
সিলেটের এমসি কলেজ ছাত্রাবাসে স্বামীকে আটকে রেখে তরুণীকে সংঘবদ্ধ ধর্ষণের বহুল আলোচিত মামলার রায় আজ মঙ্গলবার। সিলেটের দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনালের বিচারক স্বপন কুমার সরকারের আদালতে এ রায় ঘোষণা হওয়ার কথা রয়েছে।
রায়কে কেন্দ্র করে সিলেট আদালত প্রাঙ্গণে বারতি নিরাপত্তা দেখা গেছে।
এদিকে মঙ্গলবার সকাল ১১টার দিকে মামলার অভিযুক্ত আট ছাত্রলীগ নেতাকে কারাগার থেকে আদালতে নিয়ে আসা হয়েছে। মঙ্গলবার দুপুর ১২টায় আদালতে রায় ঘোষণা শুরু হওয়ার কথা রয়েছে।
এর আগে গত বুধবার (৮ জুলাই) আদালতে রাষ্ট্রপক্ষ ও আসামিপক্ষের যুক্তিতর্ক উপস্থাপন শেষে হয়েছিল।
মামলার আট আসামি হলেন- সাইফুর রহমান, শাহ মাহবুবুর রহমান ওরফে রনি, তারেকুল ইসলাম ওরফে তারেক, অর্জুন লস্কর, আইনুদ্দিন ওরফে আইনুল, মিসবাউল ইসলাম ওরফে রাজন, রবিউল ও মাহফুজুর রহমান। তারা সবাই ছাত্রলীগের টিলাগড়কেন্দ্রিক রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত ছিলেন।
আদালত সূত্র জানায়, মামলাটি নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনাল থেকে গত বছরের মে মাসে দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনালে স্থানান্তর করা হয়। এরপর সাক্ষ্য গ্রহণ শুরু হয়। মামলায় মোট ২৪ জন সাক্ষী সাক্ষ্য দিয়েছেন।
সাক্ষীদের মধ্যে রয়েছেন ভুক্তভোগী, তার স্বামী, আসামিদের স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি গ্রহণকারী ম্যাজিস্ট্রেট, মামলার তদন্ত কর্মকর্তা, এমসি কলেজের একজন অধ্যাপক এবং ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের ফরেনসিক বিভাগের চিকিৎসক। সাক্ষ্য গ্রহণের সময় বাদীর সাক্ষ্য নিয়ে রাষ্ট্রপক্ষ কিছু অসন্তোষ প্রকাশ করেছিল।
পিপি আবুল হোসেন বলেন, রাষ্ট্রপক্ষ ও আসামিপক্ষ উভয়েই তাদের যুক্তিতর্ক উপস্থাপন শেষ করেছে। আদালত আগামী ১৪ জুলাই রায় ঘোষণার তারিখ নির্ধারণ করেছেন।
২০২০ সালের ২৫ সেপ্টেম্বর রাতে সিলেটের এমসি কলেজ ছাত্রাবাসে স্বামীকে একটি কক্ষে আটকে রেখে এক তরুণীকে সংঘবদ্ধ ধর্ষণের অভিযোগ ওঠে। এ ঘটনায় ভুক্তভোগীর স্বামী শাহপরান থানায় ছয়জনের নাম উল্লেখ করে এবং দুইজনকে অজ্ঞাতনামা আসামি করে মামলা দায়ের করেন।
ঘটনার তিন দিনের মধ্যে পুলিশ ও র্যাবের পৃথক অভিযানে আটজনকে গ্রেপ্তার করা হয়। পরে তারা আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেন। তদন্তে ডিএনএ পরীক্ষায় আট আসামির মধ্যে ছয়জনের সঙ্গে ধর্ষণের আলামতের মিল পাওয়া যায়। তদন্ত শেষে ২০২১ সালের ৩ ডিসেম্বর শাহপরান থানার তৎকালীন পরিদর্শক (তদন্ত) ইন্দ্রনীল ভট্টাচার্য আটজনের বিরুদ্ধে আদালতে অভিযোগপত্র দাখিল করেন।
আমারসিলেট/এমএসএস



