
দেশজুড়ে আলোচিত সিলেটের মুরারিচাঁদ (এমসি) কলেজ ছাত্রাবাসে গৃহবধূকে সংঘবদ্ধ ধর্ষণের মামলায় প্রধান আসামি সাইফুর রহমানকে মৃত্যুদণ্ড দিয়েছেন আদালত। একই মামলায় আরও তিন আসামিকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে। অভিযোগ প্রমাণিত না হওয়ায় চার আসামিকে খালাস দেওয়া হয়েছে।
মঙ্গলবার (১৪ জুলাই) দুপুরে সিলেটের দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনালের বিচারক স্বপন কুমার সরকার এ রায় ঘোষণা করেন। রায় ঘোষণার সময় আট আসামিই আদালতে উপস্থিত ছিলেন। কঠোর নিরাপত্তার মধ্যে তাঁদের আদালতে হাজির করা হয়।
আদালতের রায়ে সাইফুর রহমানকে মৃত্যুদণ্ডের পাশাপাশি এক লাখ টাকা জরিমানা করা হয়েছে। এ ছাড়া শাহ মাহবুবুর রহমান (রনি), তারেকুল ইসলাম ও অর্জুন লস্করকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড, এক লাখ টাকা করে জরিমানা এবং অপর একটি ধারায় ১৪ বছরের সশ্রম কারাদণ্ড ও ৫০ হাজার টাকা করে অর্থদণ্ড দেওয়া হয়েছে। অনাদায়ে তাঁদের ছয় মাসের কারাদণ্ড ভোগ করতে হবে। জরিমানার অর্থ ভুক্তভোগীকে দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন আদালত।
অভিযোগ প্রমাণিত না হওয়ায় আইনুদ্দিন ওরফে আইনুল, মিসবাউল ইসলাম (রাজন), রবিউল ও মাহফুজুর রহমানকে খালাস দেওয়া হয়েছে।
রায়ের বিষয়টি নিশ্চিত করে দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনালের সরকারি কৌঁসুলি (পিপি) আবুল হোসেন বলেন, রাষ্ট্রপক্ষ আসামিদের বিরুদ্ধে অভিযোগ প্রমাণ করতে সক্ষম হয়েছে। আদালত একজনকে মৃত্যুদণ্ড ও তিনজনকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দিয়েছেন।
তবে আসামিপক্ষের আইনজীবী শাহ মোশাহিদ আলী বলেন, ভুক্তভোগী আদালতে আসামিদের শনাক্ত করেননি এবং তাঁদের বিরুদ্ধে কোনো প্রত্যক্ষ সাক্ষ্যও নেই। তাই এ রায়ের বিরুদ্ধে উচ্চ আদালতে আপিল করা হবে।
আদালত সূত্রে জানা গেছে, নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালে মামলাটি স্থানান্তরের পর গত বছরের মে মাসে সাক্ষ্য গ্রহণ শুরু হয়। মামলায় মোট ২৫ জন সাক্ষী আদালতে সাক্ষ্য দেন। তাঁদের মধ্যে ছিলেন ভুক্তভোগী, তাঁর স্বামী, আসামিদের স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি গ্রহণকারী ম্যাজিস্ট্রেট, তদন্ত কর্মকর্তা, এমসি কলেজের একজন অধ্যাপক এবং ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের ফরেনসিক বিভাগের চিকিৎসক। গত ৮ জুলাই রাষ্ট্রপক্ষ ও আসামিপক্ষের যুক্তিতর্ক উপস্থাপন শেষ হয়।
২০২০ সালের ২৫ সেপ্টেম্বর সন্ধ্যায় এমসি কলেজ ছাত্রাবাসে এ ঘটনা ঘটে। সেদিন শাহপরান মাজার থেকে ফেরার পথে এক নবদম্পতিকে কলেজ এলাকায় আটকে ছাত্রাবাসে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে স্বামীকে জিম্মি করে নববিবাহিত তরুণীকে সংঘবদ্ধভাবে ধর্ষণ করা হয়। পরে তাঁদের মারধর করে টাকা-পয়সা ছিনিয়ে নেওয়া এবং ব্যবহৃত প্রাইভেটকারটি আটকে রাখারও অভিযোগ ওঠে।
ঘটনার রাতেই ভুক্তভোগীর স্বামী বাদী হয়ে শাহপরান থানায় ধর্ষণের মামলা করেন। একই ঘটনায় প্রাইভেটকার আটকে রেখে চাঁদাবাজির অভিযোগে আরেকটি মামলা হয়। পরে দুই মামলার বিচার একসঙ্গে পরিচালনার সিদ্ধান্ত হয়।
ঘটনার পর পুলিশ ও র্যাবের যৌথ অভিযানে আটজনকে গ্রেপ্তার করা হয়। তাঁদের মধ্যে কয়েকজন আদালতে ফৌজদারি কার্যবিধির ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেন। তদন্তে ডিএনএ পরীক্ষায়ও ছয় আসামির সঙ্গে ধর্ষণের আলামতের মিল পাওয়া যায়। পরে তদন্ত শেষে ২০২১ সালের ডিসেম্বরে আট আসামির বিরুদ্ধে আদালতে অভিযোগপত্র দেওয়া হয়। এরপর অভিযোগ গঠনের মধ্য দিয়ে মামলার বিচার শুরু হয়।
আমারসিলেট/এমএসএস



