতিরিক্ত সময়ে দুই গোল দিয়ে জিতেছে লিওনেল মেসির আর্জেন্টিনা। নিজেদের ছায়া থেকে বেরিয়ে গোল পেয়েছেন হুলিয়ান আলভারেজ ও লাউতারো মার্টিনেজ। আলভারেজের গোলটা অবশ্য এই বিশ্বকাপের অন্যতম সেরা। তবু স্কালোনির কপাল থেকে চিন্তার ভাজ সরছে না। সরার কথাও নয়। গ্রুপে আর্জেন্টিনা খেলেছে আলজেরিয়া, অস্ট্রিয়া ও জর্ডানের বিপক্ষে। তিনটা ম্যাচই প্রায় একাই জিতিয়েছেন মেসি!
গ্রুপ থেকে বেরিয়ে প্রথমে কেপ ভার্দে, এরপর মিশর আর আজ সকালে সুইজারল্যান্ডের সাথে খেলেছে আর্জেন্টিনা। এই তিনটা ম্যাচেই হারের শঙ্কা জেগেছে বারবার। গোল দিয়ে গোল ধরে রাখতে না পারার ব্যর্থতা বড় হয়ে উঠছে। কাউন্টার এ্যাটাকের সেই পুরনো দুর্বলতাই চোখে পড়ছে সবার। সঙ্গে আটার মতো লেগে আছে মিসর ম্যাচের বিতর্ক। ইংল্যান্ড ম্যাচের আগে এসবের সমাধানে কি করবেন লায়নেল স্কালোনি আর লায়নেল মেসি? হাতে যে সময় আছে মাত্র তিন দিন!
খেলা/হা



