ফাইনালের আগেই আরেক ফাইনাল!

ফ্রান্সের ভরসা আক্রমণভাগ, স্পেনের শক্তি মাঝমাঠ

ফ্রান্সের ভরসা আক্রমণভাগ, স্পেনের শক্তি মাঝমাঠ

একদিকে গতির ঝড়, অন্যদিকে শান্ত নদীর ছোট ছোট ঢেউয়ের মতো সুন্দর সব পাসের পশরা! এদিকে এমবাপ্পে, দেম্বেলে, ওলিসে, ওদিকে পেদ্রো, রদ্রি, ওলমো! বলুন তো আজ কে জিতবে? বিসিএসের প্রশ্নের মতোই কঠিন আজকের প্রেডিকশন! ফ্রান্স নাকি স্পেন ভাবতে ভাবতে পরীক্ষার সময় ফুরালেও উত্তর মেলে না। এটি এমন এক কঠিন ম্যাচ। যার ফল হয়ত অনুমান করা যায়, কিন্তু চুড়ান্ত কিছু বলা যায় না। দুই দলের শেষ দুই লড়াই দেখুন।

স্পেন ২- ফ্রান্স১, স্পেন ৫- ফ্রান্স ৪! ম্যাচ দুটির ফল বলছে আজ স্পেন এগিয়ে। কিন্তু প্রতিপক্ষ তো গোলের নেশায় উন্মত্ত ফ্রান্স। যাদের কাছে গোল দেওয়াটাই দুনিয়ার সবচেয়ে সহজ কাজ! যারা মাঠে খেলে, গতির ঝড় তুলে আর প্রতিপক্ষের রক্ষন ভাঙার আনন্দে মাতে। ২০২৬ বিশ্বকাপে ৬ ম্যাচ খেলে ফ্রান্সের গোল ১৬টি। এর অর্ধেকই এসেছে তাঁদের অধিনায়ক কিলিয়ান এমবাপ্পের কাছ থেকে। লিওনেল মেসির সঙ্গে ৮ গোল নিয়ে সর্বোচ্চ গোলদাতার তালিকার শীর্ষে ফ্রান্সের প্রাণভোমরা।

আক্রমণভাগে তাঁর সঙ্গে দারুণ জমে ওঠা জুটি ওসমান দেম্বেলের গোল ৫টি। ডানপ্রান্তে গতির ঝড় তুলে এই দুজনকে গোল তৈরি করে দেন ওলিসে। এমবাপ্পে, দেম্বেলে, ওলিসের বুঝাপড়াটা যেন ব্রাজিলের সোনালী সময়ের রোমারিও, বেবোতো, রোনালদোর মতোই। যারা একসাথে আক্রমণে ওঠেন আবার দলের প্রয়োজনে একসঙ্গে নিচেও নেমে আসেন।

সময় বদলেছে, এক বিশ্বকাপ থেকে আরেক বিশ্বকাপ আসতে লেগেছে সাড়ে তিন বছর। কিন্তু কিলিয়ান এমবাপ্পে আছেন আগের মতোই! দুই হাজার বাইশে যেমন ২০২৬ এ তেমন। যেন আরো শানিত, আরো বজ্র ঝড়ের মতো! ২০২২ বিশ্বকাপ ফাইনালের কীর্তি সবার জানা। হ্যাটট্রিক করেও হয়েছিলেন ট্র্যাজিক হিরো! চার বছর আগের ফর্মটাই যেন টেনে আনলেন যুক্তরাষ্ট্রের মাটিতে। গোলের পর গোল করে দলের জয়ে সামনে থেকে নেতৃত্ব দিচ্ছেন এমবাপ্পে। ঘুরে দাঁড়ানোর কোন একটা জাদুমন্ত্র যেন কেউ শিখিয়ে দিয়েছে তাঁকে। বেলজিয়ামের বিপক্ষে কোয়ার্টার ফাইনালে পেনাল্টি মিস করলেন এমবাপ্পে। পাশার দান উল্টে খেলা তখন বেলজিয়ামের পক্ষে। কিন্তু এমবাপ্পে তো অন্য ধাতুতে গড়া এক মানুষ। যার কাছে হতাশা মানেই ঘুরে দাঁড়ানোর নতুন এক সুযোগ! স্পট কিকের ব্যর্থতা ঢাকলেন বেলজিয়াম বক্সের বাইরে থেকে তাঁর ট্রেডমার্ক শটে গোল করে। স্পেনের বিপক্ষে আজও ফ্রান্স চেয়ে থাকবে এমবাপ্পের দিকেই। আক্রমণভাগটা ফ্রান্সের জমাট হলেও তাঁদের দুশ্চিন্তার কারন মাঝমাঠ। মধ্যমাঠের দুর্বলতার কারনেই চাপ পড়ছে ফ্রান্সের রক্ষনে। ফ্রান্সের দুর্বলতা যেখানে সেই মাঝমাঠটাই স্পেনের ভরসার জায়গা। পেদ্রো, রদ্রি, ওলমো মিলে মাঠের মধ্যখানে খেলা তৈরি করেন, সেই খেলা থেকে গোলের সুযোগ তৈরি হয় আর রক্ষন থাকে নির্ভার।

যার ফলে এবারের বিশ্বকাপে এখন পর্যন্ত ৬ ম্যাচ খেলে স্পেন গোল খেয়েছে মাত্র একটি! ১১ বার প্রতিপক্ষের জালে বল স্পর্শ করালেও স্প্যানিশদের দুশ্চিন্তার জায়গা ফরোয়ার্ড লাইন। লামিন ইয়ামাল যেখানে নেতৃত্ব দিচ্ছেন দলকে। ডানপ্রান্ত দিয়ে দ্রুত ঢুকে গোলের সুযোগ তৈরি করে দিচ্ছেন বার্সেলোনা তারকা। কিন্তু সেসব সুযোগকে গোলে পরিনত করার মানুষ খুঁজে পাচ্ছে না স্পেন। গত দুই ম্যাচে বদলি নেমে দলকে বাঁচিয়েছেন মেরিনো।

তবে কি আজ কৌশল বদলাবেন স্পেন কোচ। ইয়ামালকে কি দাঁড় করিয়ে দেবেন ফ্রান্স বক্সের সামনে। আজ তো গোল লাগবেই। এমবাপ্পে কিংবা দেম্বেলে গোল করলে সেই গোলের জবাব দেয়ার মানুষ তো স্পেনের লামিন ইয়ামাল।

ইয়ামালের পায়ে ২০২৪ ইউরো কাপের ছবি ফিরে আসলে ফ্রান্সের কপালে দু:খ আছে আজ। তবে অনেক ইতিহাস গড়ার হাতছানি যাদের সামনে সেই ফ্রান্স কি সহজে ছেড়ে দিবে স্পেনকে। দিবে না বলেই আজ রাত ১টায় বিশ্বকাপ ফাইনালের আগে আরেক ফাইনাল!

 

 

আমারসিলেট/হা

নামাজের সময়সূচি
  • ফজর
  • যোহর
  • আছর
  • মাগরিব
  • এশা
  • সূর্যোদয়
  • ৩:৪৮
  • ১২:০২
  • ৪:৩৭
  • ৬:৪৭
  • ৮:১২
  • ৫:১২