সিলেট অঞ্চলে আগস্টের প্রথম ১৫ দিনেই উল্লেখযোগ্য পরিমাণ বৃষ্টিপাত হয়েছে। বাংলাদেশ পানি উন্নয়ন বোর্ডের বন্যা পূর্বাভাস ও সতর্কীকরণ কেন্দ্রের তথ্য অনুযায়ী, ১৫ আগস্ট পর্যন্ত সিলেট স্টেশনে ২৭০ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে। একই সময়ে জাফলংয়ে ৫৮৭ মিলিমিটার, সুনামগঞ্জে ৭৭৪ মিলিমিটার এবং ছাতকে ৩০৫ মিলিমিটার বৃষ্টি হয়েছে।
বন্যা পূর্বাভাস ও সতর্কীকরণ কেন্দ্রের ১৫ আগস্ট সকাল ৯টার প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে।
প্রতিবেদনের তথ্য অনুযায়ী, আগস্ট মাসের প্রথম ১৫ দিনে সিলেট বিভাগের বিভিন্ন এলাকায় বৃষ্টিপাতের পরিমাণে উল্লেখযোগ্য পার্থক্য রয়েছে। এর মধ্যে সবচেয়ে বেশি বৃষ্টি হয়েছে সুনামগঞ্জে। সেখানে মাসের ১৫ দিনেই ৭৭৪ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে। জাফলংয়ে হয়েছে ৫৮৭ মিলিমিটার। আর ছাতকে ৩০৫ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে।
এদিকে টানা বৃষ্টি ও উজান থেকে নেমে আসা পানির প্রভাবে সিলেট অঞ্চলের কয়েকটি নদ-নদীর পানি বাড়া-কমার মধ্যে রয়েছে। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, উত্তর-পূর্বাঞ্চলের সুরমা ও কুশিয়ারা নদ-নদীর পানি গত ২৪ ঘণ্টায় কমেছে। তবে কুশিয়ারা নদীর ফেঞ্চুগঞ্জ পয়েন্টে পানি এখনো বিপৎসীমার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে
১৫ আগস্ট সকাল ৯টায় ফেঞ্চুগঞ্জ পয়েন্টে কুশিয়ারা নদীর পানি ছিল ৯ দশমিক ৫৪ মিটার, যা বিপৎসীমা ৯ দশমিক ৪৫ মিটারের চেয়ে ৯ সেন্টিমিটার বেশি। অবশ্য গত ২৪ ঘণ্টায় এই পয়েন্টে পানির উচ্চতা ৯ সেন্টিমিটার কমেছে।
বন্যা পূর্বাভাস ও সতর্কীকরণ কেন্দ্র বলছে, আগামী ৪৮ থেকে ৭২ ঘণ্টায় সিলেটসহ উত্তর-পূর্বাঞ্চল ও তৎসংলগ্ন উজান এলাকায় মাঝারি থেকে ভারী এবং কোথাও কোথাও ভারী বৃষ্টিপাত হতে পারে। ফলে নদ-নদীর পানি পরিস্থিতির ওপর এর প্রভাব পড়তে পারে।
অন্যদিকে, সিলেট শহরের সুরমা নদীর পানি এখনো বিপৎসীমার নিচে রয়েছে। ১৫ আগস্ট সকাল ৯টায় সুরমার পানি ৮ দশমিক ৯৬ মিটার উচ্চতায় প্রবাহিত হচ্ছিল। এ নদীর বিপৎসীমা ১০ দশমিক ৮০ মিটার।
বৃষ্টিপাত ও নদ-নদীর পানি পরিস্থিতি বিবেচনায় সিলেট অঞ্চলে আগামী কয়েক দিনও পরিস্থিতির ওপর নজর রাখার প্রয়োজন রয়েছে বলে প্রতিবেদনের তথ্য থেকে দেখা যাচ্ছে।



