নিউইয়র্কে বিদেশি নাগরিকদের ভুয়া বিয়ের মাধ্যমে যুক্তরাষ্ট্রে বৈধভাবে বসবাসের সুযোগ করে দেওয়ার অভিযোগে ১১ জনকে গ্রেপ্তার করেছে কর্তৃপক্ষ। বুধবার এ ঘটনায় বড় ধরনের আন্তর্জাতিক বিয়ে জালিয়াতির চক্রের তথ্য প্রকাশ করা হয়।

প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, নিউইয়র্কের একটি চক্র এক দশকেরও বেশি সময় ধরে যুক্তরাষ্ট্রে বৈধ মর্যাদা পেতে আগ্রহী বিদেশি নাগরিকদের জন্য মার্কিন নাগরিকদের সঙ্গে সাজানো বিয়ের ব্যবস্থা করে আসছিল। বিশেষ করে গ্রিনকার্ড ও পরবর্তী সময়ে মার্কিন নাগরিকত্ব পাওয়ার সুযোগ নিতে চাওয়া চীনা নাগরিকদের লক্ষ্য করে এই কার্যক্রম চালানো হতো।

কর্তৃপক্ষের দাবি, ভুয়া বিয়েতে রাজি হওয়া মার্কিন নাগরিকদের হাজার হাজার ডলার করে দেওয়া হতো। অন্যদিকে, বিদেশি নাগরিকদের কাছ থেকে ভুয়া বিয়ে এবং গ্রিনকার্ডের আবেদন প্রক্রিয়ায় সহায়তার জন্য সর্বোচ্চ প্রায় ১ লাখ ডলার পর্যন্ত নেওয়া হয়েছে।

দক্ষিণ নিউইয়র্ক জেলার মার্কিন অ্যাটর্নি জেমি ম্যাকডোনাল্ড বলেন, অভিযুক্তরা এই কর্মকাণ্ডের মাধ্যমে বিপুল পরিমাণ অর্থ আয় করেছেন। তার ধারণা, এক দশকের বেশি সময় ধরে চলা এই চক্রের মাধ্যমে কয়েক কোটি ডলারের লেনদেন হয়েছে। এটিকে যুক্তরাষ্ট্রের ইতিহাসে সবচেয়ে বড় বিয়ে জালিয়াতির মামলাগুলোর একটি বলেও উল্লেখ করেন তিনি।

অভিযোগপত্র অনুযায়ী, চক্রের সদস্যরা শুধু কাগজে-কলমে বিয়ের ব্যবস্থা করতেন না, বরং বিয়েকে সত্যিকারের বলে দেখানোর জন্য পুরো আয়োজনও করতেন। কোথাও কোথাও রেস্তোরাঁয় ভুয়া বিয়ের অনুষ্ঠান আয়োজন করা হতো। সেখানে বিদেশি নাগরিক ও মার্কিন নাগরিকদের ঐতিহ্যবাহী চীনা বিয়ের পোশাক পরানো, ছবি তোলা এবং অতিথি উপস্থিত রাখার ব্যবস্থা করা হতো।

এমনকি কোনো কোনো ভুয়া বিয়ের চুক্তিতে স্বামী-স্ত্রী আলাদা জীবনযাপন করবেন এবং একে অপরের সঙ্গে কোনো সম্পর্ক রাখবেন না—এমন অস্বাভাবিক শর্তও রাখা হয়েছিল বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে।

কর্তৃপক্ষ বলছে, প্রথমে মার্কিন নাগরিকদের ভুয়া বিয়েতে রাজি করানো হতো। এরপর বিয়ের অনুষ্ঠান, পুরোহিত বা আনুষ্ঠানিকতা পরিচালনাকারী ব্যক্তি, পোশাক, আলোকচিত্রী ও অতিথি—সবকিছুর ব্যবস্থা করা হতো, যাতে অভিবাসন কর্তৃপক্ষের কাছে বিয়েটি বাস্তব বলে মনে হয়।

বিদেশি নাগরিক গ্রিনকার্ড পাওয়ার পর তাদের সঙ্গে বিয়ে দেওয়া মার্কিন নাগরিকদের মাধ্যমে বিবাহবিচ্ছেদের ব্যবস্থাও করা হতো বলে অভিযোগ রয়েছে।

প্রসিকিউটরদের ভাষ্য, এই চক্রের কার্যক্রম ছিল বিস্তৃত এবং এর সঙ্গে শত শত ভুয়া বিয়ে জড়িত থাকতে পারে। দীর্ঘদিন ধরে চলা এই প্রতারণার মাধ্যমে যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন ব্যবস্থাকে পাশ কাটিয়ে বিদেশি নাগরিকদের বৈধ মর্যাদা পাওয়ার সুযোগ করে দেওয়া হয়েছে বলে অভিযোগ করা হয়েছে।

গ্রেপ্তার হওয়া ১১ জনকে বর্তমানে নিউইয়র্কের হোয়াইট প্লেইন্সে আদালতে হাজির করা হচ্ছে। অভিযোগ প্রমাণিত হলে তাদের প্রত্যেকের সর্বোচ্চ ১০ বছর পর্যন্ত ফেডারেল কারাদণ্ড হতে পারে।

তবে আদালতে অভিযোগ প্রমাণিত না হওয়া পর্যন্ত আসামিরা আইনগতভাবে নির্দোষ হিসেবে বিবেচিত হবেন।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *