লাখ টাকার পড়াশোনায় ১৫ হাজারের চাকরি!

উচ্চশিক্ষার খরচ বাড়লেও কর্মসংস্থানে মিলছে না প্রত্যাশিত বেতন, হতাশ তরুণ প্রজন্ম

উচ্চশিক্ষার খরচ বাড়লেও কর্মসংস্থানে মিলছে না প্রত্যাশিত বেতন, হতাশ তরুণ প্রজন্ম

একজন শিক্ষার্থীকে উচ্চশিক্ষা সম্পন্ন করতে পরিবারকে ব্যয় করতে হচ্ছে লাখ লাখ টাকা। কিন্তু পড়াশোনা শেষে কর্মজীবনে প্রবেশের সময় অনেক ক্ষেত্রেই সেই শিক্ষার্থীর শুরু হচ্ছে মাত্র ১০ থেকে ১৫ হাজার টাকা বেতনের চাকরি দিয়ে। ফলে উচ্চশিক্ষার ব্যয়, চাকরির বাজারে প্রতিযোগিতা এবং প্রত্যাশিত আয়ের মধ্যে তৈরি হচ্ছে বড় ধরনের বৈষম্য। এ পরিস্থিতিতে শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের মধ্যে বাড়ছে হতাশা ও উদ্বেগ।

 

দেশে বিশ্ববিদ্যালয় পর্যায়ে পড়াশোনার ব্যয় দিন দিন বাড়ছে। সরকারি প্রতিষ্ঠানে তুলনামূলক কম খরচ হলেও থাকা-খাওয়া, যাতায়াত, বই-খাতা ও অন্যান্য শিক্ষা-সংক্রান্ত ব্যয় মিলিয়ে একজন শিক্ষার্থীর কয়েক বছরেই উল্লেখযোগ্য অর্থ ব্যয় হয়। অন্যদিকে বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ে স্নাতক ডিগ্রি অর্জনে অনেক পরিবারকে কয়েক লাখ টাকা পর্যন্ত ব্যয় করতে হচ্ছে। শিক্ষাজীবন শেষে চাকরির বাজারে প্রবেশ করে সেই বিনিয়োগের তুলনায় খুব কম বেতন পাওয়ায় তৈরি হচ্ছে হতাশা।

 

চাকরিপ্রত্যাশীদের অভিযোগ, অনেক প্রতিষ্ঠানে নিয়োগের ক্ষেত্রে অভিজ্ঞতা চাওয়া হলেও নতুন গ্র্যাজুয়েটদের জন্য বেতন নির্ধারণ করা হচ্ছে অত্যন্ত কম। বিশেষ করে বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের এন্ট্রি-লেভেল পদগুলোতে ১২ থেকে ২০ হাজার টাকা বেতন এখনো অনেক ক্ষেত্রে প্রচলিত। অথচ একজন শিক্ষার্থীকে বিশ্ববিদ্যালয় পর্যায়ের শিক্ষা শেষ করতে যে অর্থ ও সময় ব্যয় করতে হয়, তার সঙ্গে এই বেতন সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়।

শুধু বেতন নয়, চাকরির নিশ্চয়তা নিয়েও রয়েছে নানা প্রশ্ন। অনেক তরুণকে অস্থায়ী, চুক্তিভিত্তিক কিংবা অনানুষ্ঠানিক কাজে যুক্ত হতে হচ্ছে। কর্মঘণ্টা দীর্ঘ হলেও বেতন ও সুযোগ-সুবিধা সীমিত। ফলে উচ্চশিক্ষিত তরুণদের একটি অংশ বাধ্য হয়ে পড়াশোনার সঙ্গে সামঞ্জস্যহীন পেশায় যুক্ত হচ্ছেন।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, শুধু বিশ্ববিদ্যালয়ের ডিগ্রি অর্জন করলেই বর্তমান চাকরির বাজারে কাঙ্ক্ষিত কর্মসংস্থান নিশ্চিত হচ্ছে না। নিয়োগদাতারা এখন একাডেমিক ফলাফলের পাশাপাশি যোগাযোগ দক্ষতা, ইংরেজি ভাষাজ্ঞান, তথ্যপ্রযুক্তি, সমস্যা সমাধান ও বাস্তব কাজের অভিজ্ঞতাকে গুরুত্ব দিচ্ছেন। ফলে শিক্ষার্থীদের একাডেমিক শিক্ষার পাশাপাশি কর্মমুখী দক্ষতা অর্জনের ওপর জোর দেওয়া প্রয়োজন।

 

অর্থনীতিবিদদের মতে, উচ্চশিক্ষিত জনগোষ্ঠীর জন্য পর্যাপ্ত মানসম্মত কর্মসংস্থান তৈরি না হলে শিক্ষিত বেকারত্ব ও কম বেতনের চাকরির প্রবণতা আরও বাড়তে পারে। এর প্রভাব পড়বে পরিবারগুলোর ওপরও। দীর্ঘদিন ধরে সন্তানের শিক্ষায় বিনিয়োগ করা পরিবার যখন প্রত্যাশিত আয় দেখতে পায় না, তখন সামাজিক ও অর্থনৈতিক চাপ তৈরি হয়।

 

চাকরিপ্রত্যাশী তরুণদের দাবি, শুধু নতুন নতুন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও ডিগ্রির সংখ্যা বাড়ালেই হবে না; শিক্ষার সঙ্গে শিল্প ও শ্রমবাজারের বাস্তব চাহিদার সমন্বয় করতে হবে। একই সঙ্গে নতুন উদ্যোক্তা তৈরি, দক্ষতা উন্নয়ন, শিল্পখাতে বিনিয়োগ এবং তরুণদের জন্য মানসম্মত কর্মসংস্থানের সুযোগ বাড়াতে হবে।

 

লাখ টাকা ব্যয়ে অর্জিত একটি ডিগ্রি যদি শেষ পর্যন্ত ১৫ হাজার টাকার চাকরিতেই আটকে যায়, তাহলে প্রশ্ন উঠবেই—শিক্ষার বিনিয়োগের সঙ্গে কর্মজীবনের প্রত্যাশিত প্রতিফলন কোথায়? তরুণ প্রজন্মের ভবিষ্যৎ নিশ্চিত করতে শিক্ষা ও কর্মসংস্থানের মধ্যে এই বৈষম্য দূর করাই এখন সময়ের দাবি।

নামাজের সময়সূচি
  • ফজর
  • যোহর
  • আছর
  • মাগরিব
  • এশা
  • সূর্যোদয়
  • ৪:০৭
  • ১২:০১
  • ৪:৩৩
  • ৬:৩২
  • ৭:৫০
  • ৫:২৬