রক্তস্নাত জুলাই গণঅভুত্থানের দুই বছর পূর্ণ হলো। ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট পতন ঘটে ফ্যাসিস্ট আওয়ামী লীগ সরকারের। সরকার প্রধান শেখ হাসিনা, তার পরিবার-পরিজন, আওয়ামী লীগের মন্ত্রী-এমপি, নেতা, ফ্যাসিস্টদের দোসর সাংবাদিক, লেখকসহ পালিয়ে যান সকলে। তাদের মধ্যে রয়েছেন আওয়ামী লীগের আমলে সিলেটের দাপুটে মন্ত্রী-এমপি, মেয়র ও নেতারা। তাদের অনেকে এখন বিদেশে আত্মগোপনে রয়েছেন। কেউ কেউ লোকচক্ষুর আড়ালে দেশেই অবস্থান করছেন।
আওয়ামী সরকারের প্রভাবশালী মন্ত্রী, সিলেট-১ আসনের সাবেক সংসদ সদস্য ও সাবেক পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. এ কে আব্দুল মোমেন বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্রে রয়েছেন। ৫ আগস্টের পর তিনি দেশেই কিছুদিন আত্মগোপনে ছিলেন। এরপর যুক্তরাষ্ট্রে পাড়ি জমান। যুক্তরাষ্ট্রে থেকে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তৎপর রয়েছেন মোমেন।
সাবেক প্রবাসী কল্যাণ প্রতিমন্ত্রী ও সিলেট-২ আসনের সাবেক সংসদ সদস্য শফিকুর রহমান চৌধুরী ৫ আগস্টের পর ভারত হয়ে যুক্তরাজ্যে পাড়ি জমান। সেখানে আওয়ামী লীগের বিভিন্ন অনুষ্ঠানে তাকে অংশ নিতে দেখা যায়। সিলেট-৩ আসনের সাবেক এমপি হাবিবুর রহমান হাবিবও যুক্তরাজ্যে পাড়ি জমিয়েছেন।
আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় সাংগঠনিক সম্পাদক ও মৌলভীবাজার-২ আসনের সাবেক এমপি শফিউল আলম চৌধুরী নাদেল ভারত ও মালয়েশিয়ায় দলীয় কর্মকাণ্ড চালানোর চেষ্টা করছেন।
সিলেট সিটি করপোরেশনের মেয়র আনোয়ারুজ্জামান চৌধুরী, সাবেক এমপি অ্যাডভোকেট রঞ্জিত চন্দ্র সরকার, মোয়াজ্জেম হোসেন রতন, হবিগঞ্জের সাবেক এমপি মো. আবু জাহির, মৌলভীবাজারের সাবেক এমপি মোহাম্মদ জিল্লুর রহমান ও সুনামগঞ্জের সাবেক এমপি ড. মোহাম্মদ সাদিক বর্তমানে যুক্তরাজ্য ও ভারতে অবস্থান করছেন বলে জানা গেছে।
এরমধ্যে আনোয়ারুজ্জামান চৌধুরীসহ কয়েকজন ৫ আগস্টের পর ভারত পালিয়ে যান। সেখান থেকে যুক্তরাজ্যে পাড়ি জমান।
২০২৪ সালের অক্টোবরে গ্রেপ্তার হওয়া সিলেট-৪ আসনের সাবেক এমপি ও সাবেক প্রবাসীকল্যাণ মন্ত্রী ইমরান আহমদ, মৌলভীবাজার-৪ আসনের সাবেক কৃষিমন্ত্রী উপাধ্যক্ষ ড. মো. আব্দুস শহীদ, হবিগঞ্জ-৪ আসনের এমপি ব্যারিস্টার সৈয়দ সায়েদুল হক সুমন ও সাবেক পর্যটন প্রতিমন্ত্রী অ্যাডভোকেট মো. মাহবুব আলী বর্তমানে হত্যা ও সহিংসতার বিভিন্ন মামলায় কারাবন্দি রয়েছেন।
অপরদিকে, সুনামগঞ্জ-৩ আসনের সাবেক পরিকল্পনা মন্ত্রী এমএ মান্নান গ্রেপ্তার হওয়ার পর আদালতের জামিনে নিজ বাড়ি থেকেই আইনি লড়াই চালিয়ে যাচ্ছেন। একই অবস্থা সুনামগঞ্জ-৫ আসনের এমপি মুহিবুর রহমান মানিকের।
সিলেটের সাবেক শিক্ষামন্ত্রী নুরুল ইসলাম নাহিদ, সাবেক পরিবেশমন্ত্রী মো. শাহাব উদ্দিন ও দিরাই-শাল্লার সাবেক এমপি জয়া সেনগুপ্তা দেশের ভেতরেই আছেন বলে জানা গেছে। তবে কে কোথায় তা স্পষ্ট জানাতে নারাজ স্বজনরা। আওয়ামী লীগ আমলে সিলেট-৫ আসন থেকে এমপি নির্বাচিত হওয়া আল ইসলাহ নেতা মাওলানা মোহাম্মদ হুসামুদ্দীন চৌধুরী নিজ এলাকায় অবস্থান করছেন। অংশ নিচ্ছেন বিভিন্ন অনুষ্ঠানে। ফেব্রুয়ারিতে নির্বাচনের আগে সিলেটের বিভিন্ন আসনের এমপি পদপ্রার্থীরা তার সঙ্গে সাক্ষাৎও করেছেন।
এক নজরে কে কোথায়
বিদেশে : সাবেক পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. একে আব্দুল মোমেন (যুক্তরাষ্ট্র), সাবেক প্রবাসী কল্যাণ প্রতিমন্ত্রী শফিকুর রহমান চৌধুরী (যুক্তরাজ্য), হাবিবুর রহমান হাবিব (যুক্তরাজ্য), শফিউল আলম চৌধুরী নাদেল (ভারত/মালয়েশিয়া), সাবেক মেয়র আনোয়ারুজ্জামান চৌধুরী, অ্যাডভোকেট রঞ্জিত চন্দ্র সরকার (যুক্তরাজ্য), মোয়াজ্জেম হোসেন রতন, মো. আবু জাহির (যুক্তরাজ্য), মোহাম্মদ জিল্লুর রহমান (যুক্তরাজ্য) এবং ড. মোহাম্মদ সাদিক।
কারাগারে বন্দি : সাবেক কৃষিমন্ত্রী উপাধ্যক্ষ ড. মো. আব্দুস শহীদ, সাবেক প্রবাসীকল্যাণ মন্ত্রী ইমরান আহমদ, ব্যারিস্টার সৈয়দ সায়েদুল হক সুমন, সাবেক পর্যটন প্রতিমন্ত্রী অ্যাডভোকেট মো. মাহবুব আলী।
জামিনে মুক্ত: সাবেক পরিকল্পনা মন্ত্রী এমএ মান্নান ও মুহিবুর রহমান মানিক।
দেশে অবস্থান: সাবেক শিক্ষামন্ত্রী নুরুল ইসলাম নাহিদ, মো. শাহাব উদ্দিন, জয়া সেনগুপ্তা এবং মাওলানা মোহাম্মদ হুসামুদ্দীন চৌধুরী।

