সিলেট জেলার দক্ষিণ সুরমা উপজেলার হযরত শাহ তৈয়ব ছয়লানী (রহঃ) ওয়াকফ কমিটি কেন অবৈধ ঘোষনা করা হইবে না মর্মে জারী করেছেন হাইকোর্টে রুল।
খাদিম পরিবারের সদস্য মোতাওয়াল্লী শাহ্ আব্দুল মান্নান মহামান্য সুপ্রিম কোর্টের হাইকোর্ট বিভাগের রীট পিটিশন দাখিল করেন ( নাম্বার-১০৭৬৭/২০২৬ ইং) ।
পিটিশনটি গত ৮ আগস্ট শুনানী শেষে গত ২৯ জুলাই এমপি আব্দুল মালেক সহ কমিটি কেন বাতিল ও অবৈধ ঘোষনা করা হইবে না এই মর্মে ০৪ (চার) সপ্তাহের রুল জারি করেন।
রীট পিটিশন সূত্রে জানা যায়, হযরত শাহ তৈয়ব ছয়লানী (রহঃ) ওয়াকফ এস্টেট এর খাদিমগন সরকার বাহাদুর নালিশা ২৫০৮ নং তালুকের ভূমির বিষয়ে কর ধার্য্যের দাবী আনয়নের দরখাস্থ নকি আলী শাহদের (বাদী পক্ষের ক্রমিক পূর্ববতীদের) পক্ষে সরকারের বিরুদ্ধে ১২৪৮ বাংলার সালের ৮ই ভাদ্র কর ধার্য্যের দাবী খারিজ হয়। মুগল শাসনামলের অত্র অঞ্চলের শাসনকর্তা নবাব আবুল হোসেন হযরত শাহ তৈয়ব ছয়লানী (রঃ) মাজার ও তদসংলগ্ন গোরস্থান মসজিদ ঈদগাহ ও বাজারের সম্পত্তি নিস্কর লাখেরাজ ঘোষণা করিয়া মাজারের চেরাগদান ও প্রকৃত খাদিমগণের ভরণ পোষণের উদ্দেশ্যে ১৭ই জমাদিউ আওয়াল ১৯ এ জুনুছ একটি ফার্সি সনদের মাধ্যমে রক্ষণাবেক্ষণকারী হিসাবে তৎকালীন খাদিম শাহ আকিল মোহাম্মদ ও তদীয় ভ্রাতা শাহ ফকির মোহাম্মদ এর নাম উল্লেখ ক্রমে একখন্ড ওয়াকফে আওলাদ দলিল সম্পাদন করেন।
উক্ত দানপত্র সনদটি রচিত হয় ফারসী ভাষায়। দানকৃত উক্ত সম্পত্তিতে হযরত শাহ তৈয়ব ছয়লানী (রঃ) এর পবিত্র সমাধিক কেন্দ্র করিয়া মূলত: নালিশা ওয়াকৃফ এস্টেটে এর সৃষ্টি।
উল্লেখ্য যে, মাজার কাম্পক্টের লগ্ন দক্ষিণে আখিল মোহাম্মদের মাজার শরীফ বিদ্যমান।
বর্ণিত ভূমি দরগাহ মসজিদ ঈদগাহ বাড়ী, চারা, বরন্ডী, পুকুর, ছনখলা, সাইল, টিলা, কবরস্থান ইত্যাদি রকমের। উক্ত ভূমি একটি ওয়াকফ সম্পত্তির আওতাভুক্ত।
উহা ১২৭৩৫ নং ইসি ভুক্ত হইয়া ওয়াক্ত সম্পত্তি হিসাবে হযরত শাহ তৈয়ব ছয়লানী (রঃ) মাজার ওয়াক্ত এষ্টেট সিলাম নামে পরিচিত। খাদিম পরিবারের সদস্য তৎকালীন মোতওয়াল্লী আইয়ুব শাহদের মোট ২০ জন এবং ২ জন মোকাবিলা বিবাদী হিসেবে মোট ২২ জন বাদী হইয়া তরিকত উল্ল্যাসহ বিবাদী করিয়া তাহার বিরুদ্ধে উক্ত তরিকত উল্লা মোতাওয়াল্লী হিসাবে ওয়াকফ সম্পত্তির দাবী করিলে তৎকালীন ১ম মুন্সিফ আদালত সিলেট বরাবরে স্বত্ব মোকদ্দমা নং-২৪৫/১৯৫৩ ইংরেজী দায়ের করিলে বিচারান্তে আইয়ুব শাহ গং, নালিশা বিষয়ে বর্ণিত দরগাহ শরীফের খাদেমের বংশধর মর্মে সাব্যস্থ হয় এবং আয়ুব শাহ নালিশা ওয়াক্ফ সম্পত্তির মোতাওয়াল্লী সাব্যস্থ হন এবং আয়ূব শাহ এর পূর্ববর্তী আকিল মোহাম্মাদ খাদেমগণের বংশ তালিকা সাব্যস্ত হয়। আরও সাব্যস্থ হয় যে, উল্লিখিত মামলার ১নং বিবাদী তরিকত উল্ল্যা ওয়াকফ সম্পত্তির মোতাওয়াল্লী হিসাবে Enrolment বেআইনী ও অকার্যকর গণ্য হয়। তাহা ছাড়া ওই মামলায় বিগত ১৯৬৪ সালের ১৩ জুলাইয়ের রায়ে ১নং বিবাদী তরিকত উল্ল্যা প্রকৃত খাদিমের ও মোতাওয়াল্লীর বংশধর নন মর্মে সাব্যস্ত হয়ে তরিকত উল্লা ৮৪ টাকা ৬২ পয়সা খরচ বাদীগণকে অর্থাৎ খাদেমগণকে আদায় দেন।
উল্লিখিত স্বত্ব মোকদ্দমা ২৪৫/১৯৫৩ ইংরেজীর রায় ও ডিক্রীর অসম্মতিতে তরিকত উল্ল্যার ওয়ারিশগণ জিতুর রহমান গং স্বত আপীল ৩৫৫/১৯৬৪ ইংরেজী দায়ের করিলে তাহা শুনানীর জন্য স্থানান্তরিত হইয়া তৎকালীন সাব জজ ১ম আদালতে গত ১৯৬৮ সালের ২৪ ফেব্রুয়ারি নালিশা তপশীল বর্ণিত ভূমি প্রাইভেট ওয়াক্ত হিসাবে সিদ্ধান্ত প্রদানক্রমে শুনানীঅন্তে আপীল মামলা ডিসমিস হয় এবং মূল মোকদ্দমা স্বত্ব ২৪৫/১৯৫৩ ইংরেজীতে প্রদত্ত রায় ডিক্রী বহাল থাকে।
অতঃপর প্রজাস্বত্ব আইন ১৯৫০ ইংরেজীর ১৪৭ ধারা মতে মিস কেইছ ১০৫/১৯৬৮ ইংরেজী আয়ুব শাহসহ হযরত শাহ তৈয়ব ছয়লানী ওয়াক্ফ এস্টেটে থাকে ডেপুটি কমিশনার পূর্ব পাকিস্তান প্রদেশ কতৃপক্ষের বিরুদ্ধে দায়ের করিলে গত ১৯৭০ সালের ২ ফেব্রুয়ারি এক আদেশে বিজ্ঞ সাব জজ ২য় আদালত, সিলেট উল্লিখিত মিস কেইছ ১০৫/১৯৬৮ ইং আদেশ মতে পূর্বোক্ত আইয়ুব শাহ সহ মোট ৫৩ জন বেনিফিশিয়ারী/উপকার ভোগী হিসাবে নালিশা ওয়াক্ফ সম্পত্তির রেকর্ড হওয়ার আদেশ হয়।
উপরোক্ত মতে মিস কেইছ ১০৫/১৯৬৮ ইং আদেশ মতে আইয়ুব শাহ সহ মোট ৫৩ জন বেনিফিশিয়ারীগণ নালিশা তপশীল বর্ণিত ওয়াকফ সম্পত্তির বেনিফিশিয়ারী/উপকার ভোগী হিসাবে এর সৃষ্টি হয়।
খাদেম পরিবারের সদস্য আয়ূব শাহ মোতওয়াল্লীর দায়িত্ব পালন করিয়া আসিতে থাকাবস্থায় আইয়ুব শাহ মৃত্যু বরন করিলে পরবর্তীতে মোতাওয়াল্লী নিয়োজিত হন এ্যডভোকেট ছৈদুর রহমান শাহ।
উক্ত মোতাওয়াল্লী দায়িত্ব পালন অবস্থায় মৃত্যুবরন করিলে মোতাওয়াল্লী নিয়োজিত হন শাহ আব্দুল মান্নান। শাহ্ আব্দুল মান্নান তার উপর এস্টেট এর অর্পিত দায়িত্ব সুষ্ঠভাবে পরিচালনা কালে গত ২৯ জুলাই মাত্র এক দিনের আবেদনে ওয়াকফ প্রশাসক ঢাকাকে প্রভাবিত করে ওই তারিখে একটি ওয়াকফ কমিটি গঠন করে নিয়ে আসেন।
নজিরবিহীন ভাবে উক্ত কমিটির সভাপতি হন বর্তমান সংসদ সদস্য আব্দুল মালেক নিজেই এবং তার বলয়ের জনৈক ফজলু মিয়া সহ অন্যান্যরা কমিটির মোতাওয়াল্লি ও সদস্য মনোনিত হন যাদের কেউই হযরত শাহ্ তৈয়ব ছয়লানী (রহঃ) খাদিম পরিবারের সদস্য নন।
উক্ত মনোনিত কমিটির বিরুদ্ধে খাদিম পরিবারের সদস্য মোতাওয়াল্লী শাহ্ আব্দুল মান্নান মহামান্য সুপ্রিম কোর্টের হাইকোর্ট বিভাগে একটি রীট পিটিশন দাখিল করেন (নাম্বার-১০৭৬৭/২০২৬ ইং)।
গত ৮ আগস্ট শুনানী রীট আবেদনটি শুনানি শেষে এমপি আব্দুল মালেকের কমিটি কেন বাতিল ও অবৈধ ঘোষনা করা হইবে না এই মর্মে ০৪ (চার) সপ্তাহের রুল জারি করেন আদালত।
আমারসিলেট/হা



