সুনামগঞ্জের তাহিরপুরে শিশুদের ফুটবল খেলাকে কেন্দ্র করে বিরোধের জেরে আল আমিন (৩৮) নামে এক যুবক নিহতের ঘটনায় জড়িতদের দ্রুত গ্রেপ্তার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবিতে মানববন্ধন ও বিক্ষোভ মিছিল করেছেন নিহতের পরিবারের সদস্য, স্বজন ও এলাকাবাসী।
বুধবার (১৯ আগস্ট) বিকেলে উপজেলার বালিয়াঘাট নতুন বাজারে এ মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়। মানববন্ধন শেষে হত্যাকাণ্ডে জড়িতদের বিচারের দাবিতে বিক্ষোভ মিছিল বের করেন স্থানীয়রা। এ সময় তারা হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত সবাইকে দ্রুত আইনের আওতায় এনে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানান।
নিহত আল আমিন উপজেলার শ্রীপুর উত্তর ইউনিয়নের বালিয়াঘাট গ্রামের মৃত জালাল উদ্দিনের ছেলে।
স্থানীয় ও নিহতের স্বজনদের সূত্রে জানা যায়, ঘটনার আগের দিন শুক্রবার বিকেলে শিশুদের ফুটবল খেলার সময় একটি শিশুর পায়ে জোরে বল লাগাকে কেন্দ্র করে দুই শিশুর মধ্যে বিরোধ সৃষ্টি হয়। একপর্যায়ে এক শিশু অপর শিশুকে চড় দেয়। পরে বিষয়টি তার বাবা আব্দুল লতিফকে জানানো হলে দুই পক্ষের মধ্যে উত্তেজনা দেখা দেয়।
বিষয়টি মীমাংসার জন্য শুক্রবার রাতে নিহতের ছোট ভাই জুয়েল মিয়া বালিয়াঘাট বাজারে আব্দুল লতিফের কাছে গেলে সেখানে তাদের মারধর করা হয় বলে অভিযোগ করেন নিহতের স্বজনরা। এরই জের ধরে পরদিন শনিবার (১৫ আগস্ট) দুপুর ১২টার দিকে ১৫-২০ জন লোক দেশীয় অস্ত্র নিয়ে আল আমিনদের বাড়ির সামনে গিয়ে গালিগালাজ ও হুমকি দিতে থাকে।
একপর্যায়ে আল আমিন এর প্রতিবাদ করলে হামলাকারীরা বাড়িতে ঢুকে তার ওপর অতর্কিত হামলা চালায়। এ সময় রামদা দিয়ে তার মাথায় আঘাত করা হয়। গুরুতর আহত অবস্থায় তাকে তাহিরপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।
মানববন্ধনে হত্যাকান্ডে অভিযুক্ত আব্দুর নুর, আব্দুল লতিফ, আব্দুল কুদ্দুস, সুলতান, মহিবুর, মোফাজ্জল, আতাবুর, জাকিরসহ জড়িতদের শাস্তির দাবি জানিয়ে বক্তব্য দেন নিহতের স্বজন ও স্থানীয়রা। তারা বলেন, একটি তুচ্ছ ঘটনাকে কেন্দ্র করে একজন মানুষকে নির্মমভাবে হত্যা করা হয়েছে। হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে জড়িতদের দ্রুত গ্রেপ্তার করে আইনের আওতায় না আনলে তারা আরও কঠোর কর্মসূচি দেওয়ার হুঁশিয়ারি দেন। তারা প্রশাসনের কাছে দ্রুত তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত দোষীদের শনাক্ত করে গ্রেপ্তার এবং দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করার দাবি জানান।



