দীর্ঘদিনের ভোগান্তির অবসানে শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (শাবিপ্রবি) অভ্যন্তরীণ প্রধান সড়ক নির্মাণের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রধান ফটক থেকে ক্যাম্পাসের অভ্যন্তরীণ গোলচত্বর পর্যন্ত আরসিসি (রিইনফোর্সড সিমেন্ট কংক্রিট) সড়ক নির্মাণের জন্য টেন্ডার আহ্বান করেছে সিলেট সিটি করপোরেশন (সিসিক)।
রবিবার (২ আগস্ট) সিসিকের অফিসিয়াল ওয়েবসাইটে এক ই-টেন্ডার নোটিশের মাধ্যমে বিষয়টি জানানো হয়।
ই-টেন্ডার নোটিশে উল্লেখ করা হয়, ওপেন টেন্ডারিং মেথডের (ওটিএম) আওতায় শাবিপ্রবির প্রধান ফটক থেকে অভ্যন্তরীণ গোলচত্বর পর্যন্ত ৩০০ মিলিমিটার আরসিসি রাস্তা নির্মাণের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। আগামী ২৫ আগস্ট ২০২৬ পর্যন্ত এই দরপত্র প্রক্রিয়ায় অংশ নেওয়ার সুযোগ থাকবে।
এর আগে, দীর্ঘদিন ধরে রাস্তা সংস্কারের দাবি জানিয়ে আসলেও কার্যকর উদ্যোগ প্রশাসনের পক্ষ থেকে নেওয়া হয়নি। বর্ষাকালে কিলোরোডের বিভিন্ন স্থানে খানাখন্দ তৈরি হয়ে তা চলাচলের অনুপযোগী হয়ে পড়ত এবং ছোটখাটো দুর্ঘটনা ঘটত। বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিবহন ব্যবস্থার পাশাপাশি শিক্ষার্থীরা চরম দুর্ভোগ পোহাতেন।
রাস্তা সংস্কারের বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের দ্বিতীয় বর্ষের শিক্ষার্থী আরাফাত হোসেন বলেন, “দীর্ঘদিন ধরে ক্যাম্পাসে বিভিন্ন নির্মাণকাজ চলায় ভারী ট্রাক ও অন্যান্য যানবাহন নিয়মিত এই সড়ক ব্যবহার করছে। এতে রাস্তার অবস্থা আরও খারাপ হয়ে গেছে। বিশেষ করে বৃষ্টির সময় বড় বড় গর্তে পানি জমে চলাচল খুবই ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে পড়ে। প্রতিদিন ক্লাসে যাওয়া-আসার সময় আমাদের দুর্ভোগ পোহাতে হয়েছে। দীর্ঘদিন ধরে আমরা সড়কটি সংস্কারের দাবি জানিয়ে আসছিলাম। অবশেষে টেন্ডার আহ্বান হওয়ায় ভালো লাগছে। এখন আমাদের প্রত্যাশা, দ্রুত কাজ শুরু করে মানসম্মতভাবে শেষ করা হবে, যাতে ভবিষ্যতে আর এই দুর্ভোগে পড়তে না হয়।”
এ বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. খায়রুল ইসলাম বলেন, “গত ৭ জুলাই দায়িত্বভার গ্রহণের পর থেকেই শিক্ষার্থীদের চলাচলের ভোগান্তি কমাতে কাজ শুরু করেছি। এরই ধারাবাহিকতায় ২৫ জুলাই সিটি করপোরেশনের প্রশাসককে ফোন করে সহায়তা চাওয়া হলে তিনি প্রধান প্রকৌশলীকে সরেজমিনে পরিদর্শনের জন্য ক্যাম্পাসে পাঠান।”
উপাচার্য আরও বলেন,” নতুন অর্থবছরে এলজিইডির কাছে ৪ কিলোমিটার সড়ক সংস্কারের প্রস্তাব পাঠানো হয়েছে। তবে সরকারি বরাদ্দ পেতে সেপ্টেম্বর-অক্টোবর পর্যন্ত সময় লাগতে পারে। তাই শিক্ষার্থীদের সুবিধার কথা ভেবে আপাতত ১ কিলোমিটারের কাজ শুরু হবে এবং পরবর্তীতে ক্যাম্পাসের প্রধান সড়কের অবশিষ্ট ৩ কিলোমিটারের কাজ সম্পন্ন করা হবে।”



